Saturday, April 7, 2018

হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার গল্প।

হ্যামিলিনের বাঁশিওয়ালার গল্পটি পৃথিবীবিখ্যাত। আজ থেকে প্রায় ৭০০ বছরের বেশি আগে জার্মানির ছোট্ট শহর হ্যামিলিনে ঘটেছিল বিখ্যাত এ ঘটনাটি। হ্যামিলিনের গির্জার দেয়ালে আঁকা ছবি থেকে প্রথম এ ঘটনার কথা জানতে পারে মানুষ। পরে এ নিয়ে গল্প-কবিতা লিখেছেন গ্রিম ভ্রাতৃদ্বয় মতো অনেকেই।
এ ঘটনার পেছনে যুক্তি খুঁজতে গিয়ে অনেকে বলেন, জার্মানির উত্তর-পূর্বে স্লাভ অধ্যুষিত দেশগুলোতে উপনিবেশ গড়ে তোলার জন্য শহর ছেড়েছিল হ্যামিলিনের বেশ কিছু অল্পবয়সী অধিবাসী। তাদের এই দেশান্তরী হওয়ার ঘটনাই পরে গল্প-গাঁথায় উঠে এসেছে। কেউ বলেন, সে সময় ভয়ঙ্কর মরণরোগের শিকার হয়েছিল হ্যামিলিনের খুদে বাসিন্দারা। পরে সেই রোগকেই বাঁশিওয়ালার প্রতীকী রূপ দেয়া হয়।এর সত্যতা নিয়ে অনেকের মধ্যে সন্দেহ আছে বটে, কিন্তু এরপরও পুরো ঘটনাটি বিশ্ব ইতিহাসে কিংবদন্তি হয়ে আছে।

হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা


শহরটার নাম হামেলন। সবাই চেনে হ্যামিলন নামে৷ ছোট্ট, সাজানো, সুন্দর শহর হ্যমিলন৷ সেই শহরের মানুষের খুব দুঃখ৷ সেখানে যেন ইঁদুর-বন্যা হয়েছে!
বলছি ১২৮৪ সালের কথা৷ এখন থেকে ৭০০ বছর আগের কথা। হাজারে হাজারে ইঁদুর এখানে-সেখানে। ঘরের মধ্যে যাও সেখানেও ইঁদুর! এই ধরো কোনো বাচ্চা স্কুলে যাবে, ব্যাগ গোছাচ্ছে, দেখা গেল ঐ ব্যাগের মধ্যে গোটা পাঁচেক ইঁদুরছানা৷ কিংবা স্কুলের খেলার মাঠে শিশুদের পা খামচে ধরছে ইঁদুর৷ কী যে যাচ্ছেতাই অবস্থা! শহরের মেয়র পড়েছেন ভারী বিপদে৷ নগর-পিতার ঘুম নেই৷ কী করবেন তিনি?


এমনই এক ইঁদুরদিনে হ্যামিলনে এসে পৌঁছালো আজব এক লোক৷
লোকটির পরনে খাটো নানান রঙ্গের আলখাল্লা, মাথায় চোঙ্গার মতো উপরে উঠে ঝুলে পড়া টুপি৷ হাতে লম্বা এক বাঁশি৷ আহা কী সুন্দর করেই না বাঁশি বাজায় লোকটি !
শহরের মধ্যখানে মেয়রের অফিস৷ একসময় সেখানকার রোদে গা জুড়াতো মানুষ। আজ আর সেই অবস্থা নেই৷ লোকজন ঘরে কোনোভাবে দিন কাটায়৷ অফিস-আদালতের কাগজপত্র কেটে-কুটে একাকার করে দিচ্ছে ইঁদুর আর ইঁদুরছানারা৷
শহরের গণ্যমান্য লোক তাই বসেছেন সভায়— কী করা যায় সেই চিন্তায় সকলের কপালে পড়ে গেছে ভাঁজ৷ তখন ঐ সভায় এসে পৌঁছালো সেই অদ্ভুত বাঁশিওয়ালা!


‘আমি আপনাদের সমস্যা সমাধান করে দিতে পারি৷ আমি হচ্ছি ইঁদুর শিকারী৷ আমি এই শহর থেকে তাড়িয়ে দিতে পারি সব ইঁদুর।’ বাঁশিওয়ালা বললো।
মেয়র একটু ভ্রূ কুঁচকে বললেন, ‘বিনিময়ে তুমি কী চাও?’
তখনই সমস্বরে সেখানে উপস্থিতরা বলে উঠলেন, ‘তুমি যা চাও আমরা তাই দেবো৷ টাকা চাও, সোনা চাও, জমি চাও, ঘর চাও, বাড়ি চাও সব তোমাকে দেবো, কেবল আমাদের রক্ষা করো৷’
লোকটি একটু হাসলো৷ তারপর বাইরে বের হয়ে নিজের রঙিন আলখাল্লাটার মধ্য থেকে দারুণ একটি বাঁশি বের করলো তারপর সেই বাঁশি বাজাতে বাজাতে ঘুরতে থাকলো হ্যামিলনের পথে৷ সে বাঁশির এক অচেনা সুরের আকর্ষণে শহরের হাজার হাজার ইঁদুর দলবেঁধে ছুটছে লোকটির পেছনে পেছনে৷ নর্দমার গর্ত থেকে, অন্ধকার গলি থেকে, রান্নাঘরের পেছন থেকে দলে দলে বেরিয়ে আসছে ইঁদুর৷ সুরের সম্মোহনে পাগল যেন ইঁদুরের দল!


ঐ শহরের পাশে যে নদী তার নাম ভেজার/ওয়েজার। লোকটি থামলো না— ভেজার নদীর পাশ দিয়ে হাঁটতে শুরু করলো সে৷ আর তাঁর পিছু অদ্ভুত সুরের মূচ্ছর্নায় আসতে থাকলো ইঁদুরের দল৷ একসময় বাঁশিওয়ালার বাঁশির সুর থেমে গেল৷ কী এক চক্রবাঁকে যেন এক উন্মাদনা এসে ভর করলো ইঁদুরের দলে৷ আর সেই উন্মাদনাতেই ইঁদুরেরা দলবেঁধে ঝাঁপিয়ে পড়লো নদীর জলে।
হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা এভাবেই ইঁদুরের কবল থেকে রক্ষা করলো শহরবাসীকে৷ কিন্তু এরপর?
ইঁদুর বিদেয় হবার পর শহরের মেয়র আর শহরের গণ্যমান্য লোকদের কাছে এসে চাইলো তার সম্মানী৷ কিন্তু কী হলো তারপর? মেয়র এবং তার সাঙ্গপাঙ্গরা প্রাপ্য সোনাদানা তো দিলই না, বরং ধমকে তাড়িয়ে দিল বাঁশিওয়ালাকে৷
বাঁশিওয়ালা খুবই দুঃখ পেল৷ তার চোখে পানি৷ প্রতিশোধ নেবার বাসনা তার মধ্যে৷


কিছুদিন পর যখন শহরের লোকজন তাদের গীর্জায় প্রার্থনারত, সেই ক্ষুব্ধ, প্রতারিত বাঁশিওয়ালা ফিরে এল আবার৷ এবার তার মাথায় লম্বা লাল রঙের টোপর৷ গায়ে জড়ানো অদ্ভুত পোশাকটি অনেক লম্বা৷ সেই পোশাক থেকে বের করলো একটি ছোট্ট বাঁশি৷ সেই বাঁশিটি বেজে উঠলো; কিন্তু এবার বাঁশির সুর একেবারেই ভিন্ন৷ সেই সুরে এবার আর ইঁদুর বেরিয়ে এল না; বেরিয়ে এল শহরের সমস্ত শিশুর দল৷ সুরের মূর্চ্ছনায় বাঁশিওয়ালার পেছনে পেছনে সরু পথ থেকে বড় পথ, পাহাড়ের কোল থেকে নদীর কূল পর্যন্ত এগিয়ে যাচ্ছে শিশুর দল৷ এই দলে আছে শহরের মেয়রের আদরের কন্যাও৷ এরপর বাঁশিওয়ালা শিশুদের নিয়ে কোথায় যেন হারিয়ে গেলো৷ এই পাহাড়, ঐ নদী, পাশের শহর সব জায়গা খুঁজেও পাওয়া গেল না সেই শিশুদের; পাওয়া গেল কেবল দুটি শিশুকে৷ মিছিলের সঙ্গে তাল মেলাতে না পারার কারণে পিছিয়ে পড়েছিল বলে তাদের ফিরে আসতে হলো৷ তাদের একজন অন্ধ বলে জানতে পারলো না— কোথায় গেল সবাই! আরেকজন বোবা বলে জেনেও কিছু বলতে পারলো না!
এর পর আর কোনোদিন দেখা যায়নি হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালাকে৷।

Friday, March 16, 2018

৬০ দিনের আগে ফেসবুকে নাম পরিবর্তন করুন।

 গত পোস্টে আমরা লিখেছিলাম কিভাবে ফেসবুক আইডির নাম পরিবর্তন করতে হয়।
 যদিও ওটা খুব সহজ কাজ এবং অনেকেই পারেন কিন্তু আমরা আজকে যে ব্যাপারটা নিয়ে আলোচনা করবো সেটা হচ্ছে, কিভাবে ৬০ দিনের আগে ফেসবুক আইডির নাম পরিবর্তন করবেন ।
৬০ দিনের আগে ফেসবুক আইডির নাম পরিবর্তন

আরো একটা কথা বলে রাখি, যারা ৩/৫ বারের বেশী নাম পরিবর্তন করেছেন এবং আর করতে পারছেন না কিন্তু করতে ইচ্ছুক বা প্রয়োজন তারা আজকের পদ্ধতিতে ৩/৫ বারের বেশী নাম পরিবর্তন করতে পারবেন।

তো আসুন বকবক না করে কাজে যাওয়া যাক।

যা যা লাগবে :- আপনার ফেসবুক আইডি এবং একটি ডকুমেন্ট।

ডকুমেন্ট বলতে সরকারি বা বেসরকারি কিছু তথ্য প্রমাদানি।
যেমন : NID, PASSPORT, DRIVING LICENSE, BIRTH CERTIFICATE, SCHOOL ID /COLLEGE ID, BILL etc...

ফেসবুক কি কি ডকুমেন্ট সাপোর্ট করে তা এখান থেকে জেনে নিন।

তো আপনি যে নামে ফেসবুক আইডির নামটি পরিবর্তন করবেন সে নামে সরকারি বা বেসরকারি কিছু তথ্য প্রমাণ ফেসবুককে দেখাতে হবে কারন ফেসবুক চায় ব্যাবহারকারীরা সবসময় নিজের সঠিক নাম পরিচয় ব্যাবহার করুক।

এখন যদি আপনার Passport না থাকে তবে আপনি চাইলে driving license ব্যাহার করে নাম পরিবর্তন করতে পারেন।
যদি driving license না থাকে NID ব্যাবহার করতে পারেন।
যদি NID না থাকে তবে School ID /College ID ব্যাবহার করতে পারেন।

যদি কোনটা না থাকে তবে ID List  এর যেকোন একটা আইডি ব্যাবহার করতে পারেন।

যেকোন একটা ID কম্পিউটারে স্কান করে বা হাতে ধরে ছবি তুলে নিতে পারেন।

এরপর আপনার ফেসবুক আইডিতে Log in করুন।

এবার  এখানে যান, এখন একটা ফর্ম দেখতে পাবেন।

ফর্মে আপনার আইডির সাথে মিল রেখে নাম দিন। নাম পরিবর্তনের কারন চিহ্নিত করুন।

নিচে একটা আপলোড বাটন পাবেন সেখানে আপনার ID স্কান কপি বা ছবি আপলোড করে পাঠিয়ে দিন।

যদি আপনার ID সঠিক হয় এবং আপনার ID এর সাথে আপনার দেয়া নামের মিল থাকে এবং আপনার ID এর সাথে আপনার ফেসবুক আইডিতে দেয়া জন্ম তারিখের মিল থাকে তবে ৩ দিনের মধ্যে আপনি নাম পরিবর্তনের নোটিশ পাবেন। 




মাংসাশী উদ্ভিদ : যেসব গাছ মাংস খেয়ে বাঁচে!

পৃথিবীতে উদ্ভিদ তখন থেকে আছে যখন থেকে পৃথিবীতে প্রাণের সঞ্চার হয়। উদ্ভিদজগৎ না থাকলে আমাদেরও কোনো অস্তিত্ব থাকতো না। প্রাণী জগতের অস্তিত্ব সমগ্র উদ্ভিদ জগতের উপর নির্ভরশীল।আমরা সবাই জানি যে শুধু মানুষ এবং পশুরাই মাংসাশী হয়। কিন্তু পৃথিবীতে এমন কিছু উদ্ভিদ রয়েছে যেগুলি খাদ্যের জন্য অন্য প্রাণীদের উপর নির্ভরশীল। এরা মাংসাশী এবং শিকারি উদ্ভিদ। ভাবার বিষয় হলো যে, যে উদ্ভিদ জাতি আমাদের জীবন দান করে সেই উদ্ভিদ জাতিই কিভাবে মাংসাশী হতে পারে ? ৬০০ টি এরকম উদ্ভিদের প্রজাতি পাওয়া গেছে যেগুলি অন্য প্রাণীদের নিজেদের শিকার বানায়। এরা বিভিন্ন রকম ফাঁদ পেতে ছোট ছোট প্রাণী ও পোকামাকড়দের শিকার করে। আজ আমরা এই পর্বে কথা বলবো বিশ্বের কয়েকটি মাংসাশী উদ্ভিদ এর ব্যাপারে।


Nepenthes


Nepenthes
এরা ‘মাংকি কাপ’ বা ‘ট্রপিক্যাল পিচার প্ল্যান্ট’ নামেও পরিচিত। ন্যাপেন্থেস গণভুক্ত প্রায় ১৫০টি প্রজাতি রয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, ভারত, চীন, মাদাগাস্কার, সিচেলেস ও অস্ট্রেলিয়ায় এদের দেখা মেলে। এদের দেহের অংশবিশেষের পিচার বা কলসের মতো গঠনের কারণে এদের পিচার প্ল্যান্ট বলা হয়। এই কলসাকৃতি অংশটিই মূল ফাঁদ। এর ভেতরে জমে থাকা বৃষ্টির পানি প্রায়ই বানররা খেতে আসে বলে এদের এর আরেক নাম হয়েছে মাংকি কাপ।

 Sarracenia


Sarracenia
সারাসিনিয়া উদ্ভিদ বিশেষভাবে উত্তর ও পূর্ব আমেরিকায় পাওয়া যায়। এই গণের অধীনে ১০টি ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতি রয়েছে। এদের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হলো এদের নলাকৃতি পাতা ও পাতার মাথায় ছাতার মতো গঠন। এসব উদ্ভিদ ঘ্রাণ, নেকটার রস ও বর্ণ দ্বারা কীট-পতঙ্গকে আকৃষ্ট করে।

গ্রীষ্মকালে এদের পাতা গাঢ় লাল ও বেগুনীর মিশ্র বর্ণ ধারণ করে। এতে কীট-পতঙ্গ আরও বেশি করে আকৃষ্ট হয়। কীট-পতঙ্গ পাতায় এসে বসার পরে পিচ্ছিল গাত্র আর সূক্ষ্ম রোমের কারণে আর উড়ে যেতে পারে না। নলাকার পাতার ভেতরে হজমকারী এনজাইমসমৃদ্ধ তরল থাকে। এই তরলে দ্রবীভূত হয়ে শিকার ধীরে ধীরে হজম হয়ে যায়। এটাও লক্ষ্য করা যায় যে, কীট-পতঙ্গের উপর এই তরলের নেশা সৃষ্টিকারী ও অবশকারী প্রভাব আছে। অপরুপ মোহনীয়তায় এভাবেই শিকার ধরে উদরপূর্তি করে সারাসিনিয়া।

Venus Flytrap


Venus Flytrap
মাংশাসী গাছগুলোর মধ্যে সবচেয়ে প্রখ্যাত বলা যায় এই ভেনাস ফ্লাইট্র্যাপকে। সবচেয়ে বেশি গবেষণাও হয়েছে একে নিয়েই। এর অসাধারণ সৌন্দর্যকে বাদ দিয়ে দেখার কোনো অবকাশ নেই। অবিকল মানুষের মুখগহবরের মতো গঠন এর পাতাগুলোর। পাতাগুলোর মাঝ বরাবর দরজার কব্জার মতো ব্যবধায়ক আছে যার মাধ্যমে পাতাগুলো দ্রুত খুলতে ও বন্ধ হতে পারে। এই পাতাগুলোর ভেতরের পৃষ্ঠজুড়ে অনেকগুলো সংবেদনশীল ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শক্ত লোমের মতো অঙ্গ থাকে। মাছি, পোকামাকড় বা এই জাতীয় কোনো শিকার এসব লোমের সংস্পর্শে আসা মাত্র অতি দ্রুততার সাথে শিকারসহ পাতার মুখ বন্ধ হয়ে যায়।




পাতার অভ্যন্তরীন ক্ষরণে তখন ভেতরে আটকা পড়া শিকারটির শরীরের নরম অংশগুলো খসে পড়তে থাকে। ধীরে ধীরে শিকারের দেহ বিগলিত হয়ে হজম হয়ে যায়। হজম কাজ সম্পন্ন করতে এর প্রায় ১০ দিন সময় লাগে। একবার হজম হয়ে যাওয়ার পর পাতাটি পুনরায় উন্মুক্ত হয়ে যায় নতুন শিকারের অপেক্ষায়।

প্রশ্ন উঠতে পারে, বৃষ্টির পানি বা শিকার ব্যতীত যাবতীয় কিছু পাতার লোম স্পর্শ করলেও কি পাতা বন্ধ হয়ে যায়? অবশ্যই না। প্রকৃতির রাজ্যে অহেতুক কসরতের ঘটনা খুবই কম। কোনো বস্তু ফ্লাইট্র্যাপের পাতার একটি লোম স্পর্শ করার ২০ সেকেন্ডের মধ্যে যদি আরও দুই বা ততোধিক লোম আলোড়িত হয়, তবেই শুধু পাতাটি বন্ধ হয়ে যায়। নিঃসন্দেহে প্রকৃতির এক অনন্য প্রকৌশল ব্যবস্থা এই ভেনাস ফ্লাইট্র্যাপ।


Pinguicula


Pinguicula
এশিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকায় জন্মানো এই পিঙ্গিকুলা গণের অধীনে ৮০টি প্রজাতির মাংশাসী উদ্ভিদ রয়েছে। এরা ‘বাটারওয়ার্ট’ নামেও বহুল পরিচিত। এসব উদ্ভিদের পাতা গ্রন্থিসমৃদ্ধ ও বেশ বড়সড় হয়। এদের পাতার অগ্রভাগ থেকে আঠালো মিউসিলেজ নিঃসরিত হয় যা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র তন্তুর ন্যায় অংশে শিকার আটকাতে সাহায্য করে।

বেশিরভাগ পিঙ্গিকুলাতে এক ধরণের দুর্গন্ধ থাকে যা শিকারকে আকর্ষণে ভূমিকা রাখে। পিঙ্গিকুলার ফাঁদ প্রকৌশল দুই ধরণের গ্রন্থি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। প্রথমটির নাম পেডানকুলার গ্রন্থি। এটি থেকে মিউসিলেজ ও হজমকারী এনজাইমসহ এক রকম পদার্থ ক্ষরণ করে থাকে যা পাতার উপরে ছোট ছোট তরল কণিকারুপে বিরাজ করে। এই আঠালো তরলের কণাগুলো পোকামাকড়কে আকৃষ্ট করে। যখনই কোনো পোকামাকড় পাতায় বসে, সঙ্গে সঙ্গে পেডানকুলার গ্রন্থি আরও বেশি করে মিউসিলেজ ক্ষরণ করে পোকাটিকে পুরোপুরি ঢেকে ফেলে। এরপরই সিসাইল নামক দ্বিতীয় গ্রন্থিটি কার্যকর হয়ে একগাদা হজমকারী এনজাইম ক্ষরণ করে যা ধীরে ধীরে পোকাটির দেহকে ভেঙে শোষণ করতে সাহায্য করে। যতটা মোহনীয় এর রুপ, ঠিক ততটাই ভয়ানক এর ফাঁদ।




Heliamphora


Heliamphora
এই দীর্ঘজীবি, চিরসবুজ ও দ্বিবার্ষিক উদ্ভিদটি দক্ষিণ আমেরিকায় পাওয়া যায়। এর আরেক নাম ‘সান পিচার’, বাংলায় ‘সূর্য কলস’। এদের ফানেলের মতো নলাকৃতি পাতাগুলোতে পানি ভরা থাকে, আর এ পাতাগুলোই শিকার ধরায় ফাঁদের কাজ করে। কীট-পতঙ্গ এসব মোহনীয় পাতার আকর্ষণে কাছে এসে ভেতরে পড়ে গেলে পাতায় জমা পানিতে বিরাজমান ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে এদের দেহ হজম করে নেয় হিলিয়ামফোরা। এদের মূলতন্ত্র অতি উন্নত। হিলিয়ামফোরা গণের অধীনে ২৩টি প্রজাতি রয়েছে। এদের মধ্যে মাত্র একটি প্রজাতি ‘হিলিয়ামফোরা টেটেই’ ব্যাকটেরিয়ার সাহায্য নেয় না। এরা হজমের জন্য প্রয়োজনীয় এনজাইম নিজেই তৈরি করে।


 Drosera


ড্রসেরা গণের অধীনে প্রায় ২০০টি প্রজাতি রয়েছে। এদের নিঃসন্দেহে মাংশাসী উদ্ভিদ সম্প্রদায়ের রত্ন বলা যায়। সবচেয়ে সুন্দর আর সবচেয়ে আকর্ষণীয় ফাঁদ ব্যবস্থার অধিকারী ড্রসেরা উদ্ভিদগুলোকে ‘সানডিউ’ বলেও ডাকা হয়। কারন এদের পাতায় সরু কাঠির ন্যায় উপাঙ্গের মাথায় এক ধরণের আঠালো, হজম সহায়ক এনজাইম জমে থাকে। দেখে মনে হয় বিন্দু বিন্দু শিশির জমে আছে।

রোদে ঝকমক করা এমন শিশিরভেজা উদ্ভিদ দেখে কারও মনেই কোনো খারাপ আশঙ্কা আসে না। আশঙ্কা পোকামাকড়দেরও আসে না। তাই তারা এগিয়ে আসে, আর আটকা পড়ে যায়। পাতার পৃষ্ঠে আঠালো গ্রন্থি থাকে যা পোকামাকড়দের আটকে ফেলে আর শিশির বিন্দুর ন্যায় এনজাইমগুলো পোকার দেহ হজম করে ফেলে। ড্রসেরা স্ব-পরাগায়ণ ও স্ব-নিষেক করতে সক্ষম।




Utricularia/ ঝাঁঝি দাম


Utricularia
বাংলাদেশের বিভিন্ন খাল বিলে এর অবাধ অবস্থান। বর্ষার শেষদিকে একটু কম পানিতে জন্মায় এরা। এটি একটি মধ্যম আকারের জলজ বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ। তেমন কোনো শেকড় থাকে না এবং পানিতে ভেসে বেড়ায় এই উদ্ভিদগুলো। শেকড়ের বদলে এদের এক ধরণের থলে থাকে। থলের মুখের প্রবেশ পথে খাড়া রোম থাকে। এই রোমগুলোতে কোন জলজ প্রাণী স্পর্শ করলেই এর মুখ খুলে যায় এবং প্রাণীটিকে থলের ভেতর নিয়ে নেয় উদ্ভিদটির গাঢ় কমলা হলুদ রঙের ফুল হয়। হাল্কা সুবাস আছে এতে।


নিয়মিত আপডেট পেতে আরো জানি ফেসবুক গ্রুপে যোগ দিন । 

Monday, March 12, 2018

পৃথিবীজুড়ে আলোচিত ১০ টি রহস্যময় অদ্ভুত ও অমীমাংসিত ঘটনা!

পৃথিবীতে কত রহস্যই না আজ পর্যন্ত আমাদের কাছে রহস্যই রয়ে গেছে। কিন্তু এর মধ্যে এমন কিছু রহস্য আছে যা আমাদের শরীরকে ঠান্ডা করে দিয়ে যায়। আজ আপনাদের এমন ১০টি রহস্যের কথা জানাব যা শুধু রহস্যেই ঘেরা নয়, ভয়ঙ্কর সব ঘটনাও বটে। তাহলে চলুন শুরু করা যাক।


০১)

SS Ourang Medan


১৯৪৭ সালের জুন মাস, একটা জাহাজ মালয়শিয়া যাচ্ছিল। হঠাৎ করেই সেই জাহাজ দিয়ে বিপদ সংকেত পাঠান হয় রেডিওর মাধ্যমে। বিপদ সংকেতে বলা হয়, "সকল অফিসার ক্যাপ্টেন সহ মারা গেছেন, সকলেই জাহাজের ব্রিজে শুয়ে আছে। সম্ভবত জাহাজের সকলেই মারা গেছে।" তারপর কিছুক্ষন কোন শব্দ নেই, হঠাৎ করে শেষ বার্তা এলো, "আমি মারা গেছি"।
 SS Ourang Medan জাহাজ
আমেরিকার একটি জাহাজ "সিলভার ষ্টার", সে সময় বিপদ বার্তা পেয়ে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসে। তারা দেখতে পেলেন "SS Ourang Medan" জাহাজের সকল যাত্রী মারা গেছে অদ্ভুত ভাবে। সকলেই ঠান্ডায় জমে মারা গেছে এবং সকলের মুখে ভয়ের চিহ্ন স্পষ্ট ভাবে বোঝা যাচ্ছিল। তাদের সকলের হাত উঁচু হয়েছিল এবং সকলেই যেন কোন কিছু ধরার জন্য হাত বাড়িয়েছে এমনটাই মনে হচ্ছিল।
হাত তোলা অবস্থায় জাহাজের ক্রুর ছবি

সিলভার ষ্টার জাহাজটি SS Ourang Medan জাহাজকে বেঁধে পাড়ের দিকে নিয়ে আসতে থাকে। কিন্তু পাড়ের খুব কাছে আসার সাথে সাথে বিকট বিস্ফরন ঘটে SS Ourang Medan জাহাজে এবং জাহাজটি সমুদ্রে ডুবে যায়। আজ পর্যন্ত এই SS Ourang Medan জাহাজের রহস্য কেউ উদ্ঘাটন করতে পারেন নাই।


০২)

ক্যারোলিন ওয়াল্টার


ক্যারোলিন ওয়াল্টার
১৮৬৭ সালে, জার্মানির ফ্রেইবুর্গ শহরে ক্যারোলিন ওয়াল্টার মারা যায় মাত্র ১৬ বছর বয়সে। তার বোনের ইচ্ছার অনুস্বারে ক্যারোলিন ওয়াল্টার কবরের উপরে তার প্রমান আকৃতির তার মত করে একটি মূর্তি স্থাপন করা হয়। বিগত ১৪৮ বছর ধরে কোন কেউ একজন মূর্তিটির হাতের কাছে একই ধরনের একই ফুলের ফুলের তোড়া প্রতিদিন রেখে যায় (উপরের ছবিটা দেখুন, হাতের কাছে ফুল)। কিন্তু কে এই ফুলের তোড়া রেখে যাচ্ছে ১৪৮ বছর ধরে তা আজ পর্যন্ত কেউ জানে না।


০৩)

সোডার পরিবারের শিশু


সোডার পরিবারের শিশু
১৯৪৫ সালের বড় দিনের রাতে। হঠাৎ করে আগুন লেগে যায় সোডার পরিবারের বাড়িতে। জর্জ এবং জেনি সোডার তাদের ৪জন সন্তান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হতে পারলেও তাদের আরো পাঁচ সন্তান থেকে যায় বাড়ির মধ্যে। আগুন নিভে গেলে বাকি পাঁচ সন্তানের লাশ আর খুঁজে পাওয়া যায় নি। বাড়িটি এত বেশি সময় ধরে আগুন ধরে ছিল না, যে তা মানুষের শরীরকে সম্পূর্ন ছাইয়ে পরিনত করে দিবে।




২০ বছর পরে সোডার পরিবারের কাছে একটি বেনামে চিঠি আসে। আর সেই চিঠিতে ছিল ২০ বছর আগে হাড়িয়ে যাওয়া তাদের পাঁচ সন্তানের ছবি। আর ছবির পিছনে লেখা ছিল, "Louis Sodder. I love brother Frankie. Ilil boys. A90132 or 35." তার এ নিয়ে অনেক অনুসন্ধান চালালেও তাদের সেই পাঁচ সন্তানের কোন খোঁজ তারা পাননি।


০৪)

Hinterkaifeck


জার্মানির বার্লিন শহরের ছোট একটি গ্রামে একটি ফার্মে বসবাস করত আন্দ্রিয়াস গ্রুবার, তার স্ত্রী কাজিলিয়া, তাদের বিধবা কন্যা ভিকটরিয়া গ্রাব্রিয়েল এবং ভিক্টরিয়ার দুই সন্তান কাজিলিয়া এবং জোসেফ। আর থাকত তাদের কাজের লোক মারিয়া। রহস্যজনক ভাবে এক রাতে তাদের সকলকে কেউ এক রাতে হত্যা করে।
হত্যার সময় রেখে যাওয়া কুঠার
এবং তাদের মৃৃৃৃতদেহ 
এই হত্যাকান্ডের পূর্বে পরিবারবর্গ সকলেই লক্ষ করেছিল যে বাড়ির আশে-পাশে শিকার চলছে এবং তাদের চালা থেকে অদ্ভুত শব্দ শোনা যাচ্ছিল। এমন কি ঘরের এক সেট ছাবি তারা খুঁজে পাচ্ছিল না। খুনের প্রমান হিসেবে পাওয়া যায় শুধু মাত্র একটি কুড়াল আর আগুনে পুরে যাওয়া কাঠ-কয়লা। যা খুনিকে সারা রাত উষ্ণ রেখেছিল। পুলিশ আরো জানান যে, খুনি সকালে বের হয়ে যাবার পূর্বে ফার্মের সকল পশুকে তাদের দৈনিক খাবার দিয়ে গিয়েছিল।



৫।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের কার্টুন


পাশাপাশি রাখা ২০০ সালের প্রকাশিত কার্টুন
এবং বর্তমানে ট্রাম্প! 
সিম্পসনস নামের বিখ্যাত কার্টুনটি বেশ কয়েক বছর আগেই ভবিষ্যৎবানী করেছিল যে ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসবেন। ২০০০ সালে রসিকতা করে বলা হয়েছিল এই কথা, কে জানত যে সত্যিই এমন হবে! আরও অবাক ব্যাপার হলো কার্টুনের দৃশ্যগুলোর সাথে আসলে অনেক কিছুই মিলে যায়।


০৬)

মানব মশাল


Benedetto Supino
১৯৮২ সাল, স্পেইনের "Benedetto Supino" নামের বালকটি যখন আনন্দের সাথে স্বাধের কমিক বইটি পরছিল, তখনই হঠাৎ করে তার গায়ের কাপড়ে আগুল লেগে যায়। তার কমিক বইয়ের প্রিয় হিরোর মত তারও অলৌকিক ক্ষমতা এসে যায় কিন্তু কমিকের হিরোর মত সে কিন্তু গায়ের আগুন নিয়ন্ত্রন করতে পারে না। সে যে বিছানায় ঘুমাতো সেই বিছানার চাদরে প্রায়ই আগুন লেগে যেত এবং তার আশে-পাশের কোন ইলেক্ট্রনিক জিনিষ ঠিক মত কাজ করত না। আজ পর্যন্ত বিশেষজ্ঞরা এই রহস্যের কোন কূলকিনারা করতে পারে নি।

০৭)

রহস্যে ঘেরা মৃত্যু



১৯৫৯ সালে, রাশিয়ার একদল অভিজ্ঞ পর্বতরোহীর দল ঠিক করল তারা রাশিয়ার "উরাল পাহাড়" (Ural Mountain) আরোহণ করবে। তারা সকলেই রহস্যজনক ভাবে মারা গেলেন। তাদের তাবু ভিতর দিক থেকে টেনে ছিড়ে ফেলা হয়েছিল এবং তাবু থেকে খালি পায়ে ছাপ বনের দিকে চলে যায়। সেই পায়ের ছাপ অনুসরণ করে দু'জন পর্বতরোহীর মৃত দেহ খুঁজে পাওয়া যায়। রহস্যের কথা হচ্ছে এই শীতের মধ্যে এই দু'জন শুধু মাত্র অন্তর্বাস পরে ছিলেন।
Death of Ural Mountain
ক্যাম্পের এলাকার আশে পাশেই আরো তিন জনার মৃত দেহ খুঁজে পাওয়া যায় এবং সব শেষে দু'মাস পরে বাকি চারজনের মৃত দেহ খুঁজে পাওয়া যায় ক্যাম্প এলাকা থেকে ৭৫ মিটার দূরে। সকলেই নিজেদের অন্তর্বাস পরিহিত অবস্থায় ছিল। আজ পর্যন্ত তাদের মৃত্যুর কারন আর এই কনকনে শীতের মধ্যে কেনই বা তারা তাদের অন্তর্বাস পরে বের হয়ে ছিল তার কোন হদিস মেলে নি।




৮।

টাইটানিকের ভবিষ্যৎবাণী



টাইটানিক সিনেমার বদৌলতে বিশাল এই জাহাজের কথা আমরা সবাই জানি, যা আদতেই ডুবে গিয়েছিল। অদ্ভুত ব্যাপার হলো, এই পুরো ঘটনার কথা জানা যায় এমন এক বই থেকে, যা লেখা হয়েছিল টাইটানিক ডুবে যাবার আগেই।
ফিউটাইলিটি
১৮৯৮ সালে, টাইটানিক ডোবার ১৪ বছর আগে মরগান বার্টসন লেখেন “ফিউটাইলিটি”, যাতে বর্ণনা করা হয় দি টাইটান নামের এক জাহাজের ডুবে যাওয়ার ঘটনা। দুটোকেই “আনসিঙ্কেবল” বলা হয়েছিল, কম সংখ্যক লাইফবোট ছিল, আর উত্তর আটলান্টিকে হিমবাহের সাথে সংঘর্ষে ডুবে যায় দুটোই।




০৯)

YOGTZE-Fall


"গান্থার ষ্টল" ছিলেন একজন "খাদ্য প্রকৌশলী"। ১৯৮৪ সালে তার মৃত্যুর পূর্বে তিনি তার স্ত্রীকে প্রায়ই বলতেন, "তারা আমার পিছে লেগে আছে।" তার স্ত্রী কোন দিন তাকে জিজ্ঞাসাও করেন নাই "তারা" কারা আর এ নিয়ে তিনি নূন্যতম চিন্তিতও ছিলেন না। যে রাতে গান্থার ষ্টল মারা যান সেই রাতে এক অদ্ভুত ঘটনা ঘটে। হঠাত করেই তিনি চিৎকার করে ওঠেন, "Jetzt geht mir ein Licht auf!" (এখন আমি বুঝে গেছি!), এবং চেয়ারের উপর লিখে রাখেন "YOGTZE"। এরপর তিনি তার গাড়ি নিয়ে বের হয়ে যান।
YOGTZE-Fall

সেই রাতেই, আনুমানিক ৩টার দিকে তার মৃতদেহ খুঁজে পাওয়া যায় তার গাড়ির মধ্যে উলঙ্গ অবস্থায়। ময়না তদন্তে ধরা পরে যে, মৃতুর আগে তাকে আঘাত করা হয়েছিল, এমনকি তার গায়ের উপর দিয়ে গাড়ি চালনাও করা হয়। মৃতুর এই রহস্যের থেকেও বড় রহস্য হয়ে এখনও রয়ে গেছে "YOGTZE" শব্দটি। এই শব্দটির মানে এখন পর্যন্ত জানা সম্ভব হয় নাই।



১০।

এডগার অ্যালান পোয়ের টাইম মেশিন



হরর লেখক ছিলেন তিনি। কেন মনে করা হয় তার টাইম মেশিন ছিল? তিনি লেখেন The Narrative of Arthur Gordon Pym of Nantucket নামের ভয়াবহ এক কাহিনী, যেখানে দেখা যায় জাহাজ ডুবে যাবার পর চার নাবিক বেঁচে যায়, বাঁচতে গিয়ে জাহাজের রিচার্ড পার্কার নামের এক ছেলেকে খেয়ে ফেলে তারা।
এডগার অ্যালান এবং তার বই
এডগার অ্যালান পো বলেন এই বই একটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে লেখা। কিন্তু আসলেই এই ঘটনা ঘটে বইটি লেখার ৪৬ বছর পরে। জাহাজ ডুবি হবার পর রিচার্ড পার্কার নামের এক ছেলেকে খেয়ে ফেলে নাবিকেরা। এ থেকেই গুজব রটে যে এডগার অ্যালান পোয়ের টাইম মেশিন ছিল।

লিখেছেন: জানা অজানার পথিক এবং AroJani.com

নিয়মিত আপডেট পেতে আরো জানি ফেসবুক গ্রুপে যোগ দিন । 

Monday, March 5, 2018

পৃথিবীর অবাক করা দশটি আশ্চর্য প্রাচীন স্থাপনা!


আমাদের এই পৃথিবীটা যে সত্যিই সুন্দর তা একটু ভালো করে দেখলেই বোঝা যায়। সেই আদ্দিকাল থেকেই কতোই না অবাক করা আশ্চর্য অদ্ভুদ সব বিষয় আশয়, জিনিসপত্র পৃথিবীতে রয়েছে। এর কোনোটা প্রকৃতিই তার আজব খেয়ালে তৈরি করেছে আবার কোনো কোনোটি মানুষ তৈরি করেছে। শেষ কথা হলো, এসবের প্রত্যেকটিই মানুষের কাছে আজও বিস্ময়ের, আশ্চর্যের; যে রহস্য আজো উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি। প্রকৃতির অদ্ভুত সব সৃষ্টি আর মানুষের বিচিত্র খেয়ালে পৃথিবী সবসময়ের জন্যই সুন্দর। মানুষ পৃথিবীতে যেসমস্ত আশ্চর্য রহস্যঘেরা জিনিস তৈরি করেছে তার অনেক গুলোই আজ আর নেই। এর কোনোটা ধ্বংস হয়ে গেছে আবার কোনোটাকে মানুষ নিজেই ধ্বংস করেছে।
বিজ্ঞানীরা মানুষের তৈরি এই সমস্ত আশ্চর্য জিনিসগুলোকে সময়ের হিসেবে কয়েকটি যুগে ভাগ করেছেন। এগুলো হলো, প্রাচীন যুগ, মধ্য যুগ এবং আধুনিক যুগ। আজকে আমরা প্রাচীন যুগের রহস্যঘেরা সেইসব আশ্চর্য নির্মাণের কথাই শুনবো। চলেন তাহলে সেই আর্শ্চয সুন্দর রোমাঞ্চকর প্রাচীন পৃথিবী থেকে খানিক বেড়িয়ে আসি।

অজান্তা গুহ


অজান্তা গুহা

ভারতের আগ্রাবাদ শহর থেকে ১০০ কিঃমিঃ উত্তরপূর্ব কোণে অবস্থিত এই অজান্তা গুহা। এই গুহা গুলি পাহারের চূড়ার অংশ কেটে তৈরি করা হয়েছে এই আবাস্থান। বুদ্ধ ধর্মালম্বিদের তৈরি করা এই আবাসস্থান গুলি তৈরি করা হয় ১ম এবং ২য় খ্রীষ্টপূর্বে। ৫ম এবং ৬ষ্ঠ খ্রীষ্টাব্দে এই গুহা গুলিকে বেশ মূল্যবান সম্পদ দিয়ে আরো বিস্তার ভাবে তৈরি করা হয়। ব্রিটিশ ঐতিহাসিক "William Dalrymple" এর মতে "One of the great wonders of the ancient world"। 


নিউগ্রেজ

নিউগ্রেজ
নিউগ্রেজের (Newgrange) এর আকৃতি বিশাল। UFO আকৃতির বিশাল এই স্থাপনা জেগে উঠেছে আয়ারল্যান্ডে। এই স্থাপনা তৈরি করা হয় নবোপলীয় সময়ে, তা আনুমানিক ৩,২০০ খ্রীষ্টপূর্বে। হিসেবে একটু পটু হলে বুঝেই গেছেন এই স্থাপনার বয়স মিশরের পিরামিডের থেকেও বেশি।
প্রাচীন এই স্থাপনায় রয়েছে পাথরের তৈরি বিশাল একটা দরজা আর পথ। ভিতরে রয়েছে অনেকগুলি রুম। এই ঢিবির মধ্যে রয়েছে পাথরের তৈরি দেয়াল আর সেই দেয়ালে আছে নানা রকমের খোঁদাই। এই স্থাপনা নিয়ে বেশ কয়েকটি লোক কথা প্রচলিত আছে। কেন আর কি কাজে এই স্থাপনা ব্যবহৃত হত তা নিয়ে এখন পর্যন্ত সঠিক কোন তথ্য পাওয়া যায় নি। তারপরেও এটি যে ধর্মের কাজে ব্যবহৃত হত এ নিয়ে কোন দ্বিধা নেই। এই স্থাপনার কিছু ছিদ্র আছে যার মধ্যে দিয়ে আলোর প্রবেশ করে এক অবাস্থাব পরিবেশ তৈরি করে এর ভিতরে।


ডেরিনকুঊ

ডেরিনকুঊ
ডেরিনকুঊ (Derinkuyu) বহুতল বিশিষ্ট ভূগর্ভস্ত শহর। এর অবস্থান তুর্কির ডেরিকুঊ অঞ্চলে। বহুতল এই শহরের গভীরতা ২০০ ফুট। এই ভূগর্ভস্ত শহর এতটাই বড় যে এখানে ২০,০০০ লোক খুব সহজেই তাদের জীবন স্বাচ্ছন্দে কাঁটাতে পারবে। এযাবৎ যত গুলি ভূগর্ভস্থ স্থাপনা খুঁজে পাওয়া গেছে তার মধ্যে এটিই সব থেকে বড়।
এই ভূগর্ভস্থ শহর তৈরি করা হয় ৭-৮ খ্রীষ্টপূর্ব শতাব্দীতে। এই স্থাপনা কেন তৈরি করা হয়েছিল তা নিয়ে রহস্য থাকলেও অধিকাংশের মতে এর স্থাপনা হয়েছিল বাইরের আক্রমন থেকে রক্ষা পাবার জন্য। বিশাল এই শহরের ভিতরে ঢুকার পথ আছে ৬০০টি। এছাড়া বায়ু প্রবাহ ঠিক রাখার জন্য আছে ১৫,০০০টি ছোট জানালা।
আচ্ছা, প্রথমেই বলেছিলাম প্রাচীন পৃথিবীর ১০টি আশ্চর্য স্থাপনা নিয়ে আলোচনা করব। এ পর্যন্ত আলোচনা করেছি তিনটি স্থাপনা নিয়ে। আর বাকি আছে ৭টি স্থাপনা, তাই না? আর এই ৭টি স্থাপনা সম্পর্কে যেহেতু "প্রাচীন পৃথিবীর সপ্তাশ্চর্য" লেখায় পূর্বেই আলোচনা করা হয়েছে তাই আর লিখলাম না।


গিজার পিরামিড

গিজার পিরামিড
মরুভূমির একটি দেশ "মিশর"। প্রাচীনকালে এই মিশরেই গড়ে উঠেছিলো এক উন্নততর সভ্যতা। প্রাচীন মিশরে ফারাও রাজবংশের রাজারা একসময় রাজত্ব করতেন । সেসময়ে মিশরের মানুষেরা বেশ কিছু অদ্ভুত বিষয়ে বিশ্বাস করতো। তারা বিশ্বাস করতো পৃথিবীতে মানুষের বাস খুব স্বল্প সময়ের জন্য, আর মৃত্যুর পরবর্তী জীবন হলো অনন্ত সুখের। তাদের বিশ্বাস ছিলো, মৃত্যুর পর তাদের মৃতদেহ যদি অক্ষত অবস্থায় সংরক্ষণ করা হয়, তাহলে তারা পরলোকে অনন্ত শান্তির জীবন যাপন করতে পারবে। মিশরীয়রা মৃতদেহ সংরক্ষণের একটি বিশেষ পদ্ধতি আবিস্কার করেছিলো, যাতে করে তারা প্রায় অক্ষত অবস্থাতেই মৃতদেহ সংরক্ষণ করতে পারতো। এই বিশেষ পদ্ধতিতে সংরক্ষিত মৃতদেহকে বলা হয় মমি। এই মমিকে ফারাওরা বিশাল এবং সুরক্ষিত সমাধির মধ্যে রাখতো, যাতে এর সামান্য অংশটুকু ও নষ্ট না হয়। এই সমাধিটি আমাদের কাছে পিরামিড নামে পরিচিত। পিরামিড দেখতে অনেকটা ত্রিভুজের মতো। এই পিরামিডের সবচে বড় এবং প্রাচীনটি স্থাপনাটির নাম হলো- গিজার পিরামিড। গিজার পিরামিডকে ফারাও রাজা খুফুর পিরামিড ও বলা হয়ে থাকে। এই পিরামিডটি তৈরি করা হয়েছিলো প্রায় ৪৫০০ বছর আগে। গিজার পিরামিড এতোটাই বিশাল যে হাজার হাজার শ্রমিকের এটি তৈরি করতে সময় লেগেছিলো প্রায় ২০ বছর । মাত্র ২০০ বছর আগেও গিজার পিরামিডই ছিলো পৃথিবীর সবচাইতে উঁচু স্থাপনা। এটি নির্মাণ করতে লেগেছিলো প্রায় বিশ লক্ষ পাথরের টুকরো, যার একেকটির ওজন প্রায় বর্তমানের একটি গাড়ির সমান। প্রাচীন পৃথিবীর আশ্চর্যগুলোর মধ্যে এই স্থাপনাটিই এখনো টিকে আছে পৃথিবীতে।

ব্যাবিলনের শূন্য উদ্যান

ব্যাবিলনের শূন্য উদ্যান

যেকোনো বাগানে গিয়ে বিভিন্ন রঙের ফুল, প্রজাপতি এসব দেখতে কার না ভালো লাগে! আর বাগানটি যদি হয় মাটি থেকে উঁচুতে, অনেকটা উপরে, তাহলে তো কথাই নেই! এরকমই একটি বাগান হলো ব্যাবিলনের শূন্য উদ্যান। আমরা সবাই জানি ইরাক দেশটির অধিকাংশ জুড়েই রয়েছে মরুভূমি। অনেক দিন আগে এই দেশেই ব্যাবিলন নামে একটি শহর ছিলো। এ শহরটি গড়ে উঠেছিলো ইউফ্রেটিস নদীর তীরে। সেই সময় ব্যাবিলন শহরের রাজা ছিলেন নেবুচ্যাডনেজার, অদ্ভুত নাম তাই না!। তিনি একদিন এক অদ্ভুত পরিকল্পনা করলেন। স্ত্রীর বিনোদনের জন্য মরুভূমির ভিতরেই একটি উদ্যান তৈরির কথা ভাবলেন। আপনারা সবাই জানেন যে, মরুভূমিতে গাছ বাঁচানো এক মহা সমস্যার কথা। কারণটা সেখাকার পানির স্বল্পতা। কাজেই স্বাভাবিকভাবে তো সেখানে বাগান তৈরি করা এক কথায় অসম্ভব। এজন্যই রাজা এক বিশেষ পদ্ধতিতে বাগান তৈরির পরিকল্পনা করলেন। প্রথমেই তিনি পাহাড়ের মতো একটি জায়গা তৈরি করলেন। তারপর এই পাহাড়কে কয়েকটি তলায় ভাগ করে প্রতিটি তলার চারপাশে বারান্দা তৈরি করলেন। এই বারান্দাতেই নানা রঙের ফুল ও শোভবর্ধনকারী গাছ লাগানো হয়েছিলো। এই উদ্যানটি দেখলে মনে হতো যে গাছগুলো সব শূন্যে ভেসে আছে। মরুভূমিতে কোনো গাছ জন্মানো দুঃসাধ্য প্রায়। সেই জায়গায় এমন সুন্দর একটি বাগান তৈরি রীতিমতো আশ্চর্যের বিষয় ছিলো বৈকি। এই বাগানটি অবশ্য অনেক আগেই ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। কয়েক বছর আগে কিছু বিজ্ঞানী ব্যাবিলনের এই উদ্যানটির কিছু ভাঙা দেয়াল খুঁজে পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন।

আর্টেমিসের মন্দির

অার্টেমিসের মন্দির
প্রাচীন যুগে গ্রীস এবং রোমের মানুষরা বিভিন্ন দেব-দেবীর পূজা করতো। প্রাচীন গ্রীসের এক দেবীর নাম ছিলো- আর্টেমিস। রোমানরা আবার তাকে বলতো দেবী ডায়ানা। দেবী আর্টেমিস বা ডায়ানা ছিলেন শিকারের দেবী। সেই যুগে বেশিরভাগ মানুষ শিকার করেই জীবিকা নির্বাহ করতো বলে দেবী আর্টেমিসের গুরুত্ব ছিলো অনেক। এজন্যই গ্রিকরা খ্রীষ্টপূর্ব ৮০০ অব্দে ইফিসাস নগরীতে দেবী আর্টেমিসের মন্দির নির্মাণ করে। এই ইফিসাস নগরীটি বর্তমানে আমাদের কাছে পরিচিত তুরস্ক হিসেবে। তৈরি হবার পর থেকে বহুবার এই মন্দিরটি ধ্বংস হয়ে যায়। আবার প্রতিবারই নতুন করে এটি গড়ে তোলা হয় ঠিক সেই এক জায়গাতেই। প্রথমবার আর্টেমিসের মন্দির তৈরি করতে সময় লেগেছিলো প্রায় ১২০ বছর। আর্টেমিসের মন্দির নিয়ে একটি গল্প প্রচলিত আছে। খ্রীষ্টপূর্ব ৫৫০ অব্দে এক লোক বিখ্যাত হবার লোভে নাকি আর্টেমিসের মন্দিরটি পুড়িয়ে ফেলেছিলো। মন্দির পুড়িয়ে দেবার পর ইফিসাসে আইন করে ঐ লোকের নাম উচ্চারণ করাই নিষিদ্ধ করে দেয়া হয়। ঐ লোকটির নাম উচ্চারণ করার একটিই শাস্তি ছিলো, তা হলো মৃত্যুদন্ড! নামটা শুনতে ইচ্ছা করছে তাই না? এখন অবশ্য তার নামটি নির্ভয়েই নেয়া যায়, কেউ তো এখন আর মৃত্যুদন্ড দেবে না! লোকটির নাম ছিলো হেরোসট্রেইটাস। খ্রীষ্টপূর্ব ২০০ অব্দে গথ’রা মন্দিরটি ভেঙে দেবার পর আর সেটি নির্মাণ করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। ভেঙে ফেলার শত শত বছর পর, ১৮০০ খ্রীষ্টাব্দে ব্রিটিশ মিউজিয়ামের একটি অনুসন্ধানী দল মন্দিরটির ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পেয়েছিলো।


অলিম্পিয়ার জিউসের মূর্তি

অলিম্পিয়ার জিউসের মূর্তি
গ্রীকদের প্রধান দেবতার নাম জিউস। তিনি সব দেব-দেবীর তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী। খ্রিষ্টপূর্ব ৪৩৫ অব্দে গ্রীকরা অলিম্পিয়া নগরীতে মন্দির নির্মাণ করে সেখানে দেবতা জিউসের একটি বিশাল মূর্তি স্থাপন করে। এটি উচ্চতায় ছিলো প্রায় ৪০ ফুট। এই বিশাল মূর্তিটি দেখতেও ছিলো অসাধারণ। মূর্তিটির বিশালতা ও সৌন্দর্যের কারণেই এটি প্রাচীন পৃথিবীর আশ্চর্যগুলোর মধ্যে একটি। জিউসের মন্দির তৈরির আরো একটি বিশেষ উদ্দেশ্য ছিলো- অলিম্পিক। পৃথিবীর বিশাল এই খেলার আসরটিকে দেবতা জিউসের আশীর্বাদ পুষ্ট করতেই জিউসের এই বিশাল মূর্তিটি তৈরি করা হয়েছিলো। তবে বর্তমানে মূর্তিটির খুব সামান্য অংশই অবশিষ্ট আছে।

রোডস এর মূর্তি

রোডস এর মূর্তি
আপনারা তো মহাবীর আলেকজান্ডারের কথা সবাই জানেন। পৃথিবীর ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ বীর হলেন আলেকজান্ডার। তিনি বেঁচেছিলেন মাত্র ২৩ বছর। এই অল্প সময়েই তিনি পৃথিবীর অনেক অংশ জুড়ে তার রাজ্য বিস্তার করেছিলেন। তার রাজ্যের মধ্যে আটলান্টিক সাগরের মেডিটেরিয়ান অঞ্চলের রোডস দ্বিপটিও ছিলো। রোডস দ্বিপটি ছিলো প্রাচীন গ্রীস দেশের একটি অংশ। এই দ্বিপটি ছিলো ব্যবসা বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দু। মহাবীর আলেকজান্ডার অল্প বয়সেই কোন এক পোকার কামড়ে খ্রিষ্টপূর্ব ৩০০ অব্দে মারা যান। আলেকজান্ডার এর মৃত্যুর পর তার তিন সেনাপতির মধ্যে রোডস দ্বিপটি দখল করা নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়। রোডস দ্বীপের মানুষ জেনারেল টলেমির পক্ষে ছিলো। দুর্ভাগ্যবশত জেনারেল টলেমি মিশর দখল করলেও গ্রীসের এই অংশটি দখল করতে পারেন নি। অন্য একজন জেনারেল দ্বীপটির দখল নেন। কিন্তু রোডস দ্বীপের মানুষ এই জেনারেলকে সমর্থন না করায় তিনি বেদম চটে যান। তিনি তার ছেলেকে রোডসের মানুষদেরকে শায়েস্তা করতে বলেন। শায়েস্তা করতে এসে ঐ জেনারেলের ছেলে ব্যর্থ হন। অন্যদিকে জেনারেল টলেমি মিশর থেকে একটি সৈন্য দল পাঠান দ্বীপটিকে শত্রু মুক্ত করতে। তখন রোডসের জনগণ ও সৈন্যবাহিনী মিলে শহরকে শত্রু মুক্ত করেন। শত্রুদের ফেলে দেওয়া অস্ত্র ও অন্যান্য ফেলে দেয়া জিনিস গলিয়ে প্রচুর তামা পেয়েছিলো রোডস এর মানুষরা। এই তামা দিয়ে তখন তারা সূর্য্য দেবতা হিলিয়াসের এক বিশাল মূর্তি নির্মাণ করে। মূর্তিটি ছিলো ১১০ ফিট উঁচু। এর ভিত্তিপ্রস্তরের উচ্চতা ছিলো ৫০ ফিট। এই সুবিশাল মূর্তিটি তৈরী করতে সময় লেগেছিলো সুদীর্ঘ ১৫ বছর । খ্রীষ্টপূর্ব ২২৯ অব্দে এক ভূমিকম্পে এটি ধ্বংস হয়ে যায়। পরবর্তীতে আর সংস্কার করা হয়নি। এই আশ্চর্য মূর্তিটি শুধু মানুষদের বিস্মিতই করেনি, স্থাপত্যবিদদেরকেও অনুপ্রেরণা দিয়েছিলো। ফলে রোডসের সেই আশ্চর্য মূর্তির ছায়াটি আমরা যেন নিউ ইয়র্কে অবস্থিত স্ট্যাচু অফ লিবার্টির ভিতরে দেখতে পাই।


আলেকজান্দ্রিয়ার বাতিঘর

আলেকজান্দ্রিয়ার বাতিঘর
সমুদ্রের তীরে পাহাড় বা কোন টাওয়ারের উপর বাতিঘর তৈরি করা হয়। জিজ্ঞেস করতেই পারো যে কি কাজ এই বাতিঘরের? বাতিঘরের কাজ হলো রাতের অন্ধকারে কোনো জাহাজকে জাহাজঘাটায় নিরাপদে ভেড়ানোর জন্য পথ দেখানো, যাতে ডুবো পাহাড়ের সঙ্গে জাহাজটি ধাক্কা না খায়। প্রাচীনকালে উঁচু কোনো জায়গায় কাঠ পুড়িয়ে আলো তৈরি করে বাতিঘর নির্মাণ করা হতো। প্রাচীন পৃথিবীর সবচে উঁচু ও বিস্ময়কর বাতিঘরটির নাম হলো আলেকজান্দ্রিয়ার বাতিঘর। কোথায় এটি? শোনেন তবে, ভূমধ্যসাগরের উপকূলে মিশরের ফারোস নামের এক দ্বীপ ছিলো । সেখানে আলেকজান্দ্রিয়ার একটি বিখ্যাত জাহাজঘাটায় খ্রীষ্টপূর্ব ২৯০ অব্দে একটি বিশাল বাতিঘর নির্মিত হয়। বাতিঘরটির উচ্চতা ছিলো প্রায় ৩০০ ফুট। আলেকজান্দ্রিয়ার বাতিঘর শুধু রাতে আসা জাহাজগুলোকে নিরাপদে ঘাটে ভিড়াবার ব্যবস্থাই করতো না, এটি সেই সময় একটি দর্শনীয় জায়গাও ছিলো। পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গা থেকে পর্যটকরা এটি দেখতে আসতেন। বাতিঘরের নিচতলায় তাদের জন্য খাবারের দোকানও ছিলো। ১৫০০ খ্রীষ্টাব্দের দিকে ভূমিকম্পে বাতিঘরটি পড়ে যায় বলেই বিজ্ঞানীরা মনে করেন। এখনও ডুবুরীরা ভূমধ্যসাগরে এই বাতিঘরের ধ্বংসাবশেষ খুঁজে বেড়ায়।


হ্যালিকারনেসাস এর সমাধি মন্দির

এশিয়া মাইনরের ছোট্ট একটি রাজ্য, রাজা মোসালাস তা শাসন করতেন। সেই রাজ্যের রাজধানীর নাম ছিলো হ্যালিকারনেসাস। রাজা মোসালাসের স্ত্রী ছিলেন রাণী আর্টেমিসিয়া। খ্রীষ্টপূর্ব ৩৫৩ অব্দে রাজা মোসালাস হঠাৎ মারা গেলে রাণী আর্টেমিসিয়া তার স্বামীর জন্য একটি স্মৃতিসৌধ তৈরী করবেন বলে সিদ্বান্ত নেন। তিনি তৈরি করেন পৃথিবীর মধ্যে সবচে চমকপ্রদ স্মৃতিসৌধটি। সম্পূর্ণ মারবেল পাথরের তৈরী এই স্মৃতিসৌধটি ছিলো খুবই সুন্দর ও আর্কষণীয় । অনেক দূরদূরান্ত থেকে মানুষ এই আশ্চর্য স্মৃতিসৌধটি এক পলক দেখার জন্য আসতেন। এই সমাধিটি উচ্চতায় ছিলো প্রায় ১৩৫ ফুট। এর উপরের দিকে মোট ৩৬ টি স্তম্ভ ছিলো। দুটি স্তম্ভের মাঝে একটি করে মূর্তি ছিলো। আর সমাধিটির ছাদটি ছিলো পিরামিড আকৃতির। সম্ভবত কোনো বড়ো ধরনের ভূমিকম্পে এটি ধ্বংস হয়ে গিয়েছিলো। বর্তমানে স্মৃতিসৌধটির মাত্র কয়েকটি টুকরো অবশিষ্ট আছে।

শুনলেন তো প্রাচীন পৃথিবীর দশ অাশ্চার্যময় স্থাপনার কথা। এগুলো আমাদের কাছে এখনও বিস্ময়ের এখনো রহস্যমণ্ডিতই রয়ে গেছে। কি করে তখনকার মানুষজন এতো সুন্দর স্থাপনাগুলো তৈরি করেছিলো, যা আমাদের পক্ষে তৈরি করা এখনও দুঃসাধ্য! এরকম আরো অনেক আশ্চর্যের জিনিস রয়েছে আমাদের এই পৃথিবীতে। সেসব নিয়ে না হয় আরেকদিন গল্প করা যাবে।

লেখকঃ নাজমুল হাসান এবং জানা অজানার পথিক।

নিয়মিত আপডেট পেতে আরো জানি ফেসবুক গ্রুপে যোগ দিন ।