বুধবার, ৪ অক্টোবর, ২০১৭

দাউদ ইব্রাহিম: অদেখা সম্রাজ্যের রাজা!

পোস্ট ক্যাটাগরি

সবাই তাকে ভয় পায়, তার নামে বাঘে-মহিষে এক ঘাটে জলও খায়।

এফবিআই এবং ইন্টারপোলের মোস্ট ওয়ান্টেড ক্রিমিনাল লিস্টে তার নামটা সবসময় শীর্ষে থাকে। তিনি হচ্ছেন দাউদ ইব্রাহিম

 ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘’ হন্যে হয়ে খোজে তাকে, কখনো সে অমুক জায়গায় আছে, তমুক জায়গায় আছে, অথচ তার খোঁজে সেখানে হানা দিলে লোকটার চুলের নাগালও পাওয়া যায় না।

শুধুকি ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা? সয়ং ইন্টারপোল এবং আমিরিকান শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থা FBI কে পর্যন্ত বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে আড়ালে রাজত্ব করে যাচ্ছে দাউদ।

অদেখা সম্রাজ্যের রাজা দাউদ ইব্রাহিম :আরো জানি
তবে ভারতের অভিযোগ দাউদ ইব্রাহিমকে প্রতক্ষভাবে সহায়তা করছে পাকিস্তান এবং পাকিস্তানি সামরিক এবং গোয়েন্দা বিভাগ।

চলুন যেনে নেই কে এই দাউদ ইব্রাহিম?

নাম তার দাউদ ইব্রাহিম, ভারত থেকে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্যের আন্ডারগ্রাউন্ডের অবিসংবাদিত কিং।  ‘ডন’ শব্দটা যার নামের পাশে সবচেয়ে মানানসই!

দাউদের জন্ম ১৯৫৫ সালে ভারতের মুম্বাইয়ের ডংরিতে। দাউদ ইইব্রাহিমের বাবা ইব্রাহিম কসকর ছিলেন অত্যন্ত সৎ একজন পুলিশ
কনস্টেবল।

ইব্রাহিম কসকর ছিলের ভীষণ ধর্মভীরু। যার কারনে নবী দাউদ (আঃ) এর নামে ছেলের নাম রেখেছিলেন তিনি।

সেই দাউদ ইব্রাহিম আজ  হয়ে উঠেছেন জগদ্বিখ্যাত এবং কুখ্যাতই মাফিয়া ।

দাউদ ইব্রাহিমের পরিবার।


মেয়ের সাথে দাউদ ইব্রাহিম

দাউদের স্ত্রীর নাম মবজবীন ওরফে জুবিনা জরিন।  একমাত্র ছেলে মোইন নওয়াজ। দাউদের তিন মেয়ে
১: মাহরুখ 
২: মারহীন
৩: মারিয়া (মারিয়া ১৯৯৮ সালে
মারা যায়)

দাউদ ইব্রাহীমের জীবনি

দাউদ সর্বপ্রথম  অপরাধ জগতে আসে করিম লালা গ্যাংয়ের হাত ধরে। করিম লালা ছিলো তখনকার মুম্বইয়ের কুখ্যাত ডন।

কিন্তু আশির দশকে আন্ডারওয়ার্ল্ডের কুখ্যাত নাম হয়ে যায় দাউদ ইব্রাহিম।

মুম্বাই রেলস্টেশনে এক লোকের টাকা ছিনতাইয়ের মধ্যে দিয়ে শুরু হয় দাউদ ইব্রাহিমের অপরাধ জগৎ। বড় ভাই শাবির ইব্রাহিমের হাত ধরে এই জগতে আরো ঘনিষ্ঠভাবে প্রবেশ করে দাউদ।

তৎকালীন আফগানিস্তান থেকে আসা পাঠান গ্যাঙের সঙ্গে দাউদের দলের লোকেদের প্রায়ই ঝামেলা হয়।
পাঠানদের ভাড়া করা গ্যাংস্টার মানিয়া সুব্রের হাতে খুন হলো দাউদের ভাই সাবির ইব্রাহিম কাসকার।
শুরু হলো রক্তের খেলা।  দাউদ মরিয়া হয়ে মাঠে নামলো ভাইয়ের খুনের বদলা নিতে, মুম্বাই সাক্ষী হলো ভারতের ইতিহাসের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী গ্যাংস্টার ফাইটের।

সেই রক্তক্ষয়ী গ্যাংদের যুদ্ধে পাঠান আর সুব্রে গ্যাঙের প্রায় সব সদস্যকে দাউদ মুম্বাইছাড়া করেছিল।
প্রাণ বাঁচাতে তাদের কেউ কেউ যোগ দিয়েছিল দাউদের দলে।

পুলিশকে প্রচুর টাকা খাইয়ে মানিয়ে সুব্রেকে এনকাউন্টারে হত্যা করায় দাউদ।

মুম্বাইতে দুই নম্বরী কিছু করতে গেলে দাউদের অনুমতি নিয়ে করা লাগতো , নাইলে কখন যে ঘাড় থেকে মাথাটা আলাদা হয়ে যাবে সেটা দাউদ ছাড়া কেউ জানবেও না!

দাউদের দেশ পলায়ন।

আশির দশকের শেষদিকে মুম্বাইতে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু হয়। ছিছকে চোর থেকে শুরু করে  শীর্ষ ক্যাডারদের পর্যন্ত  ধরা পড়তে হয়েছিলো পুলিশের জালে।
অবস্থা বুঝে ভারত ছাড়লো দাউদ, পাড়ি দিলো মাফিয়াদের অভয়ারণ্য দুবাইতে।

দেশের বাহিরে থেকে আন্ডারগ্রাউন্ড নিয়ন্ত্রন করতো এই দাউদ ইব্রাহিম।

দাউদের এ সম্রাজ্য পরিচালনা করতো তার ডান হাত খ্যাত "ছোট শাকিল" এবং তার বোন "হাসিনা"

দাউদ ইব্রাহিমের অদেখা সম্রাজ্য।

ভারত ছেড়ে দুবাই চলে যাওয়ার পর দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে বড় অপরাধ সিন্ডিকেট "ডি কোম্পানি" গড়ে তোলেন দাউদ ইব্রাহিম।

দাউদ ইব্রাহিমের অদেখা সম্রাজ্য 
জানা যায় তার এই "ডি কম্পানি" তে প্রায় ৫ হাজার সক্রিয় সদস্য কাজ করতো।
খুন, চাঁদাবাজি, অস্ত্র পাচার, মাদক চোরাচালান, গুম এবং ম্যাচ ফিক্সিং পর্যন্ত চলতো দাউদের এই "ডি কম্পানির" হাত ধরে।
এছাড়াও নামে বেনামে বেটিং ও বলিউডের ছবি প্রযোজনা করত দাউদ ইব্রাহিম।
বলিউডের অনেক সিনেমায় দাউদ নামে বেনামে অর্থ বিনিয়োগ করেছিলেন বলে শোনা যায়।
সালমান খানের শুরুর দিককার বলে একটি সিনেমা ‘চোরি চোরি চুপকে চুপকে’ দাউদের প্রযোজনায় নির্মিত হয়েছিল বলে গুজব আছে। বলিউডের অনেক নায়িকার সঙ্গে তার অন্তরঙ্গতার গুজবও শোনা গেছে নানা সময়ে।
ধারনা করা হয় ভারত-পাকিস্তান আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের অনেক খেলোয়াড়ের সঙ্গেই সুসম্পর্ক ছিল তার, দাউদের হয়ে ম্যাচে ফিক্সিং করেছেন অনেক ক্রিকেটারই, কেউ স্বেচ্ছায়, কেউবা বাধ্য হয়ে।
শিপিং, এয়ারলাইন্স কিংবা রিয়েল এস্টেট ব্যবসা, প্রতিটা জায়গাতে টাকা খাটিয়েছে সে, তুলে নিয়েছে মুনাফা। ফুলেফেঁপে উঠেছে তার ব্যাংক ব্যালেন্স।
তার বর্তমান সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৭.৫ হাজার কোটি রুপী। (তথ্য সূত্র : ইউকিপিডিয়া)

অপরাধ জগৎ এ দাউদের যত রেকর্ড

দাউদ আছে ইনাটারপোলের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায়।
মার্কিন সাময়িকী ফোর্বস-এর বিশ্বের
শীর্ষ পলাতক অপরাধীদের ২০১১ এর তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছেন দাউদ ইব্রাহিম। (২০০৮ সালেও তিনি
ফোর্বস-এর তালিকায় চতুর্থ স্থানে ছিলেন।)
এছাড়া ভারতীয় পুলিশের পলাতক অপরাধীদের তালিকায়ও তার নাম শীর্ষে। (তথ্যসূত্র : ইউকিপিডিয়া)

দাউদকে ধরতে যত ব্যার্থ প্রচেস্টা

দাউদকে ধরতে নানান সময়ে নানায় জায়গায় অভিযান চালিয়েছিলো ভারতীয় সামরিক বাহিনী, ইন্টারপোল এবং FBI.

কিন্তু কখনো দাউদকে ধরাতো দূরে থাক দাউদের কাছেও ঘেষতে পারিনি তারা!

দাউদের মেয়ে মাহরুখ ইব্রাহিমের বিয়ে হয়েছিল পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার জাভেদ মিয়াদাদের ছেলে জুনাইদ মিয়াদাদের সঙ্গে।  এই বিয়েতে ইন্টারপোল, এফবিআইয় এবং "র" এর তীক্ষ্ণ নজরদারী ছিল। সবাই জানতো দাউদ অবশ্যই আসবেন এখানে। সক্রিয় ছিল FBI, ইন্টারপোল এবং ভারতের গোয়েন্দা বিভাগের প্রায় দুইশোর বেশী এজেন্টও।

কিন্ত আন্ডারগ্রাউন্ডের এই রাজাকে ধরাকি এতই সোজা?!

সবার অগোচরে পাকিস্তানি গোয়েন্দাদের সহায়তায় দাউদ এসে তার মেয়ে আর মেয়ে জামাইকে আংটি পরিয়ে চলে গিয়েছিল, তার নাগালে ঘেঁষা তো দূরের কথা, দাউদ এসেছে এমন খবরটাও সঙ্গে সঙ্গে পায়নি এদের কেউ!

দাউদকে নিয়ে যত ছবি।

দাউদ ইব্রাহিমের অপরাধ জীবনের ঘটনা নিয়ে বলিউডে কয়েকটি চলচ্চিত্রও নির্মাণ করা হয়েছে। যাদের মধ্যে আছে


  • ব্ল্যাক ফ্রাইডে (২০০৪)
  • ডি (২০০৫)
  • শূটআওট অ্যাট লোখান্ডওয়ালা (২০০৭)
  • ওয়ান্স আপন অ্য টাইম ইন মুম্বাই (২০১০)
  • ওয়ান্স অ্যাপন অ্য টাইম ইন মুম্বাই দোবারা (২০১২)
  • শ্যূাটআউট অ্যাট ওয়াড়ালা (২০১৩) 


পোস্টটি ভালো লাগলে অথবা পোস্ট সম্পর্কে কোন অভিযোগ থাকলে দয়াকরে কমেন্ট করে জানাবেন। আপনার একটি সুন্দর মতামত লেখককে আরো সুন্দর পোস্ট লেখার অনুপ্রেরণা জোগাবে।

ধন্যবাদ।
ইমুজিইমুজি