Monday, February 19, 2018

ইন্টারনেটজুড়ে কিছু রহস্যময় ভয়ঙ্কর ওয়েবসাইট!

রহস্যময় ওয়েবসাইট

পৃথিবী সৃষ্টি থেকে আজ, পুরো সময়টাই একটাই রহস্য। কিভাবে সৃষ্টি হলো এ পৃথিবী কিভাবে জীবনের আবির্ভাব ঘটলো এখানে তারও কোন সঠিক উত্তর নেই। এই পৃথিবীটা যতটা অদ্ভুত, এখানকার মানুষের কর্মকান্ডগুলো তারচেয়ে বেশি অদ্ভুত ! নানান সময় ঘটে যাওয়া নানান ঘটনা দেখে যে কারো এমনটাই মনে হবে। প্রায়ই নানারকম অদ্ভুত‍ু ঘটনাগুলো নিয়ে চলে আলোচনা সমালোচনা। আজকের এই পোস্টে আমরা কথা বলবো এমন কিছু ওয়েবসাইট সম্পর্কে, ইনারনেট জগৎএর যে স্থানগুলোতে প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে নানারকম অদ্ভুত কার্যকলাপ !

পৃথিবীর কয়েকটি অদ্ভুত ওয়েবসাইট


ক্রিপি পাস্তা : creepy pasta মূলত একটি ভৌতিক ওয়েবসাইট। সাধারণত সাইকো কিলার বা এধরনের মানুষরাই এই সাইটে তাদের নৃশংস খুনের ঘটনার পুংখানুপংখ বর্নণা করে থাকে। ওয়েবসাইটটিতে প্রতি মাসে প্রায় ৬ লক্ষ ১০ হাজারের মত মানুষ ভিজিট করে। কথিত আছে এ সাইটের মাধ্যমে সাইকো কিলিং এ উৎসাহি ব্রেন ওয়াশ করা হয়! 

হায়ার এ কিলার ডটকম : মানুষ খুন করার জন্য ভাড়াটে খুনির প্রয়োজন? চলে যান Hire a killer ওয়েবসাইটে। এখানে খুনি ভাড়া দেয়া হয়। সাধারন নাগরিক বা পোষা কুকুর হত্যার রেট হচ্ছে ৮০০০ ডলার। যদি একই অর্ডারে দুইজনকে খুন করতে হয় তবে ১২ হাজার ডলারেই কাজ হয়ে যাবে অনেকটা বাই ওয়ান গেট ওয়ান ফ্রি ! সেলিব্রিটি বা কোন ভিআইপিদের হত্যা করতে রেট শুরু হয়েছে ২৪৯৯৯.৫০ ডলার থেকে। পছন্দ মত কিলার পার্সন ভাড়া করতে এই ওয়েব সাইটে রয়েছে কিছু কিলার পার্সন প্রোফাইল, যা থেকে আপ্নি আপ্নার ভাড়াটে খুনির যোগ্যতা জানতে পারবেন। এমন ওয়েবসাইটও যে থাকতে পারে, তা এখনো অনেকেই ধারণার বাইরে। আর এই ধরনের সাইটের পরিচালকরা থেকে যায় অন্তরালে।

মানুষের মাংস রান্নার রেসিপি : কেনিবল বা মানবখেকোদের একটি গোষ্ঠি পৃথিবীতে রয়েছে। জাতিগতভাবে এরা অসভ্য ও বর্বর। কিন্তু শিক্ষিত ও সভ্যদের মধ্যেও মানুষখেকো রয়েছে। শুনে অবাক হয়েছেন নিশ্চয়ই? The Awl ওয়েবসাইট ভিজিট করে একনজর দেখে আসুন। মানুষের মাংস রান্নার রেসিপি পেয়ে যাবেন। আর মানুষখেকোদের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে চলে যান Cannibalism ওয়েবসাইটে !

প্লেন ক্রাশ ইনফো : অদ্ভুত এই ওয়েবসাইট Plane Crush Info থেকে আপনি পৃথিবীর যেকোনো স্থানের বিমান দুর্ঘটনার তথ্য জানতে পারবেন। কেবলমাত্র বিমান দুর্ঘটনা নিয়ে এখানে লাইভ ওয়েবকাস্ট করা হয়। সাইটটিতে ঢুকলে পুর্বের বহু বিমান দুর্ঘটনার ইতিহাস ও বর্তমান ঘটনা পাওয়া যাবে। ২০১৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন ইউনিক ৬৫ হাজার ভিজিটর এই সাইটে ভিজিট করে থাকে।

নৃশংস ওয়েবসাইট : রক্তাত্ব মানুষ এবং ভয়ানক বিভৎস দৃশ্য  দেখতে চান? গুগলে BestGore লিখে সার্চ করে চলে যান তাদের ওয়েবসাইটে। নিষেধাঞ্জ‍া থাকায় লিংকটি পাঠকদের সাথে শেয়ার করতে পারছিনা। এই সাইটের সদস্যরা মানুষের শরীরের বিভিন্ন অংশ কেটে ছিড়ে, হাতুড়ির আঘাতে বিচ্ছিন্ন করে আপ্নাকে দেখাবে। এখানে সব নৃশংস ছবি এবং ভিডিও পাবেন, যা সাইটের ভিজিটরদের জন্য তারা প্রস্তুত করে রাখে। দুর্বল চিত্তের কেউ এই সাইটে প্রবেশ করবেন না। এখানে পাবেন বিভিন্ন ক্যাটাগরি অনুযায়ী প্রস্তুত করা নৃশংসতা। প্রতি মাসে ৭ লক্ষ ভিজিটর এই সাইটটিতে ভিজিট করে থাকে।


মানুষের চামড়ার তৈরী পণ্য : মানুষের চামড়া দিয়ে তৈরী পণ্য বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান হচ্ছে Human Leather ! যদিও এদের ওয়েবসাইটটি এই মুহুর্তে বন্ধ রয়েছে। কারণ আইনগতভাবে তারা দোষী সাব্যাস্ত হয়েছে মানুষের চামড়া দিয়ে পণ্য তৈরী করে বিক্রয়ের জন্য। তবে হ্যা‍ঁ, এরপরেও তারা তাদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে Bespoke Pricing নামে আরেকটি সাইটে। তাদের কথা হচ্ছে, এটা অবৈধ বিজনেস নয়।

আত্মহত্যার টিপস: আত্মহত্যা প্রতিরোধে আমরা প্রতিনিয়ত ফেসবুকে লেখালেখি করি। অথচ এমন একটা সাইট রয়েছে যেখানে কিনা আত্মহত্যা করার হাজারো রকমের কৌশল শেয়ার করা হয়। Stout’s Guide To Suicide পোর্টালে গিয়ে আত্মহত্যার প্রচুর কৌশল জানতে পারবেন। তবে মজার বিষয় হচ্ছে, সাইটের পরিচালকের মতে, তারা নাকি মানুষকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত করতে নয় বরং আত্মহত্যার প্করতি ভয়ভীতি বাড়িয়ে আত্মহত্যা কমাতেই এই সাইটটি পরিচালন‍া করেন।

সার্ভিলেন্স ক্যামেরা সাইট : এমনও ওয়েবসাইট রয়েছে যারা নিজেদের গাটের টাকা খরচ করে বিশ্বের অনেক স্থানে ক্যামেরা বসিয়ে রেখেছে। আর আপনি চাইলেই সেসব স্থানে কি হচ্ছে তা লাইভ দেখতে পারবেন। Insecam সাইটে ঢুকে ক্যাটাগরি থেকে আপ্নার পছন্দের স্থানটি সিলেক্ট করে দেখা শুরু করে দিন।

সতর্কতাঃ
উপরের পোস্টে এমন সব ওয়েবসাইট নিয়ে কথা বলা হয়েছে যা দুর্বল চিত্তের মানুষদের জন্য নয়। তাই আমরা ঐ সাইটগুলোর লিংক প্রকাশ করিনি। যদি কারো দেখার ইচ্ছে হয় তবে ইন্টারনেটে সার্চ দিয়ে সম্পূর্ণ নিজ দায়িত্বে দেখে নিন। তবে হ্যা, নিরাপত্তাজনীত কারনে সাইটগুলোতে প্রবেশে বিশেষ নিষেধাঞ্জা রয়েছে।


নিয়মিত আপডেট পেতে আরো জানি ফেসবুক গ্রুপে যোগ দিন । 

Friday, January 26, 2018

VPN কি? কিভাবে কাজ করে?

ইন্টারনেট ব্যাহার করেন তারা সবাই কমবেশী VPN / ভিপিএন নামক শব্দটা শুনেছেন।
অনেকে হয়তোবা প্রথমবার VPN শব্দটা শুনে থ হয়ে দাড়িয়ে গিয়েছিলো।
তাদের মনে সবার প্রথম যে চিন্তাটা আসে সেটা হচ্ছে, VPN/ভিপিএন কি? / কি এই ভিপিএন? এটা দিয়ে কি হয়? কি করে এটা দিয়ে? এমন অদ্ভুত নাম কেন?!
ভিপিএন কি? 

প্রশ্নগুলা হাস্যকর হলেও সত্যিই এগুলাই সর্বপ্রথম মনে আসে।
তো চলুন আজ আপনাদের এই অদ্ভুত শব্দ VPN সম্পর্কে কিছুটা ধারোনা দিই। :-)

VPN/ ভিপিএন কি?
VPN শব্দটা মাত্র ৩ টি শব্দের সংমিশ্রণ হলেও এর একটি পূর্ণাঙ্গ রুপ আছে। 
V= Virtual, P= Private, N= Network, অর্থাৎ VPN মানে হচ্ছে Virtual Private Network। 
সোজা বংলায় যদি বলি তবে VPN হচ্ছে এমন একটা ব্যাবস্থা যার মাধ্যমে আপনি সম্পূর্ণ ইন্টারনেট জগৎ নিজের পরিচয় আড়াল করে চলতে পারবেন। 

একটু বুঝিয়ে বলি, ধরেন আপনি আপনার পাশের বাসার কোন একটা সুন্দরী মেয়ের সাথে দেখা করার জন্য তার বাসায় যেতে চান। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে আপনি নিজে কোনভাবেই নিজের নাম পরিচয় ব্যাবহার করে তার বাসায় যেতে পারবেননা কারন ঐ বাসার দারোয়ান আপনাকে চিনে ফেলবে।
তখন আপনি একটা বুদ্ধি করে একটা বোরকা পরে মেয়ে সেজে ঐ বাসায় কোন বাধা ছাড়াই চলে গেলেন।

এখন উপরের উদাহরনে বোরকা হচ্ছে VPN কারন এটা আপনার নিজের পরিচয় লুকিয়ে রেখে আপনার কাজে সহায়তা করেছে।

VPN/ ভিপিএনের কাজ কি?
এতক্ষনতো বুঝলেন কি এই জিনিস VPN। এবার কথা হচ্ছে কি করে এটা দিয়ে।
VPN দিয়ে অাপনি অাপনার অাইপি চেন্জ করে অন্য একটা আইপি দিয়ে ইন্টারনেটে দিব্যি ঘুরতে পারবেন। যারফলে কেউ আপনার প্রকৃত পরিচয় বা প্রকৃত তথ্য পাবেনা।
যে সকল ওয়েবসাইটে আপনার প্রবেশে বাধা সেগুলি VPN ব্যাবহার করে সহজেই ঘুরে আসতে পারবেন!
এইযে "হ্যাকার" যারাকিনা সাইবার জগৎ এর নেতা তারাও সবাই নিজেদের আড়াল করার জন্য VPN ব্যাবহার করে!

VPN কেমন?

অনেককিছু শুনলেন VPN সম্পর্কে কিন্তু কথা হচ্ছে এই জিনিসটা দেখতে আসলে কেমন?
এটা মূলত একটে সফটওয়ার যা আপনি মোবাইল বা কম্পিউটারে ব্যাবহার করতে পারবেন। সফটওয়ারটির মাধ্যমে আপনি বাংলাদেশে বসে আমেরিকা সিলেক্ট করে গুগলকে বোকা বানাতে পারবেন!
অর্থাৎ গুগল তথা পুরো ইন্টারনেট জগৎ জানবে আপনি আমেরিকা থেকে নেট চালাচ্ছেনন আসলে কিন্তু আপনি বাংলাদেশে! কি অদ্ভুত তাইনা!

এক এক কম্পানির vpn একএক নামে পরিচিত।

VPN-এর কাজ কি?

১। VPN ব্যবহার করলে আপনার অবস্থান কেউ ট্র্যাক করতে পারবে না। 

২। IP address (Internet Protocol address) হাইড করে রাখে। অর্থাৎ, হ্যাকারদের কবলে পড়ার সম্ভাবনা নাই।

৩। VPN ব্যবহার করার অর্থ হল আপনি ডাটা নিরাপদে আদান প্রদান করতে পারছেন।

৪। আপনার ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী আইপিএস থেকে নেটের ফুল স্পিড পাবেন।

৫। এটি নিরাপদ যোগাযোগ এবং ডাটা encrypt করার একটি পদ্ধতি হিসেবে কাজে লাগে। মানে VPN আপনার মেশিনকে একটি ভার্চুয়াল নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযুক্ত করতে পারে এবং আপনার পাঠানো সব data দ্রুততার সঙ্গে encrypt করে ফেলে অর্থাৎ public domain থেকে লুকিয়ে রাখে এবং এটা আপনার browsing history-র কোনো ট্র্যাক রাখে না। কাজেই আপনি অনলাইনে পুরোপুরি নিরাপদ।

৬। VPN দিয়ে আপনি আইএসপি তে ব্লক করা সাইট ভিজিট করতে পারবেন। যেমন ধরেন, যদি ইউটিউব আমাদের দেশে বন্ধ করে দেয়া হয়, তাহলেও আপনি VPN ব্যবহার করে ইউটিউবে ঢুকতে পারবেন।

আজ এ পর্যন্তই, Arojani.com এর সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ। 
  


নিয়মিত আপডেট পেতে আরো জানি ফেসবুক গ্রুপে যোগ দিন । 

Sunday, December 31, 2017

এরিয়া ৫১ : পৃথিবীর সবচেয়ে গোপন ও রহস্যময় জায়গা!

এরিয়া ৫১ হচ্ছে আমেরিকান সামরিকবাহিনীর একটা বিশেষ গোপন ঘাটি।
একটা সময় ছিলো যখন আমেরিকান সরকার এই এরিয়া ৫১ এর কথা বা এই জায়গার অবস্থান স্বীকার করতো না। কিন্তু প্রযুক্তির বিকাশের সাথে সাথে এখন এরিয়া ৫১ এর অনেককিছুই সাধারন মানুষের জানা।
এরিয়া ৫১ এর নোটিশ


কেন এরিয়া ৫১ এতো গোপন?

এটি একটি বিশাল সামরিক বিমান ঘাটি এর প্রাথমিক উদ্দেশ্য পরীক্ষামূলক বিমান এবং অস্ত্র পদ্ধতি উন্নয়ন এবং পরীক্ষা। তবে এটি যা তা বিমানঘাঁটির মত নয়। এটি সাধারন বিমানঘাঁটি থেকে আলাদা। এরিয়া ৫১ এর ব্লুপ্রিন্টএটি মার্কিন বিমান বাহিনীর একটি বিশাল প্রশিক্ষন (NTTR নেভেদা টেস্ট এন্ড ট্রেনিং রেঞ্জ) কেন্দ্র। অস্থায়ী ভাবে একে বলা হয় নেইলস এয়ার ফোর্স রেঞ্জ (NAFR)। এই ঘাটি পরিচালনা করে নেইলস এয়ার ফোর্স বেসের ৯৯ এয়ার বেস উইং। এর একটি অশং এই বেস থেকে ১৮৬ মাইল (৩০০ কিঃমিঃদূরে মোজাভ মরুভূমিতে অবস্থিত এডওয়ার্ডস বিমান ঘাটিতে অবস্থিত এর নাম এয়ার ফোর্স ফ্লাইট টেস্ট সেন্টার (AFFTC)।
এরিয়া ৫১এই স্থানটি নেলস মিলিটারি অপারেশন এরিয়ার অর্ন্তগত। এই স্থানের চারদিকের আকাশ অন্য সবার জন্য নিষিদ্ধ, এই আকাশসীমা (R-4808N) হিসাবে পরিচিত। পাইলটরা এই এলাকার আকাশকে বলে “দি বক্স” অথবা “দি কনটেইনার”।

এরিয়া ৫১ এর অবস্থান ? 

"এরিয়া ৫১" এক রহস্যে ঘেরা নাম। এটা কোন প্রকৃতির সৃষ্টি রহস্য না বরং মানুষের সৃষ্টি সব থেকে রহস্যজনক স্থান গুলির মধ্যে একটি। (ইংরেজিঃ Area 51) একটি বিশাল (নেলিসের বিমান বাহিনী) সামরিক বাহিনীর অপারেশন ঘাটি, যার আয়তন ২৬,০০০ বর্গকিলোমিটার। এটি পশ্চিমা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেভাডা অঙ্গরাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলে এবং লাস ভেগাস থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার উত্তর পশ্চিম রেকেল গ্রামের কাছে অবস্থিত। এটি ঠিক গ্রুম হ্রদের দক্ষিণ তীরে অবস্থিত।
স্যাটেলাইট থেকে ধারনকৃত এরিয়া ৫১


এর নাম এরিয়া ৫১ হলেও এর অন্য অনেক গুলি নাম আছে যেমনঃ ড্রিম ল্যান্ড (Dream Land), প্যারাডাইস রেঞ্চ (Pradise Ranch), হোম বেস (Home Base), ওয়াটার টাউন স্ট্রিপ (Watertown Strip), গ্রুম লেক (Groom Lake)। এ ছাড়াও কিছুদিন আগে এর আরো একটি নাম দেয়া হয় হোমি এয়ার পোর্ট (Homey Airport)


এরিয়া ৫১ এর নিরাপত্তা ব্যাবস্থা।

এরিয়া ৫১ এর নিরাপত্তা ব্যাবস্থা অনেক শক্তিশালী। এই বেসের আনুমানিক ১৫৫ মাইল উত্তর এবং উত্তর পূর্বকোনে ৯৪০০ ফুট উঁচু “বেলডে” নামক একটি পাহাড়ের চূড়ায় বিশাল একটি রাডার স্থাপনা আছে। কিন্ত এই রাডারটি কি ধরনের তা জানা যায়নি। তবে ধারনা করা হয় এটি আকাশ পথ নজরদারী রাডার ARSR 4 (Air Route Surveillance Radar) এই ধরনের রাডার মার্কিন বিমান বাহিনী ব্যাবহার করে।
এটি শুধু একটি রাডার নয় একসাথে অনেক গুলি রাডারের একটি নেটওর্য়াক ব্যাবস্থা। এই রকম আরো একটি রাডার আছে গ্রুম লেকের উওর দিকে আর একটি পাহাড়ের চুড়ায় মাটি থেকে প্রায় ৪৩০০ ফুট উপরে। এই রাডার গুলি পরিচালনা করার জন্য কোন মানুষের প্রয়োজন নেই এই রাডার সাইটের সব স্বয়ংক্রিয়।
এরিয়া ৫১ এ ঢোকার জন্য কোন পিচের রাস্তা নেই। শুধু একটি মাটির রাস্তা আছে যা নেভেদার হাইওয়ে ৩৭৫ সিস্টেমের সাথে সংযোগ করা। এই রাস্তাটি প্রায় ৩৫ মাইল লম্বা, এর মধ্যে পশ্চিম এবং উওর পশ্চিম দিকে ১০ মাইল পড়ে এই রাস্তার এক মাথা বন্দ।
এরিয়া ৫১ এর মূল গেটএরিয়া ৫১ এর মূল গেট ঘাটি থেকে প্রায় ২৫ মাইল দূরে অবস্থিত। এই গেটের কাছে বিশাল এক সাইন বোর্ডে বড় করে সতর্কবাণী সাইন জানায় যে প্রবেশ নিষিদ্ধ এবং "ফোটোগ্রাফি নিষিদ্ধ" এলাকা।
জেনে নেই এই এরিয়া ৫১ এর নিরাপত্তা ব্যাবস্থার একটু ঝলক। এত সুরক্ষিত স্থান, নিরাপত্তাও সর্বাধুনিক। এর এলাকার চারিপাশে না আছে কোন দেয়াল বা কোন বেড়া। শুধু আছে কয়েকটি সাইনবোর্ড। কিন্তু সবার অলক্ষ্যে কাজ করে অনেক প্রযুক্তি। যেমনঃ Mobile CC Camera, Motion detector (নড়াচড়া পর্যবেক্ষক), Laser detector (লেজার পর্যবেক্ষক), Sound detector (শব্দ পর্যবেক্ষক) আর সব থেকে আধুনিক Smell detector (ঘ্রান পর্যবেক্ষক) আর এছাড়া আকাশ পথ দেখার জন্য রয়েছে রাডার। এই ঘ্রান পর্যবেক্ষনের মাধ্যমে আসে পাশে থাকা যে কোন মানুষ বা বন্য প্রানীর অস্তিত্ব তারা পর্যবেক্ষন করতে পারে। এখন মনে করেন, আপনি কোন ভাবে ঢুকে গেলেন. আর আপনার অস্তিত্ব ধরা পরবে এই সেন্সর গুলিতে তা নিশ্চিত থাকেন। আর ধরা পড়লেই চলে আসবে সুরক্ষায় নিয়জিত বাহিনী। সুরক্ষায় যারা থাকে তারা আবার পদাতিক বাহিনী (Army) বা বিমান বাহিনীর কোন পোষাক পরা থাকবে না। এরা শুধু মাত্র এরিয়া ৫১ এর সুরক্ষার জন্য নিয়জিত। তবে এদের আচার আচারন সামরিক বাহিনীর লোকদের মতই।
সেন্সর এবং সিসি ক্যামেরা
এখানে অনেক উপরের নীতি নির্ধারকদের অনুমতি বাদে প্রবেশ সম্পুর্ন নিষেধ আর ঢুকলেই তার মৃত্যু অনেকটাই অবধারিত। কেননা ক'দিন আগেও যে স্থানের কোন অস্তিত্ব ছিল না কাগজ কলমে সেখানে সাধারন আইন কানুন মানা হয় না। তাই আপনার কোন বিচার হবে না কোন আদালতে। মাঠেই আপনার বিচার, মাঠেই আপনার শাস্তি। মানবাধিকার এখানে কোন মূল্য রাখে না। এবার ধরুন আপনি কোন মতে এই সব সুরক্ষা ব্যাবস্থাকে কাটিয়ে ভিতরে ঢুকলেন। এবার আরো বড় সমস্যা। মনে রাখবেন এটি মরুভূমির মধ্যে অবস্থিত। আর আপনাকে পারি দিতে হবে প্রচন্ড গরমে শুকিয়ে যাওয়া গ্রুম লেক। এখানে যদি আপনি অবস্থান করতে যান তাহলে দিনে আপনাকে ৪ গ্যালন পানি পান করতে হবে। তা না হলে আপনি ৪ দিনের বেশী টিকে থাকতে পারবেন না। আর রাতের বেলা সম্মুক্ষিন হবেন শীতের। অর্থাৎ এত কিছু নিয়ে কোন ভাবেই আপনি সুরক্ষা দেওয়ার ভেদ করতে পারবেন না। আর ধরুন আপনি একটা গাড়ি নিয়ে কোন এক ভাগ্যের জোরে পার করলেন সব সুরক্ষা ব্যাবস্থা। এখন আপনাকে পারি দিতে হবে এই গ্রুম লেক। গাড়ি চালাচ্ছেন মনের সুখে। ভাবছেন একটানে চলে যাবেন এরিয়া ৫১ এর প্রানকেন্দ্রে। কিন্তু আপনি যাচ্ছেন শুকিয়ে যাওয়া এক লেকের উপর দিয়ে। আপনার পিছে উড়ছে বালি। আর অনেক দূর থেকেই বোঝা যাবে আপনার অবস্থান। এখন বুঝলেন প্রাকৃতিক ভাবেও এই এরিয়া ৫১ কেমন সুরক্ষিত।


এরিয়া ৫১ সর্ম্পকে মার্কিন সরকার ১৪ জুলাই ২০০৩ পর্যন্ত কোন কিছু স্বীকার করেনি। তবে পরবর্তীতে নানান কারনে এবং এরিয়া ৫১ এর বিভিন্ন ছবি ফাঁস হয়ে যাওয়ায় আমেরিকান সরকার এই স্থানটির কথা স্বীকার করে নেয়। তবে সরকারের মতে এখানে শুধুই বিমান তৈরি এবং এর পরিক্ষামূলক উড্ডয়ন করা হয়। এর বাহিরে আর কি হয় বা এর মানচিত্র বা কেনই এতো গোপন তা জানানো হয়নি। 


এরিয়া ৫১ এর ছবি / মানচিত্র ফাঁসের কিছু কাহিনী। 

মার্কিন সরকারের অবাধ তথ্য অধিকারের সুযোগ নিয়ে ১৯৬০ সালে মার্কিন গোয়েন্দা উপগ্রহ “করোনা” নার সাহায্যে এরিয়া ৫১ এর ছবি তোলে এই ছবিতে ৫১ এর ভিতরকার সবকিছু প্রকাশ হয়ে পড়ে। সাথে সাথে মার্কিন সরকার সেই ছবি মুছে ফেলে।

একই ভাবে মার্কিন “টেরা” উপগ্রহ ৫১ এর অনুরুপ ছবি তুলে তা প্রকাশ করে, মার্কিন সরকার সেই ছবি ২০০৪ সালে মুছে ফেলে। সেই সময় এই ছবি মাইক্রোসফট ও টেরা স্যাটেলাইটের সার্ভারেও ছিল সেখান থেকেও এই ছবি মুছে ফেলা হয়। পরবর্তীতে “নাসার” ল্যান্ডস্যাট ৭ উপগ্রহের সাহায্যে ৫১ এর ছবি তোলা হয়, বর্তমানে এই ছবিটিই সরকারি ভাবে প্রকাশিত এরিয়া ৫১ এর ছবি।

কিন্তু এত কিছু চেস্টা করেও শেষ রক্ষা হয়নি। রাশিয়ার গোয়েন্দা উপগ্রহ “ইকনস” ও রাশিয়ার বেসামরিক উপগ্রহ আমেরিকা রাশিয়ার ঠান্ডা যুদ্ধের সময় এই এরিয়া ৫১ এর ভিতরে কি হচ্ছে তা জানার জন্য (রাশিয়ার নিজেদের প্রয়োজনে) এর উচ্চ রেজল্যুশনের ছবি তোলে। এই ছবিতে ৫১ এর ভিতরকার প্রায় সবকিছু প্রকাশ হয়ে পড়ে। বর্তমানে এরিয়া ৫১ এর ভিতরকার ছবি আর গোপন নেই নেটে এর প্রায় সব ছবি পাওয়া যায়।

এরিয়া ৫১ এর ভেতরে কেমন? 

রাশিয়ার গোয়েন্দা উপগ্রহ “ইকনস”  যখন গোপনে এরিয়া ৫১ এর ভেতরের ছবি ফাঁস করে দেয় তখনই জানা যায় এর ভেতরের অবস্থা। 
স্যাটেলাপ এর ছবিতে দেখা যায় যে এরিয়া ৫১ এর ভিতরে সাতটি রানওয়ে আছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় যে রানওয়ে 14R/32L এটি লম্বায় প্রায় 23,300 feet (7,100 m)। অন্য রানওয়ে গুলি পীচের তৈরী এর মধ্য 14L/32R রানওয়ের দৈর্ঘ্য 12,000 feet (3,700 m), রানওয়ে 12/30 এর দৈর্ঘ্য 5,400 feet (1,600 m)।

অন্যন্য চারটি রানওয়ে সল্ট লেকের মধ্যে অবস্থিত। এর মধ্যে 09L/27R ও 09R/27L রানওয়ের দৈর্ঘ্য প্রায় 11,450 feet (3,490 m), আর অন্য দুইটি 03L/21R ও 03R/21L, দৈঘ্য প্রায় 10,000 feet (3,000 m)। এছাড়াও আছে হেলিপ্যাড।

এরিয়া ৫১ এর ঘাঁটিছবিতে আরো দেখা যায় বড় বড় গুদাম ঘর, আবাসিক এলাকা,ফায়ার স্টেশন,বিশাল আকারের পানির ট্যাংকি, বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রন টাওয়ার, খেলাধুলা করার জন্য টেনিস এবং বেসবল কোর্ট। আরো আছে যোগাযোগের জন্য বেশ কয়েকটি স্যাটেলাইট ডিশ।

এরিয়া ৫১ এ রাডার ডিসসাদা রং করা অনেকগুলি সরকারি ট্রাক ও ভ্যান পার্কিং এরিয়ায় রাখা আছে। বেশ কয়েকটি বোয়িং 737 বিমান রানওয়েতে দাড়িয়ে আছে।খুব সম্ভবত এই বিমানে করে কাজ করার জন্য শ্রমিকদের আনা নেয়া করা হয়।

এরিয়া ৫১ এ জ্বালানি তেলের ট্যাংকঅন্য একটি স্থানে কালো রং করা একটি F 16 যুদ্ধ বিমানকে পার্ক করা অবস্থায় দেখা যায়। এই কালো রং করা যুদ্ধ বিমান মার্কিন বিমান বাহিনী সাধারনত রাত্রি কালিন অভিযানে ব্যাবহার করে। কালো রং করা অনেক গুলি হেলিকপ্টারকে পার্ক করা অবস্থায় দেখা যায়।

নিয়ন্ত্রন টাওয়ারএখানে অন্য আর পাঁচটি সাধারন বিমান ঘাটির মতো বিশাল আকারের হ্যাঙ্গার আছে। ধারনা করা হয় এরিয়া ৫১ এর ভিতরে যে সব অত্যাধূনিক বিমান এবং স্যাটেলাইট তৈরী করা হয় সেগুলিকে মানুষের চোখের আড়ালে এবং মরুভূমির তাপ থেকে রক্ষা করার জন্য এই হ্যাঙ্গারগুলিকে ব্যাবহার করা হয়।



কি কাজ হয় এরিয়া ৫১ এর ভেতরে? 


এরিয়া ৫১ এর আশপাশের বাসিন্দাদের অনেকে অনেক রকম কথা বলেছে। তাদের অনেকের দাবী এরিয়া ৫১ এর আকাশে ফ্লাইং সসারের মত মত কিছু উড়তে তারা দেখেছেন। আবার অনেকেই নাকি এমন দ্রুতগতির বিমান উড়তে দেখেছেন যার গতি সাধারণ বিমান বা যুদ্ধবিমান কোনোটার সাথেই মিলে না।


তবে এসব বিতর্ককে আরও ঘনীভূত করেছেন এরিয়া ৫১ এ কর্মরত পদার্থ বিজ্ঞানী বব লেজার। এক টিভি সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন এরিয়া ৫১ এমন কিছু মৌলিক পদার্থ নিয়ে গবেষণা করা হয় যা আবিষ্কারের ঘোষণা এখনও দেওয়া হয় নি। তিনি অবশ্য কিছু ধোয়াটে বক্তব্য দিয়েছেন একটি মৌলিক পদার্থ নিয়ে। তার মতে সুপারনোভা বা বাইনারি স্টার সিস্টেম থেকেই সম্ভবত একটি মৌল সংগ্রহ করা হয়েছে। যার মাত্র ২.২ পাউন্ড কিন্তু এটি দ্বারা ৪৭টি ১০ মেগাটন হাইড্রোজেন বোমা বানানোর জন্য যথেষ্ট। ওখানে নাকি একটি টাইম মেশিন আছে। টাইম মেশিনে এই মৌলটি রাখা হলে টাইম মেশিনটি সময়কে স্থির করে রাখতে পারে। তারা নাকি সময় স্থির করে রাখার পরীক্ষা চালিয়ে সফলও হয়েছেন। তার মতে  টাইম মেশিনটি ঐ মৌলিক পদার্থটিকে ব্যবহার করে কোন এক ভাবে অ্যান্টিম্যাটার তৈরি করে এবং তারফলে বিপুল শক্তি উৎপাদিত হয়। অ্যান্টিম্যাটার রিয়েক্টরে শক্তি উৎপাদনের ফলে বস্তুর নিজস্ব মহাকর্ষ বলের সৃষ্টি হয় এবং নিজস্ব শক্তিতে তা বিদুৎ বেগে ছুটতে পারে এবং এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে নাকি ওখানে ফ্লাইং সসার তৈরির গবেষণা চলছে।

তবে বব সবচেয়ে বড় বোমা ফাটান এই বলে সেখানে নাকি এলিয়েন দের নিজে ধ্বংস হয়ে যাওয়া এক ফ্লাইং সসার আছে। ওখানে এলিয়েনটির ব্যবচ্ছেদ করে নাকি পাওয়া গেছে ঐ প্রাণীটি এসেছে রেটিকুলাম ৪ নামক জ্যোতিষ্ক থেকে। প্রাণীটির উচ্চতা সাড়ে তিন ফুট শরীর রোমহীন কালো বড় বড় চোখ এবং শরীর কৃশকায়। দেহ ব্যবচ্ছেদ করে নাকি ফুসফুস ও হৃৎপিন্ডর বদলে বিশাল এক পতঙ্গ পাওয়া গেছে।
কথিত সেই এলিয়েন
তবে এতসব বিতর্কই শেষ নয়। এরিয়া ৫১ নিয়ে চলমান বিতর্কের সব চেয়ে বড়টি হল মানুষের চাঁদে যাওয়া নিয়ে নাটক। মানুষ চাঁদে গিয়েছে এ নিয়ে নাটকের কি আছে? আপনারা হয়ত তা বলবেন। কিন্তু দুনিয়াতে প্রচুর সন্দেহবাদী যাদের ধারনা মানুষ কখন চাঁদে যায়নি। পুরো নাটকটি সাজানো হয়েছে এই এরিয়া ৫১ এরভিতর। মানুষ প্রথম চাঁদে গিয়েছিল ১৯৬৯ সালে, এর পর আজ পর্যন্ত একবারও কেন মানুষ চাঁদে যায় না? মজার ব্যাপার হচ্ছে এত বিতর্ক চললেও আমেরিকান সরকার এসব কোনোকিছুই স্বীকার করেনি আজ পর্যন্ত। তাতে সন্দেহ না কমে বরং আরো বেড়েছে। এ নিয়ে আরেকটি পোষ্টে বিস্তারিত আলোচনা করব।

এরিয়া ৫১ বিশ্বের কাছে এটি মার্কিন সরকারের এক বিশাল সামরিক বাহিনীর অপারেশন ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হলেও অনেকে এটিকে "এরিয়া অফ কন্সপেরেসি" অথবা "ষড়যন্ত্রের এলাকা" বলে থাকে। ধারণা করা হয়, কোল্ড ওয়ার  বা স্নায়ু যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে আমেরিকা লোক চক্ষুর অন্তরালে  উন্নত মানের যুদ্ধ বিমান এবং অত্যাধুনিক অস্ত্র  তৈরির গবেষণা এবং পরীক্ষা চলতো এ অঞ্চলে। জায়গাটিতে জনসাধারনের প্রবেশ নিষেধ হলেও "ন্যাশনাল জিওগ্রাফি" এ অঞ্চলের কিছু ছবি প্রকাশ করে।

তথ্যসূত্র : ইন্টারনেট, hybridknowledge.info



নিয়মিত আপডেট পেতে আরো জানি ফেসবুক গ্রুপে যোগ দিন ।


Tuesday, December 19, 2017

অনলাইনে কি আসলেই আয় করা সম্ভব?

শুরুতেই বলে নেই পোস্টটি শুধুমাত্র নতুনদের জন্য

অনলাইন, বর্তমানে আপনার আমার অর্থাৎ আমাদের সবচেয়ে বেশী পরিচিত জায়গা। নিজেদের ফ্রি সময় ব্যায় করতেই আমরা এখানে আসি।
কিন্তু মাঝেমধ্যে শুনে থাকবেন এই অনলাইন অর্থাৎ ইন্টারনেট জগৎ থেকেও আয় করা যায়! কথাটি শোনার পর যারা এসব ব্যাপারে কিছুই জানেনা তাদের ভ্রু কুচকে যায় আর মনেমনে হয়তো বলে "হুরর হুদাই"।
অনলাইন ইনকাম
অনেকেই মনেকরে আমরাইতো টাকা নষ্ট করে এখানে থাকতে হচ্ছে তাহলে এখান থেকে আবার আয়! যত্তসব গুজব।

এখন যে প্রশ্নটি বাধ্যতামূলক সেটি হচ্ছে আসলেইকি অনলাইন বা ইন্টারনেট জগৎ থেকে ইনকাম হয়?

উত্তরটা হচ্ছে জ্বি হয়।

তবে কথা হচ্ছে এ উত্তর শুনে এতো খুশি হবার কিছু নেই। সত্যি বলছি বেশী খুশি হবেন না, কারন অনলাইনে আয় সবার জন্য না। এর জন্য আপনার কাজ জানা থাকতে হবে, দক্ষ হতে হবে, সময় দিতে হবে প্রচুর, ইনবেস্ট করতে হবে। যদি আপনার কিছুই না থাকে ইনবেস্ট করার মত তবে আপনাকে সামান্য কিছু অর্থ এবং অনেক সময় হলেও ইনবেস্ট করতে হবে। যাইহোক এবার লাইনে আসি।

কিভাবে অনলাইন/ইন্টারনেট জগৎ থেকে আয় করা যায়?

কথা হচ্ছে টাকা জিনিসটা এতো সোজা না যে হুদাই আরেকজনের পকেট থেকে আপনার পকেটে চলে আসবে। একজন দিনমজুর যেমন সারাদিন ঘামঝরানো পরিশ্রম করে দিনশেষে টাকা পায় ঠিক অনলাইন আয়ও তেমন। আপনাকে খাটতে হবে, আপনার ব্রেনকে কাজে লাগতে হবে, রাতের পর রাত জেগে কাটাতে হবে এরপরই হয়তো আপনার অনলাইন আয় আপনার কাছে ধরা দিবে।

কোন কোন জায়গা থেকে আয় করা যায়?

ইন্টারনেট জগৎতো অনেক বিশাল। কতোকিছু আছে এখানে। কত জানা অজানা ব্যাপার কতো কি। তাহলে কথা হচ্ছে আমি কোথা থেকে আয় করতে পারবো?
আচ্ছা তাহলে বলি, আপনি ফেসবুক চিনেন ফেসবুক? বর্তমান এ যুগে একটা ফেসবুক আইডি নাই এমন মানুষ খুজে পাওয়া মুশকিল। আর আপনি চাইলে এই ফেসবুক থেকেও আয় করতে পারবেন। 
এমনও মানুষ আছে যারা ফেসবুকের মাধ্যমে মাসে কয়েকশ কিংবা কয়েক হাজার ডলারও ইনকাম করে। তবে হ্যা টাকা এতো সহজে তাদের কাছে ধরা দেয়নি। তারা সময় দিয়েছে টাকা ব্যায় করেছে কস্ট করেছে বারবার ব্যার্থ হয়ে এখন তারা সফল।



শুধু ফেসবুক না আপনি চাইলে ইউটিউব, ওয়েবসাইট অথবা ফ্রিলেন্সিং করে আয় করতে পারেন।
তবে এর আগে আপনাকে অবশ্যই কাজ জানতে হবে।

যাইহোক পোস্টটি লেখার উদ্দেশ্য ছিলো আপনাদের অনলাইন আয় সম্পর্কে প্রাথমিক ধারনা দেয়া, আশাকরি সেটা পেরেছি। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে তুলে ধরবো কিভাবে ফেসবুক/ ইউটিউব/ ওয়েবসাই কিংবা ফ্রিলেন্সিং করে আয় করবেন। সে পর্যন্ত ভালো থাকুন আর আরোজানির সঙ্গে থাকুন। 


নিয়মিত আপডেট পেতে আরো জানি ফেসবুক গ্রুপে যোগ দিন । 

Saturday, November 25, 2017

ফ্রি তে চলবেনা ফেসবুক পেজ!

বিজ্ঞান প্রযুক্তির যুগে এসেছে অনেক পরিবর্তন। যুগের সাথে তাল সিলিয়ে নিজের অবস্থানে টিকে থাকার জন্য দিনদিন পরিবর্তন আনছে সবাই।
ফ্রি তে চলবেনা ফেসবুক পেজ

ফেসবুক যেহেতু বর্তমান যুগের একটি বড় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সুতরাং এটিও তার বিপরীত নয়। নানান প্রয়োজনে এবং নানান সময় ব্যাবহারকারীদের জন্য এবং নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে ফেসবুক এনেছে নানান পরিবর্তন এবং প্রতিনিয়ত সেই পরিবর্তন চলছে।
আর ঠিক এই মুহূর্তে নিজেরে ব্যাবসার কথা চিন্তা করে ফেসবুক চালু করেছে নতুন এক পদ্ধতি। অার সেটা হচ্ছে,  বিনা পয়সায় কোনো কিছু সরাসরি আর প্রচার করবে না ফেসবুক। 

অর্গানিক রিচড্ হবে মাত্র ৩%


শুধুমাত্র অর্গানিকভাবে পাওয়া যাবে ৩% রিচড্ যেটা খুবই কম। 

বিশেষকরে যারা ফেসবুকে পেজ তৈরি করে বিভিন্ন কম্পানি বা নিজেদের পন্য প্রচার করতো বা বিভিন্ন নিউজ পোর্টাল খবর প্রচার করেন, সেসব প্রকাশকের জন্য নিউজফিডের সুবিধা রাখছে না ফেসবুক কর্তৃপক্ষ।

এককথায় বলতে গেলে, ফ্রিতে কোন পেজের পোস্টই প্রচার করবেনা ফেসবুক আর প্রচারের জন্য আপনাকে অবশ্যই টাকা/ ডলার খরচ করে প্রমোট করতে হবে। অর্থাৎ, ফেসবুকে কোনো কিছু প্রচার করতে হলে অর্থ খরচ করতেই হবে।
আর তাছাড়া টাকার বিনিময়ে পোস্টগুলো নিউজফিডেও দিবেনা ফেসবুক! 

বর্তমানে পরিক্ষামূলকভাবে মোট ৬ টি দেশে পেজের পোস্ট ফ্রিতে দেখানো বন্ধ করে দিয়েছে ফেসবুক। বিষয়টি ইতিমধ্যে পেজ প্রকাশকদের বিপদে ফেলেছে। 

সম্প্রতি ফেসবুক ‘এক্সপ্লোর ফিড’ নামের নতুন একটি ফিচার চালু করেছে। এতে পরীক্ষামূলকভাবে প্রকাশক ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আসা কনটেন্ট মূল ফিড থেকে সরিয়ে ফেলছে ফেসবুক। এসব পোস্ট পৃথকভাবে এক্সপ্লোর ফিডে থাকবে। তবে এক্সপ্লোর ফিডগুলো নিউজফিডে দেখাবে না। আর ভবিষৎ এ প্রমোট করা পেজের পোস্টগুলি ও হোমপেজ বা নিউজফিডে না দেখিয়ে এক্সপ্লোর ফিডে দেখানো হবে বলে জানিয়েছে ফেসবুক। 
ফেসবুক এক্সফ্লোরার ফিড
ফেসবুক কর্তৃপক্ষ বলছে, ব্যবহারকারীদের দুটি ফিড দেখানো হবে। একটিতে পরিবার, বন্ধু-বান্ধব অর্থাৎ ফেসবুক প্রোফাইলের জন্য ও অন্যটিতে প্রতিষ্ঠান ও প্রকাশকদের বা ফেসবুক পেজের জন্য। 

বর্তমানে শ্রীলঙ্কা, বলিভিয়া, স্লোভাকিয়া, সার্বিয়া, গুয়াতেমালা ও কম্বোডিয়াতে পরীক্ষামূলকভাবে এটি চালু হচ্ছে।

ফেসবুকের প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও ফেসবুকের ওপর নির্ভরশীল অনেক প্রতিষ্ঠান আতঙ্কে রয়েছে। কারণ, সচরাচর ফেসবুকের নতুন এক্সপ্লোরার ফিডে সহজে কেউ যায়না । 

কোথায় পাওয়া যাবে  ফেসবুকের এক্সপ্লোরার ফিড?

 ফেসবুকের এক্সপ্লোরার ফিডটি খুজে পেতে হলে আপনাকে যেতে হবে ফেসবুক মেনু বারে তারপর খানিকটা নিচের রয়েছে এক্সপ্লোরার ফিড অপশনটি। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পেজের বিভিন্ন স্টোরি মূল ফিড থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি বড় ধরনের পরিবর্তন। পেজ পোস্টগুলো এক্সপ্লোর ফিডে সরিয়ে দেওয়ায় প্রকাশকদের পোস্টের ‘অর্গানিক রিচ’ দুই তৃতীয়াংশ কমে গেছে। অনলাইন প্রকাশনা প্ল্যাটফর্ম মিডিয়ামের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পৃথক এক্সপ্লোর ফিড ছয়টি দেশে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করেছে ফেসবুক। এটি অন্য দেশে সম্পূর্ণ চালু করার ঘোষণা না এলেও যাঁরা ফেসবুকে খবর প্রচার করেন, তাঁদের জন্য সতর্কবার্তা।

যে দেশগুলোতে এক্সপ্লোর নিয়ে ফেসবুকের পরীক্ষা চলছে, সেখানে নিউজফিডে শুধু বন্ধুদের পোস্ট আর বিজ্ঞাপন দেখানো হচ্ছে। ফলো করা পছন্দের পেজের হালনাগাদ পেতে এক্সপ্লোর ফিডে ক্লিক করা ছাড়া উপায় নেই। ফেসবুক কর্তৃপক্ষ যা–ই বলুক না কেনো, ফেসবুক পেজের পোস্টগুলোকে পুরোনো নিউজফিডে দেখাতে অর্থ খরচ করা ছাড়া কোনো পথ খোলা রাখছে না ফেসবুক কর্তৃপক্ষ।

ইতিমধ্যে স্লোভিনয়ার বড় ৬০টি মিডিয়া পেজের ইন্টারঅ্যাকশন (লাইক, কমেন্ট, শেয়ার) তলানিতে এসে ঠেকেছে। গুয়াতেমালা ও কম্বোডিয়াতেও একই প্রভাব পড়েছে। পরীক্ষা কত দিন চলবে, ফেসবুক তা ঘোষণা করেনি। স্লোভেনিয়ার সবচেয়ে বড় মিডিয়া সাইটের পাঠক কমে গেছে। নতুন নিউজফিড আসায় ফেসবুক ব্যবহারকারীরা তাদের কোনো পোস্ট ফেসবুকে খুঁজে পাচ্ছেন না। 

নিয়মিত আপডেট পেতে আরো জানি ফেসবুক গ্রুপে যোগ দিন ।