Monday, March 12, 2018

পৃথিবীজুড়ে আলোচিত ১০ টি রহস্যময় অদ্ভুত ও অমীমাংসিত ঘটনা!

পোস্ট ক্যাটাগরি

পৃথিবীতে কত রহস্যই না আজ পর্যন্ত আমাদের কাছে রহস্যই রয়ে গেছে। কিন্তু এর মধ্যে এমন কিছু রহস্য আছে যা আমাদের শরীরকে ঠান্ডা করে দিয়ে যায়। আজ আপনাদের এমন ১০টি রহস্যের কথা জানাব যা শুধু রহস্যেই ঘেরা নয়, ভয়ঙ্কর সব ঘটনাও বটে। তাহলে চলুন শুরু করা যাক।


০১)

SS Ourang Medan


১৯৪৭ সালের জুন মাস, একটা জাহাজ মালয়শিয়া যাচ্ছিল। হঠাৎ করেই সেই জাহাজ দিয়ে বিপদ সংকেত পাঠান হয় রেডিওর মাধ্যমে। বিপদ সংকেতে বলা হয়, "সকল অফিসার ক্যাপ্টেন সহ মারা গেছেন, সকলেই জাহাজের ব্রিজে শুয়ে আছে। সম্ভবত জাহাজের সকলেই মারা গেছে।" তারপর কিছুক্ষন কোন শব্দ নেই, হঠাৎ করে শেষ বার্তা এলো, "আমি মারা গেছি"।
 SS Ourang Medan জাহাজ
আমেরিকার একটি জাহাজ "সিলভার ষ্টার", সে সময় বিপদ বার্তা পেয়ে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসে। তারা দেখতে পেলেন "SS Ourang Medan" জাহাজের সকল যাত্রী মারা গেছে অদ্ভুত ভাবে। সকলেই ঠান্ডায় জমে মারা গেছে এবং সকলের মুখে ভয়ের চিহ্ন স্পষ্ট ভাবে বোঝা যাচ্ছিল। তাদের সকলের হাত উঁচু হয়েছিল এবং সকলেই যেন কোন কিছু ধরার জন্য হাত বাড়িয়েছে এমনটাই মনে হচ্ছিল।
হাত তোলা অবস্থায় জাহাজের ক্রুর ছবি

সিলভার ষ্টার জাহাজটি SS Ourang Medan জাহাজকে বেঁধে পাড়ের দিকে নিয়ে আসতে থাকে। কিন্তু পাড়ের খুব কাছে আসার সাথে সাথে বিকট বিস্ফরন ঘটে SS Ourang Medan জাহাজে এবং জাহাজটি সমুদ্রে ডুবে যায়। আজ পর্যন্ত এই SS Ourang Medan জাহাজের রহস্য কেউ উদ্ঘাটন করতে পারেন নাই।


০২)

ক্যারোলিন ওয়াল্টার


ক্যারোলিন ওয়াল্টার
১৮৬৭ সালে, জার্মানির ফ্রেইবুর্গ শহরে ক্যারোলিন ওয়াল্টার মারা যায় মাত্র ১৬ বছর বয়সে। তার বোনের ইচ্ছার অনুস্বারে ক্যারোলিন ওয়াল্টার কবরের উপরে তার প্রমান আকৃতির তার মত করে একটি মূর্তি স্থাপন করা হয়। বিগত ১৪৮ বছর ধরে কোন কেউ একজন মূর্তিটির হাতের কাছে একই ধরনের একই ফুলের ফুলের তোড়া প্রতিদিন রেখে যায় (উপরের ছবিটা দেখুন, হাতের কাছে ফুল)। কিন্তু কে এই ফুলের তোড়া রেখে যাচ্ছে ১৪৮ বছর ধরে তা আজ পর্যন্ত কেউ জানে না।


০৩)

সোডার পরিবারের শিশু


সোডার পরিবারের শিশু
১৯৪৫ সালের বড় দিনের রাতে। হঠাৎ করে আগুন লেগে যায় সোডার পরিবারের বাড়িতে। জর্জ এবং জেনি সোডার তাদের ৪জন সন্তান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হতে পারলেও তাদের আরো পাঁচ সন্তান থেকে যায় বাড়ির মধ্যে। আগুন নিভে গেলে বাকি পাঁচ সন্তানের লাশ আর খুঁজে পাওয়া যায় নি। বাড়িটি এত বেশি সময় ধরে আগুন ধরে ছিল না, যে তা মানুষের শরীরকে সম্পূর্ন ছাইয়ে পরিনত করে দিবে।




২০ বছর পরে সোডার পরিবারের কাছে একটি বেনামে চিঠি আসে। আর সেই চিঠিতে ছিল ২০ বছর আগে হাড়িয়ে যাওয়া তাদের পাঁচ সন্তানের ছবি। আর ছবির পিছনে লেখা ছিল, "Louis Sodder. I love brother Frankie. Ilil boys. A90132 or 35." তার এ নিয়ে অনেক অনুসন্ধান চালালেও তাদের সেই পাঁচ সন্তানের কোন খোঁজ তারা পাননি।


০৪)

Hinterkaifeck


জার্মানির বার্লিন শহরের ছোট একটি গ্রামে একটি ফার্মে বসবাস করত আন্দ্রিয়াস গ্রুবার, তার স্ত্রী কাজিলিয়া, তাদের বিধবা কন্যা ভিকটরিয়া গ্রাব্রিয়েল এবং ভিক্টরিয়ার দুই সন্তান কাজিলিয়া এবং জোসেফ। আর থাকত তাদের কাজের লোক মারিয়া। রহস্যজনক ভাবে এক রাতে তাদের সকলকে কেউ এক রাতে হত্যা করে।
হত্যার সময় রেখে যাওয়া কুঠার
এবং তাদের মৃৃৃৃতদেহ 
এই হত্যাকান্ডের পূর্বে পরিবারবর্গ সকলেই লক্ষ করেছিল যে বাড়ির আশে-পাশে শিকার চলছে এবং তাদের চালা থেকে অদ্ভুত শব্দ শোনা যাচ্ছিল। এমন কি ঘরের এক সেট ছাবি তারা খুঁজে পাচ্ছিল না। খুনের প্রমান হিসেবে পাওয়া যায় শুধু মাত্র একটি কুড়াল আর আগুনে পুরে যাওয়া কাঠ-কয়লা। যা খুনিকে সারা রাত উষ্ণ রেখেছিল। পুলিশ আরো জানান যে, খুনি সকালে বের হয়ে যাবার পূর্বে ফার্মের সকল পশুকে তাদের দৈনিক খাবার দিয়ে গিয়েছিল।



৫।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের কার্টুন


পাশাপাশি রাখা ২০০ সালের প্রকাশিত কার্টুন
এবং বর্তমানে ট্রাম্প! 
সিম্পসনস নামের বিখ্যাত কার্টুনটি বেশ কয়েক বছর আগেই ভবিষ্যৎবানী করেছিল যে ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসবেন। ২০০০ সালে রসিকতা করে বলা হয়েছিল এই কথা, কে জানত যে সত্যিই এমন হবে! আরও অবাক ব্যাপার হলো কার্টুনের দৃশ্যগুলোর সাথে আসলে অনেক কিছুই মিলে যায়।


০৬)

মানব মশাল


Benedetto Supino
১৯৮২ সাল, স্পেইনের "Benedetto Supino" নামের বালকটি যখন আনন্দের সাথে স্বাধের কমিক বইটি পরছিল, তখনই হঠাৎ করে তার গায়ের কাপড়ে আগুল লেগে যায়। তার কমিক বইয়ের প্রিয় হিরোর মত তারও অলৌকিক ক্ষমতা এসে যায় কিন্তু কমিকের হিরোর মত সে কিন্তু গায়ের আগুন নিয়ন্ত্রন করতে পারে না। সে যে বিছানায় ঘুমাতো সেই বিছানার চাদরে প্রায়ই আগুন লেগে যেত এবং তার আশে-পাশের কোন ইলেক্ট্রনিক জিনিষ ঠিক মত কাজ করত না। আজ পর্যন্ত বিশেষজ্ঞরা এই রহস্যের কোন কূলকিনারা করতে পারে নি।

০৭)

রহস্যে ঘেরা মৃত্যু



১৯৫৯ সালে, রাশিয়ার একদল অভিজ্ঞ পর্বতরোহীর দল ঠিক করল তারা রাশিয়ার "উরাল পাহাড়" (Ural Mountain) আরোহণ করবে। তারা সকলেই রহস্যজনক ভাবে মারা গেলেন। তাদের তাবু ভিতর দিক থেকে টেনে ছিড়ে ফেলা হয়েছিল এবং তাবু থেকে খালি পায়ে ছাপ বনের দিকে চলে যায়। সেই পায়ের ছাপ অনুসরণ করে দু'জন পর্বতরোহীর মৃত দেহ খুঁজে পাওয়া যায়। রহস্যের কথা হচ্ছে এই শীতের মধ্যে এই দু'জন শুধু মাত্র অন্তর্বাস পরে ছিলেন।
Death of Ural Mountain
ক্যাম্পের এলাকার আশে পাশেই আরো তিন জনার মৃত দেহ খুঁজে পাওয়া যায় এবং সব শেষে দু'মাস পরে বাকি চারজনের মৃত দেহ খুঁজে পাওয়া যায় ক্যাম্প এলাকা থেকে ৭৫ মিটার দূরে। সকলেই নিজেদের অন্তর্বাস পরিহিত অবস্থায় ছিল। আজ পর্যন্ত তাদের মৃত্যুর কারন আর এই কনকনে শীতের মধ্যে কেনই বা তারা তাদের অন্তর্বাস পরে বের হয়ে ছিল তার কোন হদিস মেলে নি।




৮।

টাইটানিকের ভবিষ্যৎবাণী



টাইটানিক সিনেমার বদৌলতে বিশাল এই জাহাজের কথা আমরা সবাই জানি, যা আদতেই ডুবে গিয়েছিল। অদ্ভুত ব্যাপার হলো, এই পুরো ঘটনার কথা জানা যায় এমন এক বই থেকে, যা লেখা হয়েছিল টাইটানিক ডুবে যাবার আগেই।
ফিউটাইলিটি
১৮৯৮ সালে, টাইটানিক ডোবার ১৪ বছর আগে মরগান বার্টসন লেখেন “ফিউটাইলিটি”, যাতে বর্ণনা করা হয় দি টাইটান নামের এক জাহাজের ডুবে যাওয়ার ঘটনা। দুটোকেই “আনসিঙ্কেবল” বলা হয়েছিল, কম সংখ্যক লাইফবোট ছিল, আর উত্তর আটলান্টিকে হিমবাহের সাথে সংঘর্ষে ডুবে যায় দুটোই।




০৯)

YOGTZE-Fall


"গান্থার ষ্টল" ছিলেন একজন "খাদ্য প্রকৌশলী"। ১৯৮৪ সালে তার মৃত্যুর পূর্বে তিনি তার স্ত্রীকে প্রায়ই বলতেন, "তারা আমার পিছে লেগে আছে।" তার স্ত্রী কোন দিন তাকে জিজ্ঞাসাও করেন নাই "তারা" কারা আর এ নিয়ে তিনি নূন্যতম চিন্তিতও ছিলেন না। যে রাতে গান্থার ষ্টল মারা যান সেই রাতে এক অদ্ভুত ঘটনা ঘটে। হঠাত করেই তিনি চিৎকার করে ওঠেন, "Jetzt geht mir ein Licht auf!" (এখন আমি বুঝে গেছি!), এবং চেয়ারের উপর লিখে রাখেন "YOGTZE"। এরপর তিনি তার গাড়ি নিয়ে বের হয়ে যান।
YOGTZE-Fall

সেই রাতেই, আনুমানিক ৩টার দিকে তার মৃতদেহ খুঁজে পাওয়া যায় তার গাড়ির মধ্যে উলঙ্গ অবস্থায়। ময়না তদন্তে ধরা পরে যে, মৃতুর আগে তাকে আঘাত করা হয়েছিল, এমনকি তার গায়ের উপর দিয়ে গাড়ি চালনাও করা হয়। মৃতুর এই রহস্যের থেকেও বড় রহস্য হয়ে এখনও রয়ে গেছে "YOGTZE" শব্দটি। এই শব্দটির মানে এখন পর্যন্ত জানা সম্ভব হয় নাই।



১০।

এডগার অ্যালান পোয়ের টাইম মেশিন



হরর লেখক ছিলেন তিনি। কেন মনে করা হয় তার টাইম মেশিন ছিল? তিনি লেখেন The Narrative of Arthur Gordon Pym of Nantucket নামের ভয়াবহ এক কাহিনী, যেখানে দেখা যায় জাহাজ ডুবে যাবার পর চার নাবিক বেঁচে যায়, বাঁচতে গিয়ে জাহাজের রিচার্ড পার্কার নামের এক ছেলেকে খেয়ে ফেলে তারা।
এডগার অ্যালান এবং তার বই
এডগার অ্যালান পো বলেন এই বই একটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে লেখা। কিন্তু আসলেই এই ঘটনা ঘটে বইটি লেখার ৪৬ বছর পরে। জাহাজ ডুবি হবার পর রিচার্ড পার্কার নামের এক ছেলেকে খেয়ে ফেলে নাবিকেরা। এ থেকেই গুজব রটে যে এডগার অ্যালান পোয়ের টাইম মেশিন ছিল।

লিখেছেন: জানা অজানার পথিক এবং AroJani.com

নিয়মিত আপডেট পেতে আরো জানি ফেসবুক গ্রুপে যোগ দিন ।