রবিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১৭

মানুষের মাংস খাওয়ার যত গল্প !

পোস্ট ক্যাটাগরি


আলিফ লায়লা, হাতিম, টারজান এবং অন্যন্য সিরিজগুলো যদি দেখে থাকেন তবে নিশ্চই মানুষের মাংস খাওয়ার ব্যাপারগুলো আপনার চোখে পড়েছে।

প্রাচীন রুপকথায় বিভিন্ন দৈত্য দানব বা অদ্ভুদ প্রানীরা মানুষের মাংস খাওয়ার কাহিনী উঠে এসেছে।

এটা কেবল রুপকথাই। কিন্তু যদি এমন হয় যে স্বয়ং মানুষ হয়েও মানুষের মাংস খায় তবে চোখ কপালে উঠা অস্বাভাবিক কিছু না।
ক্যানিবালিজম: মানুষ যখন মানুষ খায়! 
জ্বি, এটা কোন রুপকথা না। বর্তমান এবং অতীতে এমন অনেক ঘটনা আছে যেগুলা জানান দেয় স্বয়ং মানুষ মানুষের মাংস খায়। কখনোবা মৃতদের মাংস কখনোবা হিংস্রতার সীমা ছাড়িয়ে জীবিতদের মাংস!

বিভিন্ন বই বা কাহিনীতে মানুষখেকোদের বর্ণনা থাকলেও একবিংশ শতাব্দিতেও পৃথিবী থেকে এদের অস্তিত্ব মিলিয়ে যায়নি।
বিশ্বে বেশ কিছু দুর্গম স্থান এখনও রয়েছে, যেখানে সভ্যতার আলো পৌঁছায়নি। আবার কোথাও কোথাও এই ভয়ানক ব্যাপারটির অবসান ঘটেছে মাত্রই। আজ আলোচনা করব এমন কিছু জায়গা, ঘটনা এবং সম্প্রদায় নিয়ে।

১. ভারত:  ভারতের বারাণসীতে এখনও একটি সম্প্রদায়ের মধ্যে মানুষ খাওয়ার প্রচলন রয়েছে। আঘোরি সাধু নামে বিশেষ এক সন্নাসী সম্প্রদায় রয়েছে যারা মৃত মানুষের মাংস খেয়ে থাকে। শুধু মৃত মানুষের মাংসই নয় যত খারাপ এবং নিম্নপর্যায়ের খাদ্যবস্তু আছে সবই খায় এরা। ময়লা আবর্জনা থেকে শুরু করে মৃত মানুষের মাংস পর্যন্ত। বর্নিত আছে এটা মৃত মানুষের দেহের উপর বসে ধ্যান করে এবং তাদের শরীরের মাংস খায়।
অঘোরি সাধু

২. পাপুয়া নিউগিনি: দেশটির পশ্চিমে কোরোয়াই উপজাতির মানুষেরা প্রতিশোধ হিসেবে মানুষের মাংস খেয়ে থাকে। ইন্দোনেশিয়ার সীমান্তবর্তী অঞ্চলটিতে এখনও এই সম্প্রদায়ের অন্তত ৩ হাজার মানুষ রয়েছে। ভিন্ন সম্প্রদায়ের সাথে সংঘাত ঘটলে নিজেরে ক্ষমতা দেখাতে এরা অন্য সম্প্রদায়ের লোকেদের ধরে এনে তাদের মাংস খায়। মাঝে মাঝে দলনেতা খাওয়ার মতো মানুষের সন্ধান না পেলে নিজেদের আত্মীয়-স্বজনের মাংসও খেয়ে থাকে। এর মাঝে এরা নিজেদের মধ্যে নিজেদের ক্ষমতা জাহিরের প্রচেষ্টা চালায়।
কোরোয়াই উপজাতি

৩. সিগাটোকা, ফিজি: দেশটিতে একসময় মানুষখেকোরা থাকলেও এখন তাদের দেখা পাওয়া যায় না। ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে এই অঞ্চলে চন্দন ব্যবসায়ীরা আসা যাওয়া শুরু করলে আদিবাসীদের মাঝেও সভ্যতার আলো পৌঁছাতে থাকে। যদিও বলা হয় এই দ্বীপাঞ্চলটির কোথাও কোথাও এখনও মানুষ খাওয়ার প্রবণতা মিলিয়ে যায়নি। তবে এটা এখন কেবল কল্পনা মাত্র। তবে হ্যা, সিগাটোকার নাইহেহে গুহায় যেসব নিদর্শন মিলেছে, তাতে স্পষ্টই বোঝা গেছে যে মানুষখেকোরা আসলে মিলিয়ে যায়নি।

৪. কঙ্গো: আফ্রিকার মধ্যাঞ্চলীয় দেশটির আদিবাসীদের মাঝে এখনও মানুষ খাওয়ার প্রবনতা মিলিয়ে যায়নি। প্রকাশ্যে না হলেও গোপনে মানুষের মাংস খাওয়ার অভ্যাস আছে তাদের। ২০০৩ সালের গোড়ার দিকে কঙ্গোর বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে মানুষ খাওয়ার অভিযোগ তোলে খোদ জাতিসংঘ। দ্বিতীয় কঙ্গো যুদ্ধের পর সরকারের এক প্রতিনিধি তাদের কর্মীদের জীবন্ত ছিড়ে খাওয়ার জন্য বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পর্যন্ত তোলেন।

৫. জার্মানি: আশ্চর্য হলেও সত্যি, জার্মানিতে মানুষের মাংস খাওয়া কোনো অপরাধ নয়। আর সেজন্যই ২০০১ সালের মার্চে আর্মিন মাইভাস নামের এক জার্মান নাগরিক রীতিমতো বিজ্ঞাপন দিয়ে মানুষ খেলেও তার বিরুদ্ধে খুনের মামলা ছাড়া কোনো অভিযোগ আনেনি পুলিশ। মানুষ খাওয়ার উদ্দেশে ‘দি ক্যানিবাল ক্যাফে’ নামের একটি ওয়েবসাইটে সুঠামদেহী, জবাইযোগ্য এবং আহার হতে চাওয়া মানুষের সন্ধান চেয়ে বিজ্ঞাপন দেন আর্মিন। অনেকে আগ্রহী হলেও বার্ন্ড জুর্গেন ব্রান্ডিসকে পছন্দ করেন আর্মিন। এরপর জার্মানির ছোট্ট গ্রাম রটেনবার্গে দুজনে মিলিত হন। একপর্যায়ে ব্রান্ডিসকে হত্যা করে প্রায় ১০ মাস তার মাংস খান আর্মিন মাইভাস। ২০০২ সালে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বিচারে তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়।

এটাতো গেলে ঘটনা। তবে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন কমান্ডো ফোর্সকে দূর্গম অঞ্চলে টিকে থাকার জন্য কাচা মাংস খাওয়ার ট্রেনিং দেয়া হয়ে থাকে।

2 comments

মতামত জানানোর জন্য আপনাকে ধন্যবাদ স্যার :-)
প্রতিনিয়ত এমন সব জানা অজানা তথ্য পেতে আমাদের সাথে থাকুন :-)

পোস্টটি ভালো লাগলে অথবা পোস্ট সম্পর্কে কোন অভিযোগ থাকলে দয়াকরে কমেন্ট করে জানাবেন। আপনার একটি সুন্দর মতামত লেখককে আরো সুন্দর পোস্ট লেখার অনুপ্রেরণা জোগাবে।

ধন্যবাদ।
ইমুজিইমুজি