Monday, February 4, 2019

বন্ধ হয়ে যাবে গুগল প্লাস!

বন্ধ হয়ে যাবে গুগল পরিচালিত সোশাল প্লাটফর্ম গুগল প্লাস ( google +)

গুগলের হাত ধরে ২০১১ তে যাত্রা শুরু করে গুগল প্লাস।
বন্ধ হয়ে যাচ্ছে গুগল প্লাস! 

মূলত ফেসবুককে টেক্কা দিতেই গুগল একটি সোশাল প্লাটফর্ম তৈরি করে এবং সেটাই হচ্ছে গুগল প্লাস।
কিন্তু দুঃখজনক ব্যাপার হচ্ছে এটি ফেসবুক বা টুইটারের মতো জনপ্রিয়তা লাভ করেনি। একদিকে অজনপ্রিয় (ফেসবুকের তুলনায়) অন্যদিকে গুগল প্লাস হ্যাকিং বা তথ্য চুরির শিকার হয়ে তার জনপ্রিয়তা আরো হারায়।

৮ অক্টোবর ২০১৮, তে গুগল প্লাস কর্তৃপক্ষ জানায়, তৃতীয় পক্ষের কাছে পাঁচ লাখের বেশি গুগল প্লাস ব্যবহারকারীর তথ্য চলে গেছে তাই তারা গুগল প্লাসের গ্রাহক সংস্করণ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।

যদিও গুগল ফেসবুকের সঙ্গে পাল্লা দিতে বেশ কয়েকবার নতুন সামাজিক যোগাযোগের প্ল্যাটফর্ম চালু করে কিন্তু সবশেষে ২০১১ সালের গুগলের এ সাইটও অতীতের সোশাল সাইটের মতো জনপ্রিয়তা পায়নি।

তথ্য বেহাতের খবর প্রকাশের পর গুগল প্লাসের শেয়ারের দাম ১ শতাংশ কমে গিয়ে প্রতিটি শেয়ারের দাম দাঁড়িয়েছিলো ১১৫৫.৯২ মার্কিন ডলার।

গুগল প্লাস জানিয়েছে, গুগল প্লাস গ্রাহক পণ্য হিসেবে বন্ধ করে দেওয়া হলেও এন্টারপ্রাইজ ব্যবহারকারীদের জন্য চালু থাকবে। বন্ধ হওয়ার আগে থেকেই গুগল প্লাস ব্যবহারকারীরা ৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ থেকে আর নতুন কোনো প্রোফাইল, পেজ, কমিউনিটি ও ইভেন্ট তৈরি করতে পারবেন না।

তবে গুগল জানিয়েছে, গুগল প্লাস বন্ধ হয়ে গেলেও গুগল ফটোতে ব্যাকআপ হিসেবে রাখা ছবি ও ভিডিও আগের মতোই থাকবে।

আগামী ২রা এপ্রিল ২০১৯ বন্ধ হয়ে যাবে গুগল প্লাস।

Saturday, February 2, 2019

মৎস কন্যাদের যতো কথা!

সমুদ্রের বড়বড় ঢেউ ভেঙ্গে জাহাজ ছুটে চলছিলো।
হাতে এক কাপ গরম চা নিয়ে জাহাজের ছুটে চলা দেখছিলেন জহাজের ক্যাপটেন।

হঠাৎ তিনি দেখতে পান জাহাজের একটু দূরে একটি মেয়ে সাতরে বেড়াচ্ছে যারর অর্ধেক মাছ এবং অর্ধেক মেয়ে!

মৎস কন্যাদের যতো কথা। 

জানি আপনি হয়তো ভাবছেন এটা কোন গল্পের অংশ। কিন্তু না, এটা বিশ্ববিখ্যাত নাবিক কলাম্বাসের অভিজ্ঞতা যা তিনি তার নোটবুকে লিখে গেছেন।


আজকে আমরা জানবো নাবিক কলাম্বাসের দেখা সেই অর্ধ মানুষ এবং মাছের মত দেখা অদ্ভুদ প্রাণীটিকে নিয়ে।

কি সেই প্রাণী যার অর্ধেক মাছ এবং অর্ধেক মানুষ !?

তাহলে চলুন জেনে নিই।

অর্ধমানবী অর্ধমাছ দেখতে প্রাণীটিকে বলা হয় মৎসকন্যা। দেখতে যাদের উপরের অর্ধেক হল অপরুপ যুবতী।

 প্রাচীন বিভিন্ন উপকথায় মৎসকন্যাদের সম্পর্কে জানা যায়।

মৎসকন্যাদের নিয়ে প্রথম বর্ননা পাওয়া যায় প্রাচীন অ্যাসিরিয়াতে। অর্থাৎ আজ থেকে প্রায় ১০০০ খিঃ পূর্বে!



প্রাচীন অ্যাসিরিয়াতের বর্ননা থেকে জানা যায় "দেবী অ্যাটারগাটিস ভূল করে যখন তার মানব প্রেমিক কে হত্যা করে ফেলেন লজ্জায় দুঃখে পানিতে পানি ঝাপঁ দেন আত্নহত্যা করার জন্য। কিন্তু দেবী অ্যাটারগাটিস এত সুন্দরী ছিলেন যে সমুদ্র দেবতা পসাইডন তাকে মৃত্যর বাজ্যে যেতে না দিয়ে অর্ধমানবী অর্ধমাছ রুপে নব জীবন দান করেন। একই বর্ননা পাওয়া যায় ব্যাবিলনীয়
উপকথায় দেবী “ইয়া” কে নিয়ে। গ্রীক উপকথায় এই অ্যাটারগাটিসই আবার “আফ্রোদিতি” নামে পরিচিত।

এটা আমার বানানো গল্প নয় এটা Wikipedia এর তথ্য। 

উপকথাগুলো থেকে জানা যায় মৎসকন্যাদের গানের গলা এতই চমৎকার ছিল যে সেই গান নাবিকদের কানে পৌঁছালে নাবিকরা সেই গানের উৎসের দিকেই ধাবমান হতো।
আর বেশীরভাগ গানের উৎস থাকতো আশেপাশের কোন দূর্গম দ্বীপ।




নাবিকরা যখন গানের উৎসের দিকে ছুটতো তখন দ্বিপে ধাক্কা লেগে তাদের জাহাজ চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে সাগরে পতিত।

কোন কোন উপকথা অনুযায়ী এই মৎসকন্যারা মানুষদের প্রতি ভীষন বিদ্বেষপূর্ন আবার কোথাও কোথাও কোথাও প্রেমময়।

তবে যাই হোক না কেন, যেসব নাবিকেরা এই মৎসকন্যানের ফাঁদে একবার পড়তো শেষ পর্যন্ত তারা মারা যেতো।  সহজে বলতে গেলে মৎসকন্যারা ছিলো বর্তমান যুগের মেয়েদের মত ডেন্জারাস। :-P একারনেই বলি ভাই এদের ফাঁদে পাঁ দিবেন না, দিলে জীবন শেষ। 




বর্তমান সময়ে মৎসকন্যা দেখার দাবী:

 রুপকথা তো অনেক শুনলেন। এখন দেখি এই কল্পনাকে উঁকি দিয়ে বর্তমানে বা নিকট অতীতে কে কে এই মৎসকন্যাদের দেখেছিলেন বলে দাবী
করেছেন?

কাহিনী ১: 
১৮১১, অক্টোবর ২৯ ক্যাম্পবেল টাউন, সাগর কুলে ছোট্ট এক স্কটিশ গ্রাম জন মেসিইক ছুটতে ছুটতে শেরিফ কে এসে বলেন এইমাত্র সে সমুদ্রতটে এক মৎসকন্য বসে থাকতে দেখেছে।

কাহিনী ২:
এ গল্প এডিনবর্গ ইউনিভার্সিটির ন্যাচারাল হিষ্ট্রির প্রফেসর ম্যাক্লিহানকে শুনান এডমন্ডসন নামে এক জাহাজের কাপ্তান।
১৮৩৩, আইল অভ ইয়েল, ছয়জন জেলে নাকি এক মেয়ে কে তাদের জালে আটকায়, তিনফুট লম্বা ওই মেয়ে নাকি জেলেদের নৌকায় উঠার পর তিন ঘন্টা ছিল, সে নাকি জেলেদের সাথে কোন প্রতিরোধ এ যায়নি। শুধু আস্তে আস্তে ফোপাচ্ছিল। ওই মেয়ের নাকি কোন মাছের মত লেজ ছিল না। কিন্ত তার দেহে সামান্য আঁশ ছিল। জেলেরা মারাত্নক ভয় পেয়ে যায় নৌকা আর সাগরের মধ্যে তারা আর
প্রতিবন্ধকাতা তৈরি করেনা ইশারায় মেয়েটিকে চলে যেতে বলে।

কৃতজ্ঞতার দৃষ্টি হেনে মেয়েটি নিখুত এক লাফ দিয়ে সাগরে চলে যায়। সাগরে নেমে কিছুক্ষন পর আবার ঊঠে ঢেউ এর উপর ভেসে ভেসে তাদের কৃতজ্ঞতা জানায় এবং এক সময় সাগরে হারিয়ে যায়।

কাহিনী ৩:
ক্রিস্টোফার কলম্বাস এর লগ বুক থেকে জানা যায় তিনি যখন ক্যারিবিয়ান দ্বীপের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন তখন নাকি এক অর্ধমানবী অর্ধমাছ কে সমুদ্রবেলায় বসে থাকতে
দেখেছেন।

কাহিনী ৪:
১৮৫৭ সালের জুন ৪, ব্রিটিশ শিপিং গ্যাজেট এ লেখা আছে এক স্কটিশ নাবিক নাকি সাগরে মধ্যে ঢেউ এর উপর এক কিশোরী কে বসে থাকতে দেখেছে।

কাহিনী ৫:
১৯৪৭ সালে ৮০ বছর বয়স্ক একজন জেলে নাকি উপকুল থেকে ২০ গজ দূরে এক মৎসকন্যা দেখেছিলেন যে নাকি গলদা চিংড়ির দাড়া দিয়ে চুল আচড়াচ্ছিলো, কিন্ত যখনই ওই মৎসকন্যা বুজতে পারল কেউ তাকে দেখছে ওমনি টুপ করে পানির মধ্যে তলিয়ে যায়।




এই ছিলো আজকের মৎস কন্যা নিয়ে আমার লেখা। 

Friday, January 25, 2019

দাউদ ইব্রাহিম: অদেখা সম্রাজ্যের রাজা!

সবাই তাকে ভয় পায়, তার নাম শুনলে বাঘে-মহিষে এক ঘাটে জলও খায়।

এফবিআই এবং ইন্টারপোলের মোস্ট ওয়ান্টেড ক্রিমিনাল লিস্টে তার নামটা সবসময় শীর্ষে থাকে। তিনি হচ্ছেন দাউদ ইব্রাহিম

 ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘’ হন্যে হয়ে খোজে তাকে, কখনো সে অমুক জায়গায় আছে, তমুক জায়গায় আছে, অথচ তার খোঁজে সেখানে হানা দিলে লোকটার চুলের নাগালও পাওয়া যায় না।

শুধুকি ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা? সয়ং ইন্টারপোল এবং আমিরিকান শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থা FBI কে পর্যন্ত বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে আড়ালে রাজত্ব করে যাচ্ছে দাউদ।

অদেখা সম্রাজ্যের রাজা দাউদ ইব্রাহিম :আরো জানি
তবে ভারতের অভিযোগ দাউদ ইব্রাহিমকে প্রতক্ষভাবে সহায়তা করছে পাকিস্তান এবং পাকিস্তানি সামরিক এবং গোয়েন্দা বিভাগ।

চলুন যেনে নেই কে এই দাউদ ইব্রাহিম?

নাম তার দাউদ ইব্রাহিম, ভারত থেকে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্যের আন্ডারগ্রাউন্ডের অবিসংবাদিত কিং।  ‘ডন’ শব্দটা যার নামের পাশে সবচেয়ে মানানসই!

দাউদের জন্ম ১৯৫৫ সালে ভারতের মুম্বাইয়ের ডংরিতে। দাউদ ইইব্রাহিমের বাবা ইব্রাহিম কসকর ছিলেন অত্যন্ত সৎ একজন পুলিশ কনস্টেবল।




ইব্রাহিম কসকর ছিলের ভীষণ ধর্মভীরু। যার কারনে নবী দাউদ (আঃ) এর নামে ছেলের নাম রেখেছিলেন তিনি।

সেই দাউদ ইব্রাহিম আজ  হয়ে উঠেছেন জগদ্বিখ্যাত এবং কুখ্যাতই মাফিয়া ।

দাউদ ইব্রাহিমের পরিবার।


মেয়ের সাথে দাউদ ইব্রাহিম

দাউদের স্ত্রীর নাম মবজবীন ওরফে জুবিনা জরিন।  একমাত্র ছেলে মোইন নওয়াজ। দাউদের তিন মেয়ে
১: মাহরুখ 
২: মারহীন
৩: মারিয়া (মারিয়া ১৯৯৮ সালে
মারা যায়)

দাউদ ইব্রাহীমের জীবনি

দাউদ সর্বপ্রথম  অপরাধ জগতে আসে করিম লালা গ্যাংয়ের হাত ধরে। করিম লালা ছিলো তখনকার মুম্বইয়ের কুখ্যাত ডন।

কিন্তু আশির দশকে আন্ডারওয়ার্ল্ডের কুখ্যাত নাম হয়ে যায় দাউদ ইব্রাহিম।

মুম্বাই রেলস্টেশনে এক লোকের টাকা ছিনতাইয়ের মধ্যে দিয়ে শুরু হয় দাউদ ইব্রাহিমের অপরাধ জগৎ। বড় ভাই শাবির ইব্রাহিমের হাত ধরে এই জগতে আরো ঘনিষ্ঠভাবে প্রবেশ করে দাউদ।

তৎকালীন আফগানিস্তান থেকে আসা পাঠান গ্যাঙের সঙ্গে দাউদের দলের লোকেদের প্রায়ই ঝামেলা হয়।
পাঠানদের ভাড়া করা গ্যাংস্টার মানিয়া সুব্রের হাতে খুন হলো দাউদের ভাই সাবির ইব্রাহিম কাসকার।
শুরু হলো রক্তের খেলা।  দাউদ মরিয়া হয়ে মাঠে নামলো ভাইয়ের খুনের বদলা নিতে, মুম্বাই সাক্ষী হলো ভারতের ইতিহাসের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী গ্যাংস্টার ফাইটের।

সেই রক্তক্ষয়ী গ্যাংদের যুদ্ধে পাঠান আর সুব্রে গ্যাঙের প্রায় সব সদস্যকে দাউদ মুম্বাইছাড়া করেছিল।
প্রাণ বাঁচাতে তাদের কেউ কেউ যোগ দিয়েছিল দাউদের দলে।

পুলিশকে প্রচুর টাকা খাইয়ে মানিয়ে সুব্রেকে এনকাউন্টারে হত্যা করায় দাউদ।

মুম্বাইতে দুই নম্বরী কিছু করতে গেলে দাউদের অনুমতি নিয়ে করা লাগতো , নাইলে কখন যে ঘাড় থেকে মাথাটা আলাদা হয়ে যাবে সেটা দাউদ ছাড়া কেউ জানবেও না!

দাউদের দেশ পলায়ন।

আশির দশকের শেষদিকে মুম্বাইতে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু হয়। ছিছকে চোর থেকে শুরু করে  শীর্ষ ক্যাডারদের পর্যন্ত  ধরা পড়তে হয়েছিলো পুলিশের জালে।
অবস্থা বুঝে ভারত ছাড়লো দাউদ, পাড়ি দিলো মাফিয়াদের অভয়ারণ্য দুবাইতে।

দেশের বাহিরে থেকে আন্ডারগ্রাউন্ড নিয়ন্ত্রন করতো এই দাউদ ইব্রাহিম।

দাউদের এ সম্রাজ্য পরিচালনা করতো তার ডান হাত খ্যাত "ছোট শাকিল" এবং তার বোন "হাসিনা"

দাউদ ইব্রাহিমের অদেখা সম্রাজ্য।

ভারত ছেড়ে দুবাই চলে যাওয়ার পর দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে বড় অপরাধ সিন্ডিকেট "ডি কোম্পানি" গড়ে তোলেন দাউদ ইব্রাহিম।

দাউদ ইব্রাহিমের অদেখা সম্রাজ্য 
জানা যায় তার এই "ডি কম্পানি" তে প্রায় ৫ হাজার সক্রিয় সদস্য কাজ করতো।
খুন, চাঁদাবাজি, অস্ত্র পাচার, মাদক চোরাচালান, গুম এবং ম্যাচ ফিক্সিং পর্যন্ত চলতো দাউদের এই "ডি কম্পানির" হাত ধরে।
এছাড়াও নামে বেনামে বেটিং ও বলিউডের ছবি প্রযোজনা করত দাউদ ইব্রাহিম।
বলিউডের অনেক সিনেমায় দাউদ নামে বেনামে অর্থ বিনিয়োগ করেছিলেন বলে শোনা যায়।
সালমান খানের শুরুর দিককার বলে একটি সিনেমা ‘চোরি চোরি চুপকে চুপকে’ দাউদের প্রযোজনায় নির্মিত হয়েছিল বলে গুজব আছে। বলিউডের অনেক নায়িকার সঙ্গে তার অন্তরঙ্গতার গুজবও শোনা গেছে নানা সময়ে।
ধারনা করা হয় ভারত-পাকিস্তান আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের অনেক খেলোয়াড়ের সঙ্গেই সুসম্পর্ক ছিল তার, দাউদের হয়ে ম্যাচে ফিক্সিং করেছেন অনেক ক্রিকেটারই, কেউ স্বেচ্ছায়, কেউবা বাধ্য হয়ে।
শিপিং, এয়ারলাইন্স কিংবা রিয়েল এস্টেট ব্যবসা, প্রতিটা জায়গাতে টাকা খাটিয়েছে সে, তুলে নিয়েছে মুনাফা। ফুলেফেঁপে উঠেছে তার ব্যাংক ব্যালেন্স।
তার বর্তমান সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৭.৫ হাজার কোটি রুপী। (তথ্য সূত্র : ইউকিপিডিয়া)

অপরাধ জগৎ এ দাউদের যত রেকর্ড

দাউদ আছে ইনাটারপোলের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায়।
মার্কিন সাময়িকী ফোর্বস-এর বিশ্বের
শীর্ষ পলাতক অপরাধীদের ২০১১ এর তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছেন দাউদ ইব্রাহিম। (২০০৮ সালেও তিনি
ফোর্বস-এর তালিকায় চতুর্থ স্থানে ছিলেন।)
এছাড়া ভারতীয় পুলিশের পলাতক অপরাধীদের তালিকায়ও তার নাম শীর্ষে। (তথ্যসূত্র : ইউকিপিডিয়া)

দাউদকে ধরতে যত ব্যার্থ প্রচেস্টা

দাউদকে ধরতে নানান সময়ে নানায় জায়গায় অভিযান চালিয়েছিলো ভারতীয় সামরিক বাহিনী, ইন্টারপোল এবং FBI.

কিন্তু কখনো দাউদকে ধরাতো দূরে থাক দাউদের কাছেও ঘেষতে পারিনি তারা!

দাউদের মেয়ে মাহরুখ ইব্রাহিমের বিয়ে হয়েছিল পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার জাভেদ মিয়াদাদের ছেলে জুনাইদ মিয়াদাদের সঙ্গে।  এই বিয়েতে ইন্টারপোল, এফবিআইয় এবং "র" এর তীক্ষ্ণ নজরদারী ছিল। সবাই জানতো দাউদ অবশ্যই আসবেন এখানে। সক্রিয় ছিল FBI, ইন্টারপোল এবং ভারতের গোয়েন্দা বিভাগের প্রায় দুইশোর বেশী এজেন্টও।

কিন্ত আন্ডারগ্রাউন্ডের এই রাজাকে ধরাকি এতই সোজা?!

সবার অগোচরে পাকিস্তানি গোয়েন্দাদের সহায়তায় দাউদ এসে তার মেয়ে আর মেয়ে জামাইকে আংটি পরিয়ে চলে গিয়েছিল, তার নাগালে ঘেঁষা তো দূরের কথা, দাউদ এসেছে এমন খবরটাও সঙ্গে সঙ্গে পায়নি এদের কেউ!

দাউদকে নিয়ে যত ছবি।

দাউদ ইব্রাহিমের অপরাধ জীবনের ঘটনা নিয়ে বলিউডে কয়েকটি চলচ্চিত্রও নির্মাণ করা হয়েছে। যাদের মধ্যে আছে


  • ব্ল্যাক ফ্রাইডে (২০০৪)
  • ডি (২০০৫)
  • শূটআওট অ্যাট লোখান্ডওয়ালা (২০০৭)
  • ওয়ান্স আপন অ্য টাইম ইন মুম্বাই (২০১০)
  • ওয়ান্স অ্যাপন অ্য টাইম ইন মুম্বাই দোবারা (২০১২)
  • শ্যূাটআউট অ্যাট ওয়াড়ালা (২০১৩) 


Wednesday, January 16, 2019

ব্লু হোয়েল সুইসাইড গেমের যতো অজানা কথা!

দিন যত এগুচ্ছে পৃথিবী তত ডিজিটাল হচ্ছে। আর তারসাথে পাল্লা দিয়ে উন্নত হচ্ছে প্রযুক্তি।
আগে যেখানে ছেলেমেয়েরা সময় কাটানোর জন্য বাড়ির মানুষের সাথে বসে আড্ডা দিতো অথবা খেলার মাঠে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতো এখন সেরকম দৃশ্য খুবই বিরল।

কারন এখন সবাই সময় কাটানোর জন্য বেছে নিয়েছে অনলাইন বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলো।
আর কেউ কেউ মাঠে খেলার বদলে বেছে নিয়েছে অনলাইনই  গেমস্।
ব্লু হোয়েল সুইসাইড গেম

জ্বি আজ আমরা সেই রকমই একটি গেমস্ নিয়ে কথা বলবো। শুরুতেই বলে নিই গেমস্ টির নাম " ব্লু হোয়েল " (Blue Whale) বা অনেকে বলে থাকেন "ব্লু হোয়েল সুইসাইড গেমস্"  (Blue Whale Suicide Game)।

প্রথমে জেনে নিই গেমস্ টির নামকরন সম্পর্কে।

ব্লু হোয়েল গেমস্ এর "ব্লু হোয়েল" অংশটি নামকরন করা হয় সমুদ্রের নীল তিমির নাম অনুযায়ী (blue whale এর বাংলা নীল তিমি)।
যেহেতু নীল তিমি হচ্ছে আত্তহত্যার প্রতীক এবং গেমস্ টির গেমারদেরও সর্বোশেষ পরিনতি অাত্তহত্যা তাই এর গেমস্ টির নাম "ব্লু হোয়েল বা ব্লু হোয়েল সুইসাইড গেমস্"।

ব্লু হোয়েল গেমসটি তৈরি হয় রাশিয়াতে এবং যদিএ বর্তমানে তা অনেকগুলো দেশে ছড়িয়ে গেছে!

গেমস্ টি কিভাবে খেলে?

ব্লু হোয়েল গেমস্ টিতে রয়েছে ৫০ টি লেভেল যা গেমার্সকে ৫০ দিনে খেলতে হবে।

তবে শুনতে সহজ হলেও কাজে ততটা সহজ নয়। আর এর লেভেলগুলো এতটাই কস্টকর যে সবাই এগুলোকে আত্তনির্যাতনমূলক লেভেল বলে।

আর বলবেইনা কেন? কিছু লেভেলে গেমার্সকে এমনই সব কাজ করতে হবে যা সত্যিই ভয়ংকর এবং শরীর শিউরে উঠার মত। যেমন : শরীরে ৫০ টি সুই ঠুকিয়ে দেয়া, হাত কেটে ক্ষতবিক্ষত করে ফেলা ইত্যাদি। এবং সর্বশেষ (৫০ তম)  লেভেল হচাছে আত্তহনন বা আত্তহত্যা।

নীল তিমির আকারে হাত কেটে  গেম পেজে পোস্ট দেয়া একটি ছবি

এখন আপনার মনে সহজেই প্রশ্ন উঠতে পারে কোন মানুষ কেন এমন পাগলামি করবে? কেনইবা নিজের শরীর নিজে ক্ষতবিক্ষত করবে?

তাহলে আপনার প্রশ্নের উত্তর শুনুন। গেমস্ টার প্রথম কয়েকটি লেভেল হবে অনেক মজাদার, যেমন আপনাকে ভোর ৪ টায় উঠে পড়তে বসতে হবে, রাত ২:৩০ এ উঠে ভূতের Horror Movi দেখতে হবে,  গভীর রাতে একা একা হাটতে হবে ইত্যাদি। যার ফলে একজন গেমার সহজেই আকৃষ্ট হতে থাকে এবং ধীরে ধীরে লেভেলগুলোও কঠিন হতে থাকে।

 এবং গেমস্ টির বিশেষ একটি নিয়ম হচ্ছে প্রতিটা লেভেল শেষ করে সেই লেভেলে করা কাজগুলো গেমের নির্দিষ্ট পেজে পোস্ট দিতে হবে এবং আপনি লেভেলটি জয়ী হলে আপনাকে পরবর্তী লেভেলের কাজ দেয়া হবে।

গেমটির জন্য যত মৃত্যু! 

সাম্প্রতিককালে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে একাধিক দুর্ঘটনা এবং আত্মহত্যার ঘটনায় নাম জড়িয়েছে ‘ব্লু হোয়েল সুইসাইড গেম’ নামের এই সোশ্যাল গেমিং-এর। এক পরিসংখ্যানগত তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় যে, গত তিন মাসে রাশিয়া এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় মোট ১৬ জন তরুণী আত্মহত্যা করেছেন। এতো কম সময়ের মধ্যে এত জন অল্পবয়সী মেয়ের আত্মহত্যার ঘটনা বিস্মিত করেছিল পুলিশকেও। এদের মধ্যে সাইবেরিয়ার দুই স্কুলছাত্রী য়ুলিয়া কনস্তান্তিনোভা (১৫) এবং ভেরোনিকা ভলকোভা (১৪) একটি বহুতলের ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করে বলে পুলিশ রিপোর্ট থেকে জানা যায়। তদন্তকারী অফিসারদের তখন মনে হয়েছিল, এই সমস্ত আত্মহনন হয়তো বিচ্ছিন্ন কোন ঘটনা নয়, হয়তো কোনও গোপন যোগসূত্র রয়েছে এদের মধ্যে। মৃত্যুর পূর্বে য়ুলিয়া তার সোশ্যাল পেইজে একটি তিমির ছবি

পোস্ট করে লিখে যায় ‘সমাপ্ত’। তদন্তে নেমে পুলিশের নজরে আসে এই ‘ব্লু হোয়েল সুইসাইড গেম’। পুলিশ আরো ধারণা করতে থাকে সারা বিশ্বে অন্তত ১৩০ জন মানুষের আত্মহননের জন্য পরোক্ষে দায়ী এই অনলাইন গেইম।

 শুধু এটাই নয়, গত কয়েকদিন আগেও  ভারতের এক কিশোর পাঁচ তলা থেকে ঝাপ দিয়ে আত্তহত্যা করে । এই ব্লু হোয়েল সুইসাইড গেমের কারনে।

পুলিশের ধারণা, ইদানিংকালে আত্মঘাতী ১৬ জন তরুণীই এই গেমের ৫০তম টাস্কের শর্ত অনুযায়ী আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছে। রাশিয়া পুলিশের আশঙ্কা, সাম্প্রতিককালে গোটা বিশ্বে আত্মঘাতী হওয়া অন্তত ১৩০ জনের আত্মহননের পেছনে রয়েছে এই ‘ব্লু হোয়েল সুইসাইড গেম’।

আন্তর্জাতিক মিডিয়াকে রাশিয়ার পুলিশ জানায়, য়ুলিয়া এবং ভেরোনিকাসহ আত্মহত ১৬ তরুণীই সুইসাইড গেম-এ আসক্ত ছিল। তারা একেকজন ছিল নিষ্ঠাবান খেলোয়াড়। প্রায় উন্মাদনার পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল তাদের জীবনে এই খেলা। খেলায় নিজেকে জয়ী দেখতে চাওয়ার নেশায় তারা নিজেকে শেষ করে ফেলতেও দ্বিধাবোধ করেনি। প্রত্যেকে প্রতিযোগীই খেলার ৫০তম লেভেল পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন। এই ৫০তম লেভেলেই প্রতিযোগীকে আত্মহত্যা করতে হয়। আর এভাবেই এসব তরুণী আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।

আরো পড়ুন:


তদন্তে নেমে পুলিশ হন্যে হয়ে খুজতে থাকে ব্লু হোয়েল গেমের পেজটির এডমিনকে। পরিবর্তীতে জানা যায় সেই পেজের প্রধান এডমিন এবং গেমটির আবিষ্কারকের নাম  "ফিলিপ"। এরপর পুলিশ হন্য হয়ে খুজতে থাকে এই ফিলিপকে।

 কিন্তু সকলের মনেই প্রশ্ন জাগে কে এই ফিলিপ ? এবং কেনই বা তার জন্য নিজের প্রাণ দিয়েছেন তরুণ-তরুণীরা?

রাশিয়ার পুলিশের প্রাপ্ত সূত্র হতে জানা যায়,ফিলিপ ছিল রাশিয়ারই একজন বাসিন্দা যার বয়স ২১ বছর। সে ভিকোন্তাক্তে নামক সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘ব্লু হোয়েল সুইসাইড গেম’ নামের এই সোশ্যাল গেমিংটির পেজের একজন অ্যাডমিন ছিল। অবশেষে অনেক তদন্ত চালিয়ে পুলিশ ফিলিপ-কে গ্রেফতার করে।
ব্লু হোয়েলের আবিষ্কারক ফিলিপ

পুলিশের তীব্র জেরায় এই গেমর কথা স্বীকারও করে নেয় ফিলিপ। কিন্তু সে এইসব মৃত্যুর দায় নিতে অস্বীকার করে এবং সে কোনোভাবেই তার এই অনলাইন গেমকে অপরাধ বলে মানতে রাজি নন।

ফিলিপের বক্তব্য, সে তার এই খেলার মধ্য দিয়ে সমাজের ‘শুদ্ধিকরণ’ করছে। ফিলিপ গর্বের সাথে বলতে থাকে, সমাজে যাদের বেঁচে থাকা উচিত নয়, তাদেরকে সমাজ থেকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়াই ছিল তার লক্ষ্য।
আরো পড়ুন:


ফিলিপের মুখে এই সমস্ত কথা শুনে পুলিশের মনে তার মানসিক সুস্থতা নিয়েই সন্দেহ জাগে। ফিলিপ বর্তমানে সেন্ট পিটার্সবার্গের ক্রিস্টি জেলে বন্দী অবস্থায় অাছে।

কিন্তু কথা হচ্ছে, এডমিন গ্রেফতার হলেই সোশ্যাল মিডিয়ার একটি পেজ বন্ধ হয়ে যায় না। ফিলিপকে বন্দী করা গেলেও তার পেজের কার্যক্রম থেমে থাকেনি এবং পেজটি বন্ধও হয়নি। ফলে পেজটি নিয়ে পুলিশের মনে চিন্তার রেখা থেকেই যাচ্ছে। বর্তমানে ‘ব্লু হোয়েল সুইসাইড গেম’টি রাশিয়ার সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তরুণ-তরুণীদের মধ্যেও দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এর ফলে চিন্তা বাড়ছে ইউরোপের একাধিক মনোবিজ্ঞানী এবং সমাজবিজ্ঞানীদের। স্কুল কলেজ থেকে প্রচারণা চালানো হচ্ছে এবং অভিভাবকদের সর্তক করে দেয়া হচ্ছে যেন তারা তাদের সন্তানদের এই গেম থেকে দূরে রাখে। তাই সুইসাইড গেমের এই পেজটিকে নিষিদ্ধ করার কথাই ভাবছে পুলিশ-প্রশাসন।

সবকিছুই কেমন অদ্ভুত মনে হয় না? একটা সাধারণ গেম কীভাবে উচ্ছল কিশোরীর জীবন কেড়ে নিচ্ছে! মনোবিশেষজ্ঞরাও বিষয়টি নিয়ে বেশ চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। কেন একটা গেমের কারণে এতগুলো ছেলে মেয়ে আত্মহত্যা করছে তা খুবই উদ্বেগজনক । বিষয়টির গভীরে অনুসন্ধানের জন্য রাজনীতিবিদদের তারা বিশেষভাবে অনুরোধ করেছেন।

জীবনের ব্যস্ততায় আমরা কমবেশি সকলেই একটু একটু করে মনোবেদনায় আক্রান্ত হচ্ছি, তা না হলে আমাদের মধ্যকার সোশ্যাল ভেল্যুগুলো কেন দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে? কেন আমরা আর সুখে, দুঃখে, আনন্দ, বেদনায় নিজেকে আর আন্দোলিত করতে পারি না? পরিবারের বা সমাজের সকলের মাঝের বন্ধন কেন আস্তে আস্তে ফিকে হয়ে যাচ্ছে? এসবই কি প্ররোচনা যোগাচ্ছে এমন গেম খেলতে? এবার হয়তো সবার ভাবার সময় এসেছে।

Sunday, January 6, 2019

ক্যানিবালিজম : মানুষ যখন মানুষের মাংস খায়!

আলিফ লায়লা, হাতিম, টারজান এবং অন্যন্য সিরিজগুলো যদি দেখে থাকেন তবে নিশ্চই মানুষের মাংস খাওয়ার ব্যাপারগুলো আপনার চোখে পড়েছে।

প্রাচীন রুপকথায় বিভিন্ন দৈত্য দানব বা অদ্ভুদ প্রানীরা মানুষের মাংস খাওয়ার কাহিনী উঠে এসেছে।

এটা কেবল রুপকথাই। কিন্তু যদি এমন হয় যে স্বয়ং মানুষ হয়েও মানুষের মাংস খায় তবে চোখ কপালে উঠা অস্বাভাবিক কিছু না।
ক্যানিবালিজম: মানুষ যখন মানুষ খায়! 
জ্বি, এটা কোন রুপকথা না। বর্তমান এবং অতীতে এমন অনেক ঘটনা আছে যেগুলা জানান দেয় স্বয়ং মানুষ মানুষের মাংস খায়। কখনোবা মৃতদের মাংস কখনোবা হিংস্রতার সীমা ছাড়িয়ে জীবিতদের মাংস!

বিভিন্ন বই বা কাহিনীতে মানুষখেকোদের বর্ণনা থাকলেও একবিংশ শতাব্দিতেও পৃথিবী থেকে এদের অস্তিত্ব মিলিয়ে যায়নি।
বিশ্বে বেশ কিছু দুর্গম স্থান এখনও রয়েছে, যেখানে সভ্যতার আলো পৌঁছায়নি। আবার কোথাও কোথাও এই ভয়ানক ব্যাপারটির অবসান ঘটেছে মাত্রই। আজ আলোচনা করব এমন কিছু জায়গা, ঘটনা এবং সম্প্রদায় নিয়ে।

১. ভারত:  ভারতের বারাণসীতে এখনও একটি সম্প্রদায়ের মধ্যে মানুষ খাওয়ার প্রচলন রয়েছে। আঘোরি সাধু নামে বিশেষ এক সন্নাসী সম্প্রদায় রয়েছে যারা মৃত মানুষের মাংস খেয়ে থাকে। শুধু মৃত মানুষের মাংসই নয় যত খারাপ এবং নিম্নপর্যায়ের খাদ্যবস্তু আছে সবই খায় এরা। ময়লা আবর্জনা থেকে শুরু করে মৃত মানুষের মাংস পর্যন্ত। বর্নিত আছে এটা মৃত মানুষের দেহের উপর বসে ধ্যান করে এবং তাদের শরীরের মাংস খায়।
অঘোরি সাধু

২. পাপুয়া নিউগিনি: দেশটির পশ্চিমে কোরোয়াই উপজাতির মানুষেরা প্রতিশোধ হিসেবে মানুষের মাংস খেয়ে থাকে। ইন্দোনেশিয়ার সীমান্তবর্তী অঞ্চলটিতে এখনও এই সম্প্রদায়ের অন্তত ৩ হাজার মানুষ রয়েছে। ভিন্ন সম্প্রদায়ের সাথে সংঘাত ঘটলে নিজেরে ক্ষমতা দেখাতে এরা অন্য সম্প্রদায়ের লোকেদের ধরে এনে তাদের মাংস খায়। মাঝে মাঝে দলনেতা খাওয়ার মতো মানুষের সন্ধান না পেলে নিজেদের আত্মীয়-স্বজনের মাংসও খেয়ে থাকে। এর মাঝে এরা নিজেদের মধ্যে নিজেদের ক্ষমতা জাহিরের প্রচেষ্টা চালায়।
কোরোয়াই উপজাতি

৩. সিগাটোকা, ফিজি: দেশটিতে একসময় মানুষখেকোরা থাকলেও এখন তাদের দেখা পাওয়া যায় না। ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে এই অঞ্চলে চন্দন ব্যবসায়ীরা আসা যাওয়া শুরু করলে আদিবাসীদের মাঝেও সভ্যতার আলো পৌঁছাতে থাকে। যদিও বলা হয় এই দ্বীপাঞ্চলটির কোথাও কোথাও এখনও মানুষ খাওয়ার প্রবণতা মিলিয়ে যায়নি। তবে এটা এখন কেবল কল্পনা মাত্র। তবে হ্যা, সিগাটোকার নাইহেহে গুহায় যেসব নিদর্শন মিলেছে, তাতে স্পষ্টই বোঝা গেছে যে মানুষখেকোরা আসলে মিলিয়ে যায়নি।

৪. কঙ্গো: আফ্রিকার মধ্যাঞ্চলীয় দেশটির আদিবাসীদের মাঝে এখনও মানুষ খাওয়ার প্রবনতা মিলিয়ে যায়নি। প্রকাশ্যে না হলেও গোপনে মানুষের মাংস খাওয়ার অভ্যাস আছে তাদের। ২০০৩ সালের গোড়ার দিকে কঙ্গোর বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে মানুষ খাওয়ার অভিযোগ তোলে খোদ জাতিসংঘ। দ্বিতীয় কঙ্গো যুদ্ধের পর সরকারের এক প্রতিনিধি তাদের কর্মীদের জীবন্ত ছিড়ে খাওয়ার জন্য বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পর্যন্ত তোলেন।

৫. জার্মানি: আশ্চর্য হলেও সত্যি, জার্মানিতে মানুষের মাংস খাওয়া কোনো অপরাধ নয়। আর সেজন্যই ২০০১ সালের মার্চে আর্মিন মাইভাস নামের এক জার্মান নাগরিক রীতিমতো বিজ্ঞাপন দিয়ে মানুষ খেলেও তার বিরুদ্ধে খুনের মামলা ছাড়া কোনো অভিযোগ আনেনি পুলিশ। মানুষ খাওয়ার উদ্দেশে ‘দি ক্যানিবাল ক্যাফে’ নামের একটি ওয়েবসাইটে সুঠামদেহী, জবাইযোগ্য এবং আহার হতে চাওয়া মানুষের সন্ধান চেয়ে বিজ্ঞাপন দেন আর্মিন। অনেকে আগ্রহী হলেও বার্ন্ড জুর্গেন ব্রান্ডিসকে পছন্দ করেন আর্মিন। এরপর জার্মানির ছোট্ট গ্রাম রটেনবার্গে দুজনে মিলিত হন। একপর্যায়ে ব্রান্ডিসকে হত্যা করে প্রায় ১০ মাস তার মাংস খান আর্মিন মাইভাস। ২০০২ সালে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বিচারে তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়।

এটাতো গেলে ঘটনা। তবে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন কমান্ডো ফোর্সকে দূর্গম অঞ্চলে টিকে থাকার জন্য কাচা মাংস খাওয়ার ট্রেনিং দেয়া হয়ে থাকে।