সোমবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৭

জ্যাক ম্যা: হতভাগা বোকা ছাত্র থেকে চীনের শ্রেষ্ঠ ধনী হবার গল্প

পোস্ট ক্যাটাগরি

প্রাচীন রুপকথায় আলী বাবার চিচিঙ ফাঁকের কাহিনী তো সবারই জানা।
ওই যে, চল্লিশ চোরের আস্তানার সামনে দাঁড়িয়ে আলী বাবা চিৎকার করলেন, চি..চি..ঙ ফাঁক। অমনি মড় মড় করে খুলে গেলো গুহার পাথুরে
দরজা। ভেতরে বিশাল রত্নভাণ্ডার। আর সেই ধনরত্ন দিয়েই কাঠুরি আলিবাবা হয়েগেলো বড়লোক।

বলছিলাম প্রাচীন রুপকথা, কিন্তু অাশ্চার্যের বিষয় এই বিংশ শতাব্দীতেও এমন একজন মানুষ সারা বিশ্বে আলোড়ন তুলেছেন যিনিও কি না আলিবাবা দিয়েই হয়ে উঠেছেন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ধনীব্যক্তিদের একজন। 

জ্যাক ম্যা
তার নাম জ্যাক ম্যা। বাড়ি চীনের হ্যাঙ্গজুই শহরে। বর্তমানে তার বয়স ৫০। ছাত্রবেলায় তিনি ছিলেন বোকা ছাত্র অর্থাৎ যাকে আমরা ব্যাঙ্গ করে বলি গাধা। 
কিন্তু কে জানতো চীনের এই বোকা ছাত্রটি হয়ে উঠবে চীনের শ্রেষ্ঠ ধনী?

জ্যাক ম্যা তার জীবনের প্রথম ভর্তি পরিক্ষায় ফেল করেন টানা ২ বার। বিসমিল্লাহতেই গলদ করেই এই ছাত্র বহু কস্টে শিক্ষাজীবনে ১৭ বার ফেল করে গিয়েছিলো কলেজ পর্যন্ত।
কলেজের ভর্তি পরীক্ষায় পর পর দুইবার ফেল করে সবশেষে এই অভিশপ্ত শিক্ষাজীবন ত্যাগ করতে বাধ্য হন। বাধ্য হয়েও তিনি জীবনের হাল ছাড়েননি।

বোকা ফেল্টুস ছাত্র হয়েও তিনি পড়তে চেয়েছিলেন হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ের মত পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ কলেজের একটি। সেখানেও ব্যার্থ হন তিনি। একবার না টানা ১০ বার চেস্টা চালিয়েছিলেন হার্ভাডে পড়ার জন্য কিন্তু ভগ্য সবার সহায় হয়না।

এই কপালপোড়া মানুষটার শিক্ষাজীবন শুধুমাত্র দুর্দশায় যায়নি, KFC যখন চীনে তাদের ব্যাবসার জন্য আসে তখন জ্যাক ম্যা সহ ২৪ জন kfc তে চাকরির জন্য আবেদন করেন।
সেখানে ২৩ জনের চাকরি হলেও বাদ পড়ে যান হতভাগা ম্য।

এমন ব্যার্থতার গ্লানি বইতে বইতে ক্লান্ত হয়ে  পড়া লেখা ছেড়ে শিক্ষকতার প্রশিক্ষণ নেনন জ্যা মা । এক বন্ধুর পরামর্শে মা ইয়ান থেকে তিনি ধারণ করেন নতুন নাম, জ্যাক মা। পরে ইংরেজীর শিক্ষক হিসাবে মাত্র ১০ ইয়েনের (চীনের মুদ্রার নাম ইয়েন) চেয়েও কম বেতনে শিক্ষকতার চাকরি নেন জ্যা ম্যা ।

অভাব অনটনে চলতে থাকে দিন। এর মধ্যে একবার যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণে যান ম্যা। সময়টা ছিলো ১৯৯৫ সাল। সেখানে দেখেন অনেকেই ইন্টারনেটভিত্তিক নানা ধরনের ব্যবসা করছেন। তার মনেও এ ধরনের চিন্তা আসে। তিনি হিসাব করে দেখেন, সামনের দিনগুলোতে ইন্টারনেটের সম্ভাবনা ব্যাপক।

দেশে ফিরে ম্যা পণ্য কেনা বেচার একটি ওয়েবসাইট খুলে বসেন। যার নাম দেন  ‘আলী বাবা ডট কম’। হয়তো তিনি কখনোই জানতেননা যে তার এই আলিবাবা একদিন তাকে চি চিং ফাকের মত করেই এক অভাগা বোকা ছাত্র থেকে করে তুলবে চীনের শ্রেষ্ঠ ধনী জ্যাক ম্যা তে। 

আলিবাবা ডট কম / Alibaba.com

যাইহোক, তার এ ব্যবসার দিকে ঝুঁক তৈরি হওয়ার পেছনে আরো একটি কারণ আছে। ম্যা জানান, তিনি হলিউডের গাম্প ফরেস্ট সিনেমার প্রধান চরিত্রকে দেখে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন। লোকটি চাল চলনে, পোশাকে আশাকে মোটেও স্মার্ট ছিলো না। আর আহামরি ধরনের মেধাও ছিলো না তার। কিন্তু তিনি এক নাগারে পরিশ্রম করতে পারেন। সিনেমার সেই চরিত্রের পরিশ্রম দেখেই উদ্বুদ্ধ হয়েছেন ম্যা। তিনিও আলী বাবার পেছনে ব্যাপক শ্রম ঢালতে লাগলেন। আর কথায় আছে, লেগে থাকলে মেগে খায় না। তিনি
এখন চীনের ধনী লোকদের একজন। শুধু তাই নয়, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপসহ আরো অনেক অনেক দেশে তার কেনাবেচার জাল ছড়িয়ে পড়েছে। এখন তার এই ওয়েবসাইটটির মূল্য, প্রায় ১৪০ বিলিয়ন ইয়েন।

কি এমন সেবা দেয় ওয়েবসাইটটি?

ম্যার এই আলী বাবা ওয়েবসাইটটির প্রধান সেবা হলো অনলাইনে কেনা কাটা। এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সারা বিশ্ব থেকে চীনে উৎপাদিত যে কোনো পণ্য কেনা যাবে। এর কারণে এটি চীনের বড় একটি কেনাকাটার ওয়েবসাইটে পরিণত
হয়েছে। 

এটি টুইটারের চীনা ভার্সন হিসাবে সামাজিক যোগাযোগের কাজও করে। ইউটিউবের মতো সেবা আছে এদের। ভিডিওর জন্য চীনে বহুলব্যবহৃত এই আলী বাবা। আলী বাবা ক্রেতা ও বিক্রেতাদের বিভিন্ন তথ্য ও পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করে। এবং এ ওয়েবসাইটটি থেকে চলচ্চিত্রও প্রযোজনা করা হয়।

বর্তমানে জ্যাক ম্যা চীনের শ্রেষ্ঠ ধনী এবং পৃথিবীর ৩৩ নাম্বার ধনী ব্যাক্তি।

জ্যাক ম্যার জীবনের গল্প আমাদের বুঝিয়ে দেয় জীবনে হাল ছেড়ে না দিয়ে বারবার চেষ্টা করলে সফলতা অাসবেই।
হয়তোবা কারো আজ অথবা কারো কাল। 

নিয়মিত আপডেট পেতে আরো জানি ফেসবুক গ্রুপে যোগ দিন । 

পোস্টটি ভালো লাগলে অথবা পোস্ট সম্পর্কে কোন অভিযোগ থাকলে দয়াকরে কমেন্ট করে জানাবেন। আপনার একটি সুন্দর মতামত লেখককে আরো সুন্দর পোস্ট লেখার অনুপ্রেরণা জোগাবে।

ধন্যবাদ।
ইমুজিইমুজি