Sunday, October 1, 2017

মৎস কন্যাদের যতো কথা।

পোস্ট ক্যাটাগরি

সমুদ্রের বড়বড় ঢেউ ভেঙ্গে জাহাজ ছুটে চলছিলো।
হাতে এক কাপ গরম চা নিয়ে জাহাজের ছুটে চলা দেখছিলেন জহাজের ক্যাপটেন।

হঠাৎ তিনি দেখতে পান জাহাজের একটু দূরে একটি মেয়ে সাতরে বেড়াচ্ছে যারর অর্ধেক মাছ এবং অর্ধেক মেয়ে!

মৎস কন্যাদের যতো কথা। 


জানি আপনি হয়তো ভাবছেন এটা কোন গল্পের অংশ। কিন্তু না, এটা বিশ্ববিখ্যাত নাবিক কলাম্বাসের অভিজ্ঞতা যা তিনি তার নোটবুকে লিখে গেছেন।


আজকে আমরা জানবো নাবিক কলাম্বাসের দেখা সেই অর্ধ মানুষ এবং মাছের মত দেখা অদ্ভুদ প্রাণীটিকে নিয়ে।

কি সেই প্রাণী যার অর্ধেক মাছ এবং অর্ধেক মানুষ !?

তাহলে চলুন জেনে নিই।

অর্ধমানবী অর্ধমাছ দেখতে প্রাণীটিকে বলা হয় মৎসকন্যা। দেখতে যাদের উপরের অর্ধেক হল অপরুপ যুবতী।

 প্রাচীন বিভিন্ন উপকথায় মৎসকন্যাদের সম্পর্কে জানা যায়।

মৎসকন্যাদের নিয়ে প্রথম বর্ননা পাওয়া যায় প্রাচীন অ্যাসিরিয়াতে। অর্থাৎ আজ থেকে প্রায় ১০০০ খিঃ পূর্বে!



প্রাচীন অ্যাসিরিয়াতের বর্ননা থেকে জানা যায় "দেবী অ্যাটারগাটিস ভূল করে যখন তার মানব প্রেমিক কে হত্যা করে ফেলেন লজ্জায় দুঃখে পানিতে পানি ঝাপঁ দেন আত্নহত্যা করার জন্য। কিন্তু দেবী অ্যাটারগাটিস এত সুন্দরী ছিলেন যে সমুদ্র দেবতা পসাইডন তাকে মৃত্যর বাজ্যে যেতে না দিয়ে অর্ধমানবী অর্ধমাছ রুপে নব জীবন দান করেন। একই বর্ননা পাওয়া যায় ব্যাবিলনীয়
উপকথায় দেবী “ইয়া” কে নিয়ে। গ্রীক উপকথায় এই অ্যাটারগাটিসই আবার “আফ্রোদিতি” নামে পরিচিত।

এটা আমার বানানো গল্প নয় এটা Wikipedia এর তথ্য। 

উপকথাগুলো থেকে জানা যায় মৎসকন্যাদের গানের গলা এতই চমৎকার ছিল যে সেই গান নাবিকদের কানে পৌঁছালে নাবিকরা সেই গানের উৎসের দিকেই ধাবমান হতো।
আর বেশীরভাগ গানের উৎস থাকতো আশেপাশের কোন দূর্গম দ্বীপ।




নাবিকরা যখন গানের উৎসের দিকে ছুটতো তখন দ্বিপে ধাক্কা লেগে তাদের জাহাজ চূর্ণ বিচূর্ণ হয়ে সাগরে পতিত।

কোন কোন উপকথা অনুযায়ী এই মৎসকন্যারা মানুষদের প্রতি ভীষন বিদ্বেষপূর্ন আবার কোথাও কোথাও কোথাও প্রেমময়।

তবে যাই হোক না কেন, যেসব নাবিকেরা এই মৎসকন্যানের ফাঁদে একবার পড়তো শেষ পর্যন্ত তারা মারা যেতো।  সহজে বলতে গেলে মৎসকন্যারা ছিলো বর্তমান যুগের মেয়েদের মত ডেন্জারাস। :-P একারনেই বলি ভাই এদের ফাঁদে পাঁ দিবেন না, দিলে জীবন শেষ। 




বর্তমান সময়ে মৎসকন্যা দেখার দাবী:

 রুপকথা তো অনেক শুনলেন। এখন দেখি এই কল্পনাকে উঁকি দিয়ে বর্তমানে বা নিকট অতীতে কে কে এই মৎসকন্যাদের দেখেছিলেন বলে দাবী
করেছেন?

কাহিনী ১: 
১৮১১, অক্টোবর ২৯ ক্যাম্পবেল টাউন, সাগর কুলে ছোট্ট এক স্কটিশ গ্রাম জন মেসিইক ছুটতে ছুটতে শেরিফ কে এসে বলেন এইমাত্র সে সমুদ্রতটে এক মৎসকন্য বসে থাকতে দেখেছে।

কাহিনী ২:
এ গল্প এডিনবর্গ ইউনিভার্সিটির ন্যাচারাল হিষ্ট্রির প্রফেসর ম্যাক্লিহানকে শুনান এডমন্ডসন নামে এক জাহাজের কাপ্তান।
১৮৩৩, আইল অভ ইয়েল, ছয়জন জেলে নাকি এক মেয়ে কে তাদের জালে আটকায়, তিনফুট লম্বা ওই মেয়ে নাকি জেলেদের নৌকায় উঠার পর তিন ঘন্টা ছিল, সে নাকি জেলেদের সাথে কোন প্রতিরোধ এ যায়নি। শুধু আস্তে আস্তে ফোপাচ্ছিল। ওই মেয়ের নাকি কোন মাছের মত লেজ ছিল না। কিন্ত তার দেহে সামান্য আঁশ ছিল। জেলেরা মারাত্নক ভয় পেয়ে যায় নৌকা আর সাগরের মধ্যে তারা আর
প্রতিবন্ধকাতা তৈরি করেনা ইশারায় মেয়েটিকে চলে যেতে বলে।




কৃতজ্ঞতার দৃষ্টি হেনে মেয়েটি নিখুত এক লাফ দিয়ে সাগরে চলে যায়। সাগরে নেমে কিছুক্ষন পর আবার ঊঠে ঢেউ এর উপর ভেসে ভেসে তাদের কৃতজ্ঞতা জানায় এবং এক সময় সাগরে হারিয়ে যায়।

কাহিনী ৩:
ক্রিস্টোফার কলম্বাস এর লগ বুক থেকে জানা যায় তিনি যখন ক্যারিবিয়ান দ্বীপের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন তখন নাকি এক অর্ধমানবী অর্ধমাছ কে সমুদ্রবেলায় বসে থাকতে
দেখেছেন।

কাহিনী ৪:
১৮৫৭ সালের জুন ৪, ব্রিটিশ শিপিং গ্যাজেট এ লেখা আছে এক স্কটিশ নাবিক নাকি সাগরে মধ্যে ঢেউ এর উপর এক কিশোরী কে বসে থাকতে দেখেছে।

কাহিনী ৫:
১৯৪৭ সালে ৮০ বছর বয়স্ক একজন জেলে নাকি উপকুল থেকে ২০ গজ দূরে এক মৎসকন্যা দেখেছিলেন যে নাকি গলদা চিংড়ির দাড়া দিয়ে চুল আচড়াচ্ছিলো, কিন্ত যখনই ওই মৎসকন্যা বুজতে পারল কেউ তাকে দেখছে ওমনি টুপ করে পানির মধ্যে তলিয়ে যায়।




এই ছিলো আজকের মৎস কন্যা নিয়ে আমার লেখা।