Friday, January 25, 2019

দাউদ ইব্রাহিম: অদেখা সম্রাজ্যের রাজা!

সবাই তাকে ভয় পায়, তার নাম শুনলে বাঘে-মহিষে এক ঘাটে জলও খায়।

এফবিআই এবং ইন্টারপোলের মোস্ট ওয়ান্টেড ক্রিমিনাল লিস্টে তার নামটা সবসময় শীর্ষে থাকে। তিনি হচ্ছেন দাউদ ইব্রাহিম

 ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘’ হন্যে হয়ে খোজে তাকে, কখনো সে অমুক জায়গায় আছে, তমুক জায়গায় আছে, অথচ তার খোঁজে সেখানে হানা দিলে লোকটার চুলের নাগালও পাওয়া যায় না।

শুধুকি ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা? সয়ং ইন্টারপোল এবং আমিরিকান শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থা FBI কে পর্যন্ত বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে আড়ালে রাজত্ব করে যাচ্ছে দাউদ।

অদেখা সম্রাজ্যের রাজা দাউদ ইব্রাহিম :আরো জানি
তবে ভারতের অভিযোগ দাউদ ইব্রাহিমকে প্রতক্ষভাবে সহায়তা করছে পাকিস্তান এবং পাকিস্তানি সামরিক এবং গোয়েন্দা বিভাগ।

চলুন যেনে নেই কে এই দাউদ ইব্রাহিম?

নাম তার দাউদ ইব্রাহিম, ভারত থেকে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্যের আন্ডারগ্রাউন্ডের অবিসংবাদিত কিং।  ‘ডন’ শব্দটা যার নামের পাশে সবচেয়ে মানানসই!

দাউদের জন্ম ১৯৫৫ সালে ভারতের মুম্বাইয়ের ডংরিতে। দাউদ ইইব্রাহিমের বাবা ইব্রাহিম কসকর ছিলেন অত্যন্ত সৎ একজন পুলিশ কনস্টেবল।




ইব্রাহিম কসকর ছিলের ভীষণ ধর্মভীরু। যার কারনে নবী দাউদ (আঃ) এর নামে ছেলের নাম রেখেছিলেন তিনি।

সেই দাউদ ইব্রাহিম আজ  হয়ে উঠেছেন জগদ্বিখ্যাত এবং কুখ্যাতই মাফিয়া ।

দাউদ ইব্রাহিমের পরিবার।


মেয়ের সাথে দাউদ ইব্রাহিম

দাউদের স্ত্রীর নাম মবজবীন ওরফে জুবিনা জরিন।  একমাত্র ছেলে মোইন নওয়াজ। দাউদের তিন মেয়ে
১: মাহরুখ 
২: মারহীন
৩: মারিয়া (মারিয়া ১৯৯৮ সালে
মারা যায়)

দাউদ ইব্রাহীমের জীবনি

দাউদ সর্বপ্রথম  অপরাধ জগতে আসে করিম লালা গ্যাংয়ের হাত ধরে। করিম লালা ছিলো তখনকার মুম্বইয়ের কুখ্যাত ডন।

কিন্তু আশির দশকে আন্ডারওয়ার্ল্ডের কুখ্যাত নাম হয়ে যায় দাউদ ইব্রাহিম।

মুম্বাই রেলস্টেশনে এক লোকের টাকা ছিনতাইয়ের মধ্যে দিয়ে শুরু হয় দাউদ ইব্রাহিমের অপরাধ জগৎ। বড় ভাই শাবির ইব্রাহিমের হাত ধরে এই জগতে আরো ঘনিষ্ঠভাবে প্রবেশ করে দাউদ।

তৎকালীন আফগানিস্তান থেকে আসা পাঠান গ্যাঙের সঙ্গে দাউদের দলের লোকেদের প্রায়ই ঝামেলা হয়।
পাঠানদের ভাড়া করা গ্যাংস্টার মানিয়া সুব্রের হাতে খুন হলো দাউদের ভাই সাবির ইব্রাহিম কাসকার।
শুরু হলো রক্তের খেলা।  দাউদ মরিয়া হয়ে মাঠে নামলো ভাইয়ের খুনের বদলা নিতে, মুম্বাই সাক্ষী হলো ভারতের ইতিহাসের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী গ্যাংস্টার ফাইটের।

সেই রক্তক্ষয়ী গ্যাংদের যুদ্ধে পাঠান আর সুব্রে গ্যাঙের প্রায় সব সদস্যকে দাউদ মুম্বাইছাড়া করেছিল।
প্রাণ বাঁচাতে তাদের কেউ কেউ যোগ দিয়েছিল দাউদের দলে।

পুলিশকে প্রচুর টাকা খাইয়ে মানিয়ে সুব্রেকে এনকাউন্টারে হত্যা করায় দাউদ।

মুম্বাইতে দুই নম্বরী কিছু করতে গেলে দাউদের অনুমতি নিয়ে করা লাগতো , নাইলে কখন যে ঘাড় থেকে মাথাটা আলাদা হয়ে যাবে সেটা দাউদ ছাড়া কেউ জানবেও না!

দাউদের দেশ পলায়ন।

আশির দশকের শেষদিকে মুম্বাইতে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু হয়। ছিছকে চোর থেকে শুরু করে  শীর্ষ ক্যাডারদের পর্যন্ত  ধরা পড়তে হয়েছিলো পুলিশের জালে।
অবস্থা বুঝে ভারত ছাড়লো দাউদ, পাড়ি দিলো মাফিয়াদের অভয়ারণ্য দুবাইতে।

দেশের বাহিরে থেকে আন্ডারগ্রাউন্ড নিয়ন্ত্রন করতো এই দাউদ ইব্রাহিম।

দাউদের এ সম্রাজ্য পরিচালনা করতো তার ডান হাত খ্যাত "ছোট শাকিল" এবং তার বোন "হাসিনা"

দাউদ ইব্রাহিমের অদেখা সম্রাজ্য।

ভারত ছেড়ে দুবাই চলে যাওয়ার পর দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে বড় অপরাধ সিন্ডিকেট "ডি কোম্পানি" গড়ে তোলেন দাউদ ইব্রাহিম।

দাউদ ইব্রাহিমের অদেখা সম্রাজ্য 
জানা যায় তার এই "ডি কম্পানি" তে প্রায় ৫ হাজার সক্রিয় সদস্য কাজ করতো।
খুন, চাঁদাবাজি, অস্ত্র পাচার, মাদক চোরাচালান, গুম এবং ম্যাচ ফিক্সিং পর্যন্ত চলতো দাউদের এই "ডি কম্পানির" হাত ধরে।
এছাড়াও নামে বেনামে বেটিং ও বলিউডের ছবি প্রযোজনা করত দাউদ ইব্রাহিম।
বলিউডের অনেক সিনেমায় দাউদ নামে বেনামে অর্থ বিনিয়োগ করেছিলেন বলে শোনা যায়।
সালমান খানের শুরুর দিককার বলে একটি সিনেমা ‘চোরি চোরি চুপকে চুপকে’ দাউদের প্রযোজনায় নির্মিত হয়েছিল বলে গুজব আছে। বলিউডের অনেক নায়িকার সঙ্গে তার অন্তরঙ্গতার গুজবও শোনা গেছে নানা সময়ে।
ধারনা করা হয় ভারত-পাকিস্তান আর ওয়েস্ট ইন্ডিজের অনেক খেলোয়াড়ের সঙ্গেই সুসম্পর্ক ছিল তার, দাউদের হয়ে ম্যাচে ফিক্সিং করেছেন অনেক ক্রিকেটারই, কেউ স্বেচ্ছায়, কেউবা বাধ্য হয়ে।
শিপিং, এয়ারলাইন্স কিংবা রিয়েল এস্টেট ব্যবসা, প্রতিটা জায়গাতে টাকা খাটিয়েছে সে, তুলে নিয়েছে মুনাফা। ফুলেফেঁপে উঠেছে তার ব্যাংক ব্যালেন্স।
তার বর্তমান সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৭.৫ হাজার কোটি রুপী। (তথ্য সূত্র : ইউকিপিডিয়া)

অপরাধ জগৎ এ দাউদের যত রেকর্ড

দাউদ আছে ইনাটারপোলের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায়।
মার্কিন সাময়িকী ফোর্বস-এর বিশ্বের
শীর্ষ পলাতক অপরাধীদের ২০১১ এর তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছেন দাউদ ইব্রাহিম। (২০০৮ সালেও তিনি
ফোর্বস-এর তালিকায় চতুর্থ স্থানে ছিলেন।)
এছাড়া ভারতীয় পুলিশের পলাতক অপরাধীদের তালিকায়ও তার নাম শীর্ষে। (তথ্যসূত্র : ইউকিপিডিয়া)

দাউদকে ধরতে যত ব্যার্থ প্রচেস্টা

দাউদকে ধরতে নানান সময়ে নানায় জায়গায় অভিযান চালিয়েছিলো ভারতীয় সামরিক বাহিনী, ইন্টারপোল এবং FBI.

কিন্তু কখনো দাউদকে ধরাতো দূরে থাক দাউদের কাছেও ঘেষতে পারিনি তারা!

দাউদের মেয়ে মাহরুখ ইব্রাহিমের বিয়ে হয়েছিল পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার জাভেদ মিয়াদাদের ছেলে জুনাইদ মিয়াদাদের সঙ্গে।  এই বিয়েতে ইন্টারপোল, এফবিআইয় এবং "র" এর তীক্ষ্ণ নজরদারী ছিল। সবাই জানতো দাউদ অবশ্যই আসবেন এখানে। সক্রিয় ছিল FBI, ইন্টারপোল এবং ভারতের গোয়েন্দা বিভাগের প্রায় দুইশোর বেশী এজেন্টও।

কিন্ত আন্ডারগ্রাউন্ডের এই রাজাকে ধরাকি এতই সোজা?!

সবার অগোচরে পাকিস্তানি গোয়েন্দাদের সহায়তায় দাউদ এসে তার মেয়ে আর মেয়ে জামাইকে আংটি পরিয়ে চলে গিয়েছিল, তার নাগালে ঘেঁষা তো দূরের কথা, দাউদ এসেছে এমন খবরটাও সঙ্গে সঙ্গে পায়নি এদের কেউ!

দাউদকে নিয়ে যত ছবি।

দাউদ ইব্রাহিমের অপরাধ জীবনের ঘটনা নিয়ে বলিউডে কয়েকটি চলচ্চিত্রও নির্মাণ করা হয়েছে। যাদের মধ্যে আছে


  • ব্ল্যাক ফ্রাইডে (২০০৪)
  • ডি (২০০৫)
  • শূটআওট অ্যাট লোখান্ডওয়ালা (২০০৭)
  • ওয়ান্স আপন অ্য টাইম ইন মুম্বাই (২০১০)
  • ওয়ান্স অ্যাপন অ্য টাইম ইন মুম্বাই দোবারা (২০১২)
  • শ্যূাটআউট অ্যাট ওয়াড়ালা (২০১৩) 


Wednesday, January 16, 2019

ব্লু হোয়েল সুইসাইড গেমের যতো অজানা কথা!

দিন যত এগুচ্ছে পৃথিবী তত ডিজিটাল হচ্ছে। আর তারসাথে পাল্লা দিয়ে উন্নত হচ্ছে প্রযুক্তি।
আগে যেখানে ছেলেমেয়েরা সময় কাটানোর জন্য বাড়ির মানুষের সাথে বসে আড্ডা দিতো অথবা খেলার মাঠে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিতো এখন সেরকম দৃশ্য খুবই বিরল।

কারন এখন সবাই সময় কাটানোর জন্য বেছে নিয়েছে অনলাইন বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুলো।
আর কেউ কেউ মাঠে খেলার বদলে বেছে নিয়েছে অনলাইনই  গেমস্।
ব্লু হোয়েল সুইসাইড গেম

জ্বি আজ আমরা সেই রকমই একটি গেমস্ নিয়ে কথা বলবো। শুরুতেই বলে নিই গেমস্ টির নাম " ব্লু হোয়েল " (Blue Whale) বা অনেকে বলে থাকেন "ব্লু হোয়েল সুইসাইড গেমস্"  (Blue Whale Suicide Game)।

প্রথমে জেনে নিই গেমস্ টির নামকরন সম্পর্কে।

ব্লু হোয়েল গেমস্ এর "ব্লু হোয়েল" অংশটি নামকরন করা হয় সমুদ্রের নীল তিমির নাম অনুযায়ী (blue whale এর বাংলা নীল তিমি)।
যেহেতু নীল তিমি হচ্ছে আত্তহত্যার প্রতীক এবং গেমস্ টির গেমারদেরও সর্বোশেষ পরিনতি অাত্তহত্যা তাই এর গেমস্ টির নাম "ব্লু হোয়েল বা ব্লু হোয়েল সুইসাইড গেমস্"।

ব্লু হোয়েল গেমসটি তৈরি হয় রাশিয়াতে এবং যদিএ বর্তমানে তা অনেকগুলো দেশে ছড়িয়ে গেছে!

গেমস্ টি কিভাবে খেলে?

ব্লু হোয়েল গেমস্ টিতে রয়েছে ৫০ টি লেভেল যা গেমার্সকে ৫০ দিনে খেলতে হবে।

তবে শুনতে সহজ হলেও কাজে ততটা সহজ নয়। আর এর লেভেলগুলো এতটাই কস্টকর যে সবাই এগুলোকে আত্তনির্যাতনমূলক লেভেল বলে।

আর বলবেইনা কেন? কিছু লেভেলে গেমার্সকে এমনই সব কাজ করতে হবে যা সত্যিই ভয়ংকর এবং শরীর শিউরে উঠার মত। যেমন : শরীরে ৫০ টি সুই ঠুকিয়ে দেয়া, হাত কেটে ক্ষতবিক্ষত করে ফেলা ইত্যাদি। এবং সর্বশেষ (৫০ তম)  লেভেল হচাছে আত্তহনন বা আত্তহত্যা।

নীল তিমির আকারে হাত কেটে  গেম পেজে পোস্ট দেয়া একটি ছবি

এখন আপনার মনে সহজেই প্রশ্ন উঠতে পারে কোন মানুষ কেন এমন পাগলামি করবে? কেনইবা নিজের শরীর নিজে ক্ষতবিক্ষত করবে?

তাহলে আপনার প্রশ্নের উত্তর শুনুন। গেমস্ টার প্রথম কয়েকটি লেভেল হবে অনেক মজাদার, যেমন আপনাকে ভোর ৪ টায় উঠে পড়তে বসতে হবে, রাত ২:৩০ এ উঠে ভূতের Horror Movi দেখতে হবে,  গভীর রাতে একা একা হাটতে হবে ইত্যাদি। যার ফলে একজন গেমার সহজেই আকৃষ্ট হতে থাকে এবং ধীরে ধীরে লেভেলগুলোও কঠিন হতে থাকে।

 এবং গেমস্ টির বিশেষ একটি নিয়ম হচ্ছে প্রতিটা লেভেল শেষ করে সেই লেভেলে করা কাজগুলো গেমের নির্দিষ্ট পেজে পোস্ট দিতে হবে এবং আপনি লেভেলটি জয়ী হলে আপনাকে পরবর্তী লেভেলের কাজ দেয়া হবে।

গেমটির জন্য যত মৃত্যু! 

সাম্প্রতিককালে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে একাধিক দুর্ঘটনা এবং আত্মহত্যার ঘটনায় নাম জড়িয়েছে ‘ব্লু হোয়েল সুইসাইড গেম’ নামের এই সোশ্যাল গেমিং-এর। এক পরিসংখ্যানগত তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায় যে, গত তিন মাসে রাশিয়া এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় মোট ১৬ জন তরুণী আত্মহত্যা করেছেন। এতো কম সময়ের মধ্যে এত জন অল্পবয়সী মেয়ের আত্মহত্যার ঘটনা বিস্মিত করেছিল পুলিশকেও। এদের মধ্যে সাইবেরিয়ার দুই স্কুলছাত্রী য়ুলিয়া কনস্তান্তিনোভা (১৫) এবং ভেরোনিকা ভলকোভা (১৪) একটি বহুতলের ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করে বলে পুলিশ রিপোর্ট থেকে জানা যায়। তদন্তকারী অফিসারদের তখন মনে হয়েছিল, এই সমস্ত আত্মহনন হয়তো বিচ্ছিন্ন কোন ঘটনা নয়, হয়তো কোনও গোপন যোগসূত্র রয়েছে এদের মধ্যে। মৃত্যুর পূর্বে য়ুলিয়া তার সোশ্যাল পেইজে একটি তিমির ছবি

পোস্ট করে লিখে যায় ‘সমাপ্ত’। তদন্তে নেমে পুলিশের নজরে আসে এই ‘ব্লু হোয়েল সুইসাইড গেম’। পুলিশ আরো ধারণা করতে থাকে সারা বিশ্বে অন্তত ১৩০ জন মানুষের আত্মহননের জন্য পরোক্ষে দায়ী এই অনলাইন গেইম।

 শুধু এটাই নয়, গত কয়েকদিন আগেও  ভারতের এক কিশোর পাঁচ তলা থেকে ঝাপ দিয়ে আত্তহত্যা করে । এই ব্লু হোয়েল সুইসাইড গেমের কারনে।

পুলিশের ধারণা, ইদানিংকালে আত্মঘাতী ১৬ জন তরুণীই এই গেমের ৫০তম টাস্কের শর্ত অনুযায়ী আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছে। রাশিয়া পুলিশের আশঙ্কা, সাম্প্রতিককালে গোটা বিশ্বে আত্মঘাতী হওয়া অন্তত ১৩০ জনের আত্মহননের পেছনে রয়েছে এই ‘ব্লু হোয়েল সুইসাইড গেম’।

আন্তর্জাতিক মিডিয়াকে রাশিয়ার পুলিশ জানায়, য়ুলিয়া এবং ভেরোনিকাসহ আত্মহত ১৬ তরুণীই সুইসাইড গেম-এ আসক্ত ছিল। তারা একেকজন ছিল নিষ্ঠাবান খেলোয়াড়। প্রায় উন্মাদনার পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছিল তাদের জীবনে এই খেলা। খেলায় নিজেকে জয়ী দেখতে চাওয়ার নেশায় তারা নিজেকে শেষ করে ফেলতেও দ্বিধাবোধ করেনি। প্রত্যেকে প্রতিযোগীই খেলার ৫০তম লেভেল পর্যন্ত পৌঁছেছিলেন। এই ৫০তম লেভেলেই প্রতিযোগীকে আত্মহত্যা করতে হয়। আর এভাবেই এসব তরুণী আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।

আরো পড়ুন:


তদন্তে নেমে পুলিশ হন্যে হয়ে খুজতে থাকে ব্লু হোয়েল গেমের পেজটির এডমিনকে। পরিবর্তীতে জানা যায় সেই পেজের প্রধান এডমিন এবং গেমটির আবিষ্কারকের নাম  "ফিলিপ"। এরপর পুলিশ হন্য হয়ে খুজতে থাকে এই ফিলিপকে।

 কিন্তু সকলের মনেই প্রশ্ন জাগে কে এই ফিলিপ ? এবং কেনই বা তার জন্য নিজের প্রাণ দিয়েছেন তরুণ-তরুণীরা?

রাশিয়ার পুলিশের প্রাপ্ত সূত্র হতে জানা যায়,ফিলিপ ছিল রাশিয়ারই একজন বাসিন্দা যার বয়স ২১ বছর। সে ভিকোন্তাক্তে নামক সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘ব্লু হোয়েল সুইসাইড গেম’ নামের এই সোশ্যাল গেমিংটির পেজের একজন অ্যাডমিন ছিল। অবশেষে অনেক তদন্ত চালিয়ে পুলিশ ফিলিপ-কে গ্রেফতার করে।
ব্লু হোয়েলের আবিষ্কারক ফিলিপ

পুলিশের তীব্র জেরায় এই গেমর কথা স্বীকারও করে নেয় ফিলিপ। কিন্তু সে এইসব মৃত্যুর দায় নিতে অস্বীকার করে এবং সে কোনোভাবেই তার এই অনলাইন গেমকে অপরাধ বলে মানতে রাজি নন।

ফিলিপের বক্তব্য, সে তার এই খেলার মধ্য দিয়ে সমাজের ‘শুদ্ধিকরণ’ করছে। ফিলিপ গর্বের সাথে বলতে থাকে, সমাজে যাদের বেঁচে থাকা উচিত নয়, তাদেরকে সমাজ থেকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়াই ছিল তার লক্ষ্য।
আরো পড়ুন:


ফিলিপের মুখে এই সমস্ত কথা শুনে পুলিশের মনে তার মানসিক সুস্থতা নিয়েই সন্দেহ জাগে। ফিলিপ বর্তমানে সেন্ট পিটার্সবার্গের ক্রিস্টি জেলে বন্দী অবস্থায় অাছে।

কিন্তু কথা হচ্ছে, এডমিন গ্রেফতার হলেই সোশ্যাল মিডিয়ার একটি পেজ বন্ধ হয়ে যায় না। ফিলিপকে বন্দী করা গেলেও তার পেজের কার্যক্রম থেমে থাকেনি এবং পেজটি বন্ধও হয়নি। ফলে পেজটি নিয়ে পুলিশের মনে চিন্তার রেখা থেকেই যাচ্ছে। বর্তমানে ‘ব্লু হোয়েল সুইসাইড গেম’টি রাশিয়ার সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তরুণ-তরুণীদের মধ্যেও দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এর ফলে চিন্তা বাড়ছে ইউরোপের একাধিক মনোবিজ্ঞানী এবং সমাজবিজ্ঞানীদের। স্কুল কলেজ থেকে প্রচারণা চালানো হচ্ছে এবং অভিভাবকদের সর্তক করে দেয়া হচ্ছে যেন তারা তাদের সন্তানদের এই গেম থেকে দূরে রাখে। তাই সুইসাইড গেমের এই পেজটিকে নিষিদ্ধ করার কথাই ভাবছে পুলিশ-প্রশাসন।

সবকিছুই কেমন অদ্ভুত মনে হয় না? একটা সাধারণ গেম কীভাবে উচ্ছল কিশোরীর জীবন কেড়ে নিচ্ছে! মনোবিশেষজ্ঞরাও বিষয়টি নিয়ে বেশ চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। কেন একটা গেমের কারণে এতগুলো ছেলে মেয়ে আত্মহত্যা করছে তা খুবই উদ্বেগজনক । বিষয়টির গভীরে অনুসন্ধানের জন্য রাজনীতিবিদদের তারা বিশেষভাবে অনুরোধ করেছেন।

জীবনের ব্যস্ততায় আমরা কমবেশি সকলেই একটু একটু করে মনোবেদনায় আক্রান্ত হচ্ছি, তা না হলে আমাদের মধ্যকার সোশ্যাল ভেল্যুগুলো কেন দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে? কেন আমরা আর সুখে, দুঃখে, আনন্দ, বেদনায় নিজেকে আর আন্দোলিত করতে পারি না? পরিবারের বা সমাজের সকলের মাঝের বন্ধন কেন আস্তে আস্তে ফিকে হয়ে যাচ্ছে? এসবই কি প্ররোচনা যোগাচ্ছে এমন গেম খেলতে? এবার হয়তো সবার ভাবার সময় এসেছে।

Sunday, January 6, 2019

ক্যানিবালিজম : মানুষ যখন মানুষের মাংস খায়!

ক্যাটাগরি
আলিফ লায়লা, হাতিম, টারজান এবং অন্যন্য সিরিজগুলো যদি দেখে থাকেন তবে নিশ্চই মানুষের মাংস খাওয়ার ব্যাপারগুলো আপনার চোখে পড়েছে।

প্রাচীন রুপকথায় বিভিন্ন দৈত্য দানব বা অদ্ভুদ প্রানীরা মানুষের মাংস খাওয়ার কাহিনী উঠে এসেছে।

এটা কেবল রুপকথাই। কিন্তু যদি এমন হয় যে স্বয়ং মানুষ হয়েও মানুষের মাংস খায় তবে চোখ কপালে উঠা অস্বাভাবিক কিছু না।
ক্যানিবালিজম: মানুষ যখন মানুষ খায়! 
জ্বি, এটা কোন রুপকথা না। বর্তমান এবং অতীতে এমন অনেক ঘটনা আছে যেগুলা জানান দেয় স্বয়ং মানুষ মানুষের মাংস খায়। কখনোবা মৃতদের মাংস কখনোবা হিংস্রতার সীমা ছাড়িয়ে জীবিতদের মাংস!

বিভিন্ন বই বা কাহিনীতে মানুষখেকোদের বর্ণনা থাকলেও একবিংশ শতাব্দিতেও পৃথিবী থেকে এদের অস্তিত্ব মিলিয়ে যায়নি।
বিশ্বে বেশ কিছু দুর্গম স্থান এখনও রয়েছে, যেখানে সভ্যতার আলো পৌঁছায়নি। আবার কোথাও কোথাও এই ভয়ানক ব্যাপারটির অবসান ঘটেছে মাত্রই। আজ আলোচনা করব এমন কিছু জায়গা, ঘটনা এবং সম্প্রদায় নিয়ে।

১. ভারত:  ভারতের বারাণসীতে এখনও একটি সম্প্রদায়ের মধ্যে মানুষ খাওয়ার প্রচলন রয়েছে। আঘোরি সাধু নামে বিশেষ এক সন্নাসী সম্প্রদায় রয়েছে যারা মৃত মানুষের মাংস খেয়ে থাকে। শুধু মৃত মানুষের মাংসই নয় যত খারাপ এবং নিম্নপর্যায়ের খাদ্যবস্তু আছে সবই খায় এরা। ময়লা আবর্জনা থেকে শুরু করে মৃত মানুষের মাংস পর্যন্ত। বর্নিত আছে এটা মৃত মানুষের দেহের উপর বসে ধ্যান করে এবং তাদের শরীরের মাংস খায়।
অঘোরি সাধু

২. পাপুয়া নিউগিনি: দেশটির পশ্চিমে কোরোয়াই উপজাতির মানুষেরা প্রতিশোধ হিসেবে মানুষের মাংস খেয়ে থাকে। ইন্দোনেশিয়ার সীমান্তবর্তী অঞ্চলটিতে এখনও এই সম্প্রদায়ের অন্তত ৩ হাজার মানুষ রয়েছে। ভিন্ন সম্প্রদায়ের সাথে সংঘাত ঘটলে নিজেরে ক্ষমতা দেখাতে এরা অন্য সম্প্রদায়ের লোকেদের ধরে এনে তাদের মাংস খায়। মাঝে মাঝে দলনেতা খাওয়ার মতো মানুষের সন্ধান না পেলে নিজেদের আত্মীয়-স্বজনের মাংসও খেয়ে থাকে। এর মাঝে এরা নিজেদের মধ্যে নিজেদের ক্ষমতা জাহিরের প্রচেষ্টা চালায়।
কোরোয়াই উপজাতি

৩. সিগাটোকা, ফিজি: দেশটিতে একসময় মানুষখেকোরা থাকলেও এখন তাদের দেখা পাওয়া যায় না। ঊনবিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগে এই অঞ্চলে চন্দন ব্যবসায়ীরা আসা যাওয়া শুরু করলে আদিবাসীদের মাঝেও সভ্যতার আলো পৌঁছাতে থাকে। যদিও বলা হয় এই দ্বীপাঞ্চলটির কোথাও কোথাও এখনও মানুষ খাওয়ার প্রবণতা মিলিয়ে যায়নি। তবে এটা এখন কেবল কল্পনা মাত্র। তবে হ্যা, সিগাটোকার নাইহেহে গুহায় যেসব নিদর্শন মিলেছে, তাতে স্পষ্টই বোঝা গেছে যে মানুষখেকোরা আসলে মিলিয়ে যায়নি।

৪. কঙ্গো: আফ্রিকার মধ্যাঞ্চলীয় দেশটির আদিবাসীদের মাঝে এখনও মানুষ খাওয়ার প্রবনতা মিলিয়ে যায়নি। প্রকাশ্যে না হলেও গোপনে মানুষের মাংস খাওয়ার অভ্যাস আছে তাদের। ২০০৩ সালের গোড়ার দিকে কঙ্গোর বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে মানুষ খাওয়ার অভিযোগ তোলে খোদ জাতিসংঘ। দ্বিতীয় কঙ্গো যুদ্ধের পর সরকারের এক প্রতিনিধি তাদের কর্মীদের জীবন্ত ছিড়ে খাওয়ার জন্য বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পর্যন্ত তোলেন।

৫. জার্মানি: আশ্চর্য হলেও সত্যি, জার্মানিতে মানুষের মাংস খাওয়া কোনো অপরাধ নয়। আর সেজন্যই ২০০১ সালের মার্চে আর্মিন মাইভাস নামের এক জার্মান নাগরিক রীতিমতো বিজ্ঞাপন দিয়ে মানুষ খেলেও তার বিরুদ্ধে খুনের মামলা ছাড়া কোনো অভিযোগ আনেনি পুলিশ। মানুষ খাওয়ার উদ্দেশে ‘দি ক্যানিবাল ক্যাফে’ নামের একটি ওয়েবসাইটে সুঠামদেহী, জবাইযোগ্য এবং আহার হতে চাওয়া মানুষের সন্ধান চেয়ে বিজ্ঞাপন দেন আর্মিন। অনেকে আগ্রহী হলেও বার্ন্ড জুর্গেন ব্রান্ডিসকে পছন্দ করেন আর্মিন। এরপর জার্মানির ছোট্ট গ্রাম রটেনবার্গে দুজনে মিলিত হন। একপর্যায়ে ব্রান্ডিসকে হত্যা করে প্রায় ১০ মাস তার মাংস খান আর্মিন মাইভাস। ২০০২ সালে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বিচারে তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়।

এটাতো গেলে ঘটনা। তবে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন কমান্ডো ফোর্সকে দূর্গম অঞ্চলে টিকে থাকার জন্য কাচা মাংস খাওয়ার ট্রেনিং দেয়া হয়ে থাকে।

জ্যাক ম্যা : হতভাগা বোকা ছাত্র থেকে শ্রেষ্ঠ ধনী হবার গল্প।

ক্যাটাগরি
প্রাচীন রুপকথায় আলী বাবার চিচিঙ ফাঁকের কাহিনী তো সবারই জানা।
ওই যে, চল্লিশ চোরের আস্তানার সামনে দাঁড়িয়ে আলী বাবা চিৎকার করলেন, চি..চি..ঙ ফাঁক। অমনি মড় মড় করে খুলে গেলো গুহার পাথুরে
দরজা। ভেতরে বিশাল রত্নভাণ্ডার। আর সেই ধনরত্ন দিয়েই কাঠুরি আলিবাবা হয়েগেলো বড়লোক।

বলছিলাম প্রাচীন রুপকথা, কিন্তু অাশ্চার্যের বিষয় এই বিংশ শতাব্দীতেও এমন একজন মানুষ সারা বিশ্বে আলোড়ন তুলেছেন যিনিও কি না আলিবাবা দিয়েই হয়ে উঠেছেন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ধনীব্যক্তিদের একজন। 

জ্যাক ম্যা
তার নাম জ্যাক ম্যা। বাড়ি চীনের হ্যাঙ্গজুই শহরে। বর্তমানে তার বয়স ৫০। ছাত্রবেলায় তিনি ছিলেন বোকা ছাত্র অর্থাৎ যাকে আমরা ব্যাঙ্গ করে বলি গাধা। 
কিন্তু কে জানতো চীনের এই বোকা ছাত্রটি হয়ে উঠবে চীনের শ্রেষ্ঠ ধনী?

জ্যাক ম্যা তার জীবনের প্রথম ভর্তি পরিক্ষায় ফেল করেন টানা ২ বার। বিসমিল্লাহতেই গলদ করেই এই ছাত্র বহু কস্টে শিক্ষাজীবনে ১৭ বার ফেল করে গিয়েছিলো কলেজ পর্যন্ত।
কলেজের ভর্তি পরীক্ষায় পর পর দুইবার ফেল করে সবশেষে এই অভিশপ্ত শিক্ষাজীবন ত্যাগ করতে বাধ্য হন। বাধ্য হয়েও তিনি জীবনের হাল ছাড়েননি।

বোকা ফেল্টুস ছাত্র হয়েও তিনি পড়তে চেয়েছিলেন হার্ভাড বিশ্ববিদ্যালয়ের মত পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ কলেজের একটি। সেখানেও ব্যার্থ হন তিনি। একবার না টানা ১০ বার চেস্টা চালিয়েছিলেন হার্ভাডে পড়ার জন্য কিন্তু ভগ্য সবার সহায় হয়না।

এই কপালপোড়া মানুষটার শিক্ষাজীবন শুধুমাত্র দুর্দশায় যায়নি, KFC যখন চীনে তাদের ব্যাবসার জন্য আসে তখন জ্যাক ম্যা সহ ২৪ জন kfc তে চাকরির জন্য আবেদন করেন।
সেখানে ২৩ জনের চাকরি হলেও বাদ পড়ে যান হতভাগা ম্য।

এমন ব্যার্থতার গ্লানি বইতে বইতে ক্লান্ত হয়ে  পড়া লেখা ছেড়ে শিক্ষকতার প্রশিক্ষণ নেনন জ্যা মা । এক বন্ধুর পরামর্শে মা ইয়ান থেকে তিনি ধারণ করেন নতুন নাম, জ্যাক মা। পরে ইংরেজীর শিক্ষক হিসাবে মাত্র ১০ ইয়েনের (চীনের মুদ্রার নাম ইয়েন) চেয়েও কম বেতনে শিক্ষকতার চাকরি নেন জ্যা ম্যা ।

অভাব অনটনে চলতে থাকে দিন। এর মধ্যে একবার যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণে যান ম্যা। সময়টা ছিলো ১৯৯৫ সাল। সেখানে দেখেন অনেকেই ইন্টারনেটভিত্তিক নানা ধরনের ব্যবসা করছেন। তার মনেও এ ধরনের চিন্তা আসে। তিনি হিসাব করে দেখেন, সামনের দিনগুলোতে ইন্টারনেটের সম্ভাবনা ব্যাপক।

দেশে ফিরে ম্যা পণ্য কেনা বেচার একটি ওয়েবসাইট খুলে বসেন। যার নাম দেন  ‘আলী বাবা ডট কম’। হয়তো তিনি কখনোই জানতেননা যে তার এই আলিবাবা একদিন তাকে চি চিং ফাকের মত করেই এক অভাগা বোকা ছাত্র থেকে করে তুলবে চীনের শ্রেষ্ঠ ধনী জ্যাক ম্যা তে। 

আলিবাবা ডট কম / Alibaba.com

যাইহোক, তার এ ব্যবসার দিকে ঝুঁক তৈরি হওয়ার পেছনে আরো একটি কারণ আছে। ম্যা জানান, তিনি হলিউডের গাম্প ফরেস্ট সিনেমার প্রধান চরিত্রকে দেখে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন। লোকটি চাল চলনে, পোশাকে আশাকে মোটেও স্মার্ট ছিলো না। আর আহামরি ধরনের মেধাও ছিলো না তার। কিন্তু তিনি এক নাগারে পরিশ্রম করতে পারেন। সিনেমার সেই চরিত্রের পরিশ্রম দেখেই উদ্বুদ্ধ হয়েছেন ম্যা। তিনিও আলী বাবার পেছনে ব্যাপক শ্রম ঢালতে লাগলেন। আর কথায় আছে, লেগে থাকলে মেগে খায় না। তিনি
এখন চীনের ধনী লোকদের একজন। শুধু তাই নয়, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপসহ আরো অনেক অনেক দেশে তার কেনাবেচার জাল ছড়িয়ে পড়েছে। এখন তার এই ওয়েবসাইটটির মূল্য, প্রায় ১৪০ বিলিয়ন ইয়েন।

কি এমন সেবা দেয় ওয়েবসাইটটি?

ম্যার এই আলী বাবা ওয়েবসাইটটির প্রধান সেবা হলো অনলাইনে কেনা কাটা। এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে সারা বিশ্ব থেকে চীনে উৎপাদিত যে কোনো পণ্য কেনা যাবে। এর কারণে এটি চীনের বড় একটি কেনাকাটার ওয়েবসাইটে পরিণত
হয়েছে। 

এটি টুইটারের চীনা ভার্সন হিসাবে সামাজিক যোগাযোগের কাজও করে। ইউটিউবের মতো সেবা আছে এদের। ভিডিওর জন্য চীনে বহুলব্যবহৃত এই আলী বাবা। আলী বাবা ক্রেতা ও বিক্রেতাদের বিভিন্ন তথ্য ও পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করে। এবং এ ওয়েবসাইটটি থেকে চলচ্চিত্রও প্রযোজনা করা হয়।

বর্তমানে জ্যাক ম্যা চীনের শ্রেষ্ঠ ধনী এবং পৃথিবীর ৩৩ নাম্বার ধনী ব্যাক্তি।

জ্যাক ম্যার জীবনের গল্প আমাদের বুঝিয়ে দেয় জীবনে হাল ছেড়ে না দিয়ে বারবার চেষ্টা করলে সফলতা অাসবেই।
হয়তোবা কারো আজ অথবা কারো কাল। 

Thursday, January 3, 2019

ভিপিএন কি? ভিপিএন কিভাবে কাজ করে? (VPN)

ক্যাটাগরি
ইন্টারনেট যারা ব্যাবহার করেন তারা কমবেশী VPN / ভিপিএন শব্দটা শুনেছেন।
তবে অনেকে হয়তো প্রথমবার VPN শব্দটা শুনে থ হয়ে দাড়িয়ে গিয়েছিলো কারন এই অদ্ভুদ নামের জিনিসটা আসলে কি?

তাদের মনে যে চিন্তাটা আসে তা হচ্ছে, VPN/ভিপিএন জিনিসটা কি? / কি এই ভিপিএন? এটা দিয়ে কি করা হয়? এমন অদ্ভুত নাম কেন?! ইত্যাদি ইত্যাদি...
ভিপিএন কি? ভিপিএন কিভাবে কাজ করে?
ভিপিএন কি?

ভিপিএন কি?

বেশীরভাগ বাঙ্গালীই মনে করেন ফ্রি নেট চালানোর জন্য যে এপ ব্যাবহার করে তা হচ্ছে VPN! কথাটা "হাইস্যকর" প্রচুর "হাইস্যকর"। কারন VPN মোটেও এ কাজের জন্য তৈরি করা হয়নি বা ব্যাবহার হয়না। এমন অদ্ভুদ ধারনা বা চিন্তার কারন আমাদের বিশেষ করে বাঙ্গালীর প্রযুক্তির ব্যাপারে অজ্ঞতার কারন।
তো আসুন আজ আপনাদের এই VPN সম্পর্কে কিছুটা ধারোনা দিই। :-)

VPN/ ভিপিএন কি?
VPN বা ভিপিএন শব্দটা মাত্র ৩ টি শব্দের সংমিশ্রণে তৈরি এবং এর একটি পূর্ণাঙ্গ রুপ আছে।

V= Virtual
P= Private
N= Network

অর্থাৎVPN এর মানে হচ্ছে Virtual Private Network.
সহজে যদি বলি তবে VPN হচ্ছে এমন একটা ব্যাবস্থা যার মাধ্যমে আপনি সম্পূর্ণ ইন্টারনেট জগৎএ নিজের সম্পূর্ন পরিচয় আড়াল করে চলতে পারবেন। যেমন ধরুন গোয়েন্দারা বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে মানুষের মধ্যে ঘুরে তেমনি VPN ব্যাবহার করে আপনি এমন ভিন্ন পরিচয়ে ইন্টারনেটে ঘুরতে পারবেন।
আরেকটু বুঝিয়ে বলি, ধরেন আপনি আপনার পাশের বাসার কোন এক সুন্দরী রমনীর সাথে দেখা করার জন্য তার বাসায় যেতে চান। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে আপনি নিজে কোনভাবেই নিজের নাম পরিচয় বা নিজের পোশাক পরে তার বাসায় যেতে পারবেননা কারন ঐ বাসার দারোয়ান আপনাকে চিনে ফেলবে।
তখন আপনি একটু বুদ্ধি খাটিয়ে একটা বোরকা পরে মেয়ে সেজে ঐ বাসায় কোন বাধা ছাড়াই চলে গেলেন।

এখন উপরের উদাহরনটিতে বোরকাই হচ্ছে VPN কারন এটা আপনার নিজের পরিচয় লুকিয়ে রেখে আপনার কাজে সহায়তা করেছে।
এখন আপনার মনে প্রশ্ন আসতে পারে, ইন্টারনেটে এটা আপনার পরিচয় কিভাবে লুকাবে?
তাহলে মন দিয়ে নিচের লেখা পড়ুন।

VPN/ ভিপিএনের কাজ কি?

এতক্ষনতো বুঝলেন VPN কি জিনিস। এবার বলবো এটা দিয়ে কি করে এবং এর কাজ কি?
ইন্টারনেটে চলাফেরার জন্য প্রতিটা মানুষেরই নিজস্ব পরিচয় থাকে যেটাকে বলা হয় IP (আইপি)। প্রতিটা মানুষের জন্য আলাদা আলাদা আইপি থাকে যেটা আপনার ব্যাবহৃত কম্পিউটার বা মোবাইলে সেট করা থাকে। এখন আপনি কোথায় কি করবেন এ মুহূর্তে কোথায় আছেন সব আপনার ঐ IP Address এর মাধ্যমে জানা যাবে।
এখন যদি আপনি VPN ব্যাবহার করে ইন্টারনেটে ঘুরঘুর করেন তবে আপনার ঐ IP অটোমেটিক চেন্জ হয়ে যাবে। ধরেন আপনার IP ছিলো 123, VPN ব্যাবহার করলে সেটা হয়ে যাবে 456! যার ফলে ইন্টারনেট জগৎএ কেউ আপনাকে ট্রাক করতে পারবে না আপনি নিজের পরিচয় গোপন রেখে আরামে কাজ করতে পারবেন।

সুতরাং মূল কথা হহলো VPN দিয়ে অাপনি অাপনার অাইপি চেন্জ করে অন্য একটা আইপি দিয়ে ইন্টারনেটে দিব্যি ঘুরতে পারবেন। যারফলে কেউ কোনভাবেই আপনার প্রকৃত পরিচয় বা প্রকৃত তথ্য পাবেনা।
ভিপিএন ব্যাবহারের ফলে ডাটা encrypt করে ফেলে
ভিপিএন encrypt প্রসেস

এছাড়াও যে সকল ওয়েবসাইটে আপনার প্রবেশে বাধা সেগুলি VPN ব্যাবহার করে সহজেই ঘুরে আসতে পারবেন!
যেমন ধরুন সরকার বাংলাদেশ থেকে Facebook ব্যাবহার বন্ধ করে দিলো। তার মানে বাংলাদেশীরা আর তাদের IP দিয়ে ফেসবুকে ঢুকতে পারবেনা। তখন আপনি চাইলে VPN ব্যাবহার করে খুব সহজেই ফেসবুক চালাতে পারবেন সবকার আপনার কিছুই করতে পারবে না।

এইযে সারাদিন অনলাইনে "হ্যাকার"দের গল্প শুনেন যারাকিনা সাইবার জগৎ এর নেতা তারাও সবাই নিজেদের আড়াল করার জন্য VPN ব্যাবহার করে!

VPN কেমন?

অনেককিছুইতো শুনলেন VPN সম্পর্কে, এখন কথা হচ্ছে এই VPN জিনিসটা দেখতে আসলে কেমন?

এটা মূলত একটা সফটওয়ার বা অ্যাপ্লিকেশন যা আপনি মোবাইল বা কম্পিউটারে ব্যাবহার করতে পারবেন। সফটওয়ারটির মাধ্যমে আপনি বাংলাদেশে বসে পৃথিবীর অন্য যেকোন দেশের আইপি ব্যাবহার করে ইন্টারনেট মামাকে বোকা বানাতে পারবেন!
অর্থাৎ পুরো ইন্টারনেট জগৎ জানবে আপনি বাংলাদেশ নয় অন্য দেশ থেকে নেট চালাচ্ছেনন আসলে কিন্তু আপনি বাংলাদেশে! কি অদ্ভুত ব্যাপার তাইনা?

VPN দিয়ে কি কি কাজ করা হয়?

১। VPN ব্যবহারের ফলে আপনার অবস্থান কেউ ট্র্যাক করতে পারবে না।

২। IP address (Internet Protocol address) হাইড করে রাখে যার ফলে নিজের পরিচয় লুকিয়ে রাখতে পারবেন।

৩। VPN ব্যবহার করার ফলে আপনি নিরাপদে তথ্য আদান প্রদান করতে পারবেন।

৪। অনেকসময় VPN ব্যাবহারের ফলে আপনার ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী আইপিএস থেকে নেটের ফুল স্পিড পাবেন। (অধিকাংশ সময় নয়)

৫। VPN নিরাপদ যোগাযোগ এবং ডাটা encrypt করার সবচেয়ে ভালো পদ্ধতি। মানে VPN আপনাকে একটি ভার্চুয়াল নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযুক্ত করতে পারে এবং আপনার পাঠানো সব data দ্রুততার সঙ্গে encrypt করে ফেলে অর্থাৎ public domain থেকে লুকিয়ে রাখে এবং এটা আপনার browsing history-র কোনো ট্র্যাক রাখে না যার ফলে আপনি অনলাইনে পুরোপুরি নিরাপদ।

VPN কিনতে হয় নাকি ফ্রি?

VPN ফ্রি এবং পেইড দুভাবেই পাওয়া যায়। ফ্রি VPN এ কিছু সীমাবদ্ধতা থাকে যেটা পেইড ভিপিএনে থাকেনা। এছাড়াও ফ্রি VPN এ IP জনিত সমস্যা থাকে যার কারনে সব মিলিয়ে ফ্রি ভিপিএন এর চাইতে পেইড ভিপিএন ভালো।

তো এই ছিলো VPN নিয়ে আমার কথা। আশাকরি পোষ্টটি আপনার কিছুটা হলেও উপকারে আসবে। কষ্টকরে পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

তথ্যসূত্র:
  • https://en.m.wikipedia.org/wiki/Virtual_private_netw
  • https://roar.media/bangla/tech/what-is-vpn-and-why
  • https://www.androidauthority.com/what-is-a-vpn-gary-explains-695574/