রবিবার, ২৩ জুলাই, ২০১৭

অটোফজি এবং রোজা কি আসলেই এক ?

পোস্ট ক্যাটাগরি


২০১৬ সালে নোবেল পুরস্কার পান জাপানের ডা. ইয়োশিনোরি ওহশুমি।

 টোকিও ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির অধ্যাপক ইয়োশিনোরি ওহশুমির গবেষণার বিষয় ছিল, ‘Mechanisms underlying autophagy’।

অর্থাৎ কোষ কিভাবে নিজের আবর্জনা পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করে সুস্থ ও সজীব থাকে, সে রহস্যে আলো ফেলে নোবেল পুরস্কার জিতে নেন তিনি। কোষের এ প্রক্রিয়ার নাম অটোফাজি (Autophagy)|

Autophagy-VS-Ramadan
অটোফজি VS রোজা


অটোফাজি হলো কোষঘটিত প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত একটি পদ্ধতি, যা কোষের বার্ধক্য নিয়ন্ত্রণ ও এর দেহকে সংরক্ষণ করে এবং কোষ তার ভেতরে থাকা বর্জ্য ভেঙে সেটিকে আবার ব্যবহার উপযোগী উপাদানে পরিণত করে।

এককথায় বলতে গেলে, আমাদের ঘরে যেমন ডাস্টবিন  থাকে, অথবা আমাদের কম্পিউটারে যেমন রিসাইকেল বিন থাকে,তেমনি আমাদের শরীরের প্রতি টি কোষের মাঝে ও একটি করে  ডাস্টবিন  আছে। নিয়মিত খাবার গ্রহনের ফলে আমাদের শরীর সেই ডাস্টবিন  পরিষ্কার করার সময় পায় না। যার ফলে কোষ গুলাতে অনেক আবর্জনা ও ময়লা জমে যায়।

শরীরের কোষ গুলা  যদি নিয়মিত  তাদের ডাস্টবিন পরিষ্কার করতে না পারে,তাহলে কোষ গুলা একসময় নিষ্ক্রয় হয়ে শরীরে বিভিন্ন প্রকারের রোগের সৃষ্টি করে। কারো কারো মতে এর ফলে ক্যান্সার  বা ডায়াবেটিস এর মত বড় বড় রোগও হতে পারে।

মানুষ যখন খালি পেট এ থাকে তখন তাদের কোষ গুলা  অনেক বেকার হয়ে পড়ে। কিন্তু মানবদেহ পরিচালনার জন্য দরকার খাবার এবং শক্তি । যেহেতু আমরা ওইসময় উপস থাকি এবং কোনরুপ খাদ্য গ্রুহন করিনা সেহেতু কোষগুলো তাদের ময়লা বা আবর্জনা গুলা নিজেই খেয়ে ফেলে। আর সাইন্স এ পদ্ধতিকে বলে অটোফজি।

অটোফজি প্রক্রিয়ার সাংকেতিক ছবি


অটোফাজি প্রক্রিয়ায় অসংগতি দেখা দিলে মানবদেহের কোষগুলো বাঁচে না। এই প্রক্রিয়ায় কোনো রকমের ঝামেলা হলে ক্যান্সার ও স্নায়ুবিক অনেক রোগে আক্রান্ত হয় মানবদেহ।

অনেকের ধারন ডা. ওহশুমি তাঁর গবেষণার মাধ্যমে প্রমাণ করতে সক্ষম হন যে অটোফাজি (Autophagy)) প্রক্রিয়াকে সচল করে রোজা (হিন্দুধর্মের উপবাস অর্থাৎ সারাদিন না খেয়ে থাকা) ।

তাদের মতে, মানুষ রোজা রাখলে তার দেহ মস্তিষ্ককে সংকেত দেয় যে দেহে প্রয়োজনীয় পরিমাণ খাবার নেই। মস্তিষ্কের দেখানো পথে দেহ তখন রক্ষিত খাবারের সন্ধানে বের হয়ে দেহকোষ তার ভেতরে থাকা ক্ষতিগ্রস্ত প্রোটিন কণা খুঁজে বের করে। তারপর সেগুলো প্রক্রিয়াজাত করে কোষ তার সুস্থতায় কাজে লাগায়। আর অটোফাজি প্রক্রিয়াকে স্বয়ংক্রিয় করতে হলে সে মানুষকে কমপক্ষে ১২ ঘণ্টা Fasting  (রোজা) পালন করতে হবে।

কিন্তু আসলেকি রোজা/ফাষ্টিং/উপবাস এবং অটোফজি কি এক?  অটোফজির কাজটা ঘটে কোষের লাইসোসোমে। তুলনামূলক ক্ষতিকর উপাদান বা দুর্বল মৃত কোষগুলোকে লাইসোজোমের মাধ্যমে গ্রহণ করে নষ্ট করে ফেলা হয়। প্রাণিকোষেই লাইসোজোম থাকে। লাইসোজোমের এর পিএইচ মান এবং এর কার্যকারিতা পানি ছাড়া কখনোই চলতে পারেনা।

কিছু কথা প্রচলিত আছে যে,  রোজা (Fasting)  রাখলে কোষগুলোর অটোফজি চালু হয়। ফলে এক বছরের সমস্ত কোষবর্জ্য পরিষ্কার হয়ে যায়।

কিন্তু আসলেকি তাই?

 কোষের এই অটোফ্যাগোসিটোসিস প্রক্রিয়ায় কোষ বর্জ্যভক্ষণ ২৪ ঘন্টাই চালু থাকে।
 তবে না খেয়ে থাকলে এই হারটা একটু বৃদ্ধি পায়।
 কিন্তু পানিবিহীন উপবাসে খুববেশি লাভ নেই।
 পানির অভাবে কোষের কার্যকারিতা হ্রাস পায়।
অটোফজি চালু রাখতে হলে প্রচুর পানি বা তরল পানীয় পান করা জরুরী। কিন্তু কথা হচ্ছে রোজার সময় অর্থাৎ উপস থাকার সময় আমরা কোনরুপ খাবারের মতো পনিও খাই না!  অর্থাৎ এক্ষেতে ধরে নেয়া যায় রোজা আর অটোফজি এক নয়।

সর্বোপ্রথম ১৯৪৯ সালেই দুবে অটোফজি আবিষ্কার করেন ও নামকরণ করেন।

 ১৯৯২ সালে ইয়োশিনরি ওশুমি আবিষ্কার করেন ঈস্টেও অটোফজি ঘটে।

 এরপরেই আবার এ সংক্রান্ত রিসার্চ শুরু হয় এবং অটোফজির জিনগুলোকে চিহ্নিত করেন এবং কিভাবে জিনগুলো অটোফজি নিয়ন্ত্রন করে,  কিভাবে অপ্রয়োজনীয় কোষগুলো ধ্বংস করে।


 Suzuki, Onodera, Yoshinori Ohsumi এর আর্টিকেল  (আর্টিকেল লিংক https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pmc/articles/PMC3045454/ ) ইঁদুরের উপর করা একটি পরীক্ষার কথা বলা হয়েছে , যেখানে ইঁদুরগুলোকে খাবার খেতে দেওয়া হয় না কিন্তু পর্যাপ্ত ও ইচ্ছামত পানি পানের সুযোগ দেওয়া হয়।

সুতরাং এক্ষেত্রেও বুঝা যায় যে অটোফজি এবং রোজা এক নয়।


তবে সবচেয়ে বড়ো কথা হচ্ছে আমাদের বিশ্বাস।  হয়তো বিজ্ঞান এবং যুক্তি যেটা বলছে সেটা আমরা নাও মেনে নিতে পারি। কারন আমারা সবসময় নিজের আত্তবিশ্বাসের উপর নির্ভর করি। সে দিক বিবেচনায় কারো কাছে অটোফজি মানে রোজ আবার কারো কাছে অটোফজির সাথে রোজার কোন সম্পৃক্ততা নেই।

তবে আপনারা চাইলে এ ব্যাপারে আরোকিছু আর্টিকেল পড়তে পারেন। আশাকরি এতেকরে আমাদের এ পোস্টের সত্যতা এবং আপনার ধারনা দুটোই পরিষ্কার হবে।



আর্টিকেলসমূহের লিংক:-

পোস্টটি ভালো লাগলে অথবা পোস্ট সম্পর্কে কোন অভিযোগ থাকলে দয়াকরে কমেন্ট করে জানাবেন। আপনার একটি সুন্দর মতামত লেখককে আরো সুন্দর পোস্ট লেখার অনুপ্রেরণা জোগাবে।

ধন্যবাদ।
ইমুজিইমুজি